নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে ইডি হানা নিয়ে প্রথম থেকেই বিজেপির ষড়যন্ত্র দেখছে জোড়াফুল শিবির। এমনকি, সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে ‘তথ্য চুরির’ অভিযোগ এনেছে রাজ্যের শাসক দল। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অভিযান নিয়ে সুর আরও চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে তৃণমূলের ডিজিটাল কনক্লেভে অভিষেক বলেন, আইপ্যাকের ডিরেক্টর তিনজন। তাঁদের মধ্যে একজন কাজ করেন কলকাতায়। বাকি দু’জন কাজ করেন দেশের অন্য শহরে। কোনও বিষয়ে ইডি তদন্ত করতেই পারে। তদন্তটি আইপ্যাক সংক্রান্ত হলে ওই সংস্থার তিনজন ডিরেক্টরেরই বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত। শুধুমাত্র কলকাতানিবাসীর বাড়িতে ইডি অভিযান কেন? অভিষেকের দ্বিতীয় প্রশ্ন, যদি আইপ্যাক বাদ দিয়ে ব্যক্তি প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান হয়, তাহলে আইপ্যাকের অফিসে গিয়েছিল কেন ইডি? আর কেনই-বা হায়দরাবাদ ও দিল্লিতে আইপ্যাকের অফিসে ইডি গেল না? ফলে গোটা বিষয়টির মধ্যে যে অভিসন্ধি রয়েছে তা পরিষ্কার হচ্ছে। ওরা তদন্ত করতে আসেনি, এসেছিল তথ্য চুরি করতে।
ঘটনাচক্রে এটা সামনে এসেছে যে, পুরোনো একটি মামলার তদন্তে নেমে আইপ্যাকের অফিস এবং ওই সংস্থার কর্ণধারের বাড়িতে গিয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, তিনবছরের পুরোনো একটি মামলায় হঠাৎ করে বিধানসভা নির্বাচনের একমাস আগে ইডি’কে তদন্তে নামতে হল কেন? কেন তিনবছরে একটিও সমন ইডি পাঠাল না তারা?
ভোটের আগে বিজেপির কথায় ইডি, সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ফের সক্রিয় হতে দেখা গেল বলেই অভিযোগ করেছে তৃণমূল। এই প্রেক্ষিতে তাদের দাবি, ইডি-সিবিআই দিয়ে তৃণমূলকে দুর্বল করা যায়নি আর যাবেও না। আগের ভোটে ফোনে ‘পেগাসাস’ ঢুকিয়েছিল বিজেপি। তার জবাব তারা যথাসময়েই পেয়েছিল। আসন্ন বিধানসভা ভোটে তথ্য চুরির গণতান্ত্রিক জবাবও পাবে বিজেপি।



