Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘দরজা বন্ধ রাখবেন, নইলে খুন হয়ে যেতে পারেন’! ৩ দিন ডিজিটাল অ্যারেস্ট, উধাও ৪৯ লক্ষ

‘ভালোভাবে বাড়ির দরজা বন্ধ করুন। আপনি যে কোনো সময় খুন হয়ে যেতে পারেন। সাদাকাত খান আপনাকে যে কোনো সময় খুন করতে পারে।’

‘দরজা বন্ধ রাখবেন, নইলে খুন হয়ে যেতে পারেন’! ৩ দিন ডিজিটাল অ্যারেস্ট, উধাও ৪৯ লক্ষ
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘ভালোভাবে বাড়ির দরজা বন্ধ করুন। আপনি যে কোনো সময় খুন হয়ে যেতে পারেন। সাদাকাত খান আপনাকে যে কোনো সময় খুন করতে পারে।’ মুম্বই থেকে ফোনে জনৈক ‘সিবিআই অফিসার’-এর এমন সাবধানবাণী শুনে কার্যত ভয়ে সিঁটিয়ে যান স্টিল অথরিটি অব ইন্ডিয়া লিমিটেডের (সেইল) অবসরপ্রাপ্ত এক জেনারেল ম্যানেজার (জিএম)। তারপর টানা তিনদিন তিনি ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ হয়ে নিজেকে বাড়িতেই কার্যত বন্দি করে রাখেন। তাঁর নামে নাকি একাধিক অভিযোগ রয়েছে! আছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও! মামলা মেটানোর জন্য ভুয়ো সিবিআই অফিসার তাঁকে ৫০ লক্ষ টাকা পাঠাতে বলেন। তিনি ৪৯ লক্ষ টাকা পাঠিয়েও দেন ‘সিবিআই অফিসারের’ দেওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। পরে বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার। শনিবার তিনি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারিত ব্যক্তির বয়স প্রায় ৬৯ বছর। তিনি নিউটাউনে থাকেন। হোয়াটসঅ্যাপ কল করে প্রতারকরা নিজেদের সিবিআই অফিসার বলে পরিচয় দেয়। তারপর জানায়, মুম্বইয়ের একটি ব্যাংকে তাঁর অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেখানে প্রচুর বেআইনি লেনদেন হয়েছে। সাদাকাত খান নামে একজন সেই অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করছে। নারী পাচারের টাকাও ঢুকেছে সেখানে। সাদাকাত খানের কাছ থেকে তিনি টাকা নিয়েছেন বলেও দাবি করে তারা। এমনকি, তাঁর বিরুদ্ধে ইস্যু করা আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও দেখানো হবে বলে জানানো হয়। এরপর তাঁকে বলা হয়, ‘দরজা বন্ধ করে রাখুন। সাদাকাত আপনাকে খুন করে দিতে পারে।’

প্রতারিত ব্যক্তি পুলিশকে অভিযোগে জানিয়েছেন, গত ১৪ জানুয়ারি তাঁকে ফোন করে এই কথা বলা হয়। তারপর প্রায় তিনদিন অর্থাৎ ১৬ তারিখ পর্যন্ত তিনি ভয় পেয়ে বাড়িতেই ছিলেন। ১৬ তারিখ প্রতারকরা তাঁকে বলে, ‘আপনার জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। ২ ঘণ্টার মধ্যে ৫০ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দিন।’ ওই অবস্থায় ‘সেইল’-এর প্রাক্তন জিএম এতটাই ঘাবড়ে যান যে তিনি কারও সঙ্গে কোনও আলোচনা না করে ৪৯ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দেন প্রতারকদের দেওয়া অ্যাকাউন্টে।

কেন টাকা দিলেন? পুলিশকে অভিযোগকারী জানিয়েছেন, প্রতারকরা তাঁকে সম্মোহিত করে ফেলেছিল। তিনি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ ক্রমশ বাড়ছে। বেশিরভাগ প্রবীণরাই এর টার্গেট হচ্ছেন। তাই সচেতনতা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, ভারতের আইনে ডিজিটাল অ্যারেস্ট বলে কোনও গ্রেপ্তারির অস্তিত্বই নেই। তাই এই ধরনের ফোন পেলে সতর্ক হতে হবে। না হলে খোয়াতে হবে সর্বস্ব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ