ইন্দ্রজিৎ রায়, বোলপুর: আজ, শুক্রবার স্বাধীনতা দিবস। তারপর শনি ও রবিবার ছুটি। ফলে টানা তিনদিনের ছুটি উপভোগ করতে অধিকাংশ পর্যটক শান্তিনিকেতনকে বেছে নিয়েছেন। রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে এই মুহূর্তে শান্তিনিকেতন এবং সোনাঝুরি খোয়াইয়ের হাট অন্যতম আকর্ষণীয় ডেস্টিনেশন। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পর শান্তিনিকেতন ক্যাম্পাসে পর্যটকদের আগ্রহ বেড়েছে বহুগুণ। সেই আগ্রহের সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে শুরু হওয়া হেরিটেজ ওয়াক। গাইডদের তত্ত্বাবধানে রবীন্দ্রভবন, সঙ্গীত, কলাভবন সহ নানা ঐতিহাসিক স্থাপত্য ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়ে পর্যটকরা যেন নতুন করে শান্তিনিকেতনকে আবিষ্কার করছেন। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস সাধারণের জন্য বন্ধ থাকার পর হেরিটেজ ওয়াক ঘিরে বাড়তি উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
শান্তিনিকেতনে আসার মানে শুধু ক্যাম্পাস ভ্রমণ নয়, এর আশপাশে রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। স্নিগ্ধ কোপাই নদী, সতীপীঠ কঙ্কালীতলা, অজয় নদীর পাড়, ইলামবাজারের ঘন জঙ্গল, সংলগ্ন ফসিলস্ পার্ক, পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্রের সৃজনী শিল্পগ্রামে ঘোরার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ-সবই এখন ভ্রমণপিপাসুদের কাছে সমান জনপ্রিয়। এছাড়া আমার কুটির, বল্লভপুর জঙ্গল, প্রান্তিক স্টেশন প্রভৃতি নিরিবিলি জায়গাও প্রকৃতিপ্রেমীদের মন কাড়ে। শুক্রবার স্বাধীনতা দিবস হওয়ায় অনেকেই বৃহস্পতিবার ছুটি ম্যানেজ চলে এসেছেন। অনেকে আজ আসছেন। শান্তিনিকেতন ঘোরার পাশাপাশি তারাপীঠে গিয়ে মা তারার পুজো দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে অনেকের। বিশেষত যাঁরা কৌশিকী অমাবস্যার ভিড় এড়িয়ে নিরিবিলি পরিবেশে পুজো দিতে চান, তাঁদের কাছে এই সময়টা হয়ে উঠেছে একদম উপযুক্ত। অধিকাংশ পর্যটকরাই এই পরিকল্পনা করেছেন বলে জানিয়েছেন হোটেল মালিকরা।
বোলপুর হোটেল মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রসেনজিৎ চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে তিনদিনের ছুটিতে ইতিমধ্যেই প্রায় সব জনপ্রিয় হোটেল ও হোমস্টেতে বুকিং শুরু হয়েছে। শুধু কলকাতা নয়, দুর্গাপুর, আসানসোল, বর্ধমান, সিউড়ি, এমনকী, ঝাড়খণ্ডের দিক থেকেও প্রচুর বুকিং আসছে। তাঁর কথায়, প্রতি বছর আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পর্যটকের চাপ বাড়ে, কিন্তু এবার আগেভাগে অনেক বুকিং হয়েছে। হেরিটেজ ওয়াক, সোনাঝুরি হাট ও বর্ষার সবুজে ভরা শান্তিনিকেতনের সৌন্দর্য পর্যটকদের বিশেষভাবে টানছে।
কলকাতার পর্যটক সোহিনী মুখোপাধ্যায় বলেন, অফিসের যা চাপ ঘোরার সেভাবে সময় হয় না। তাই এবার স্বাধীনতা দিবসে টানা তিনদিন ছুটি কাটাতে শান্তিনিকেতনকে বেছে নিয়েছি। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ ছিল। তাই হেরিটেজ ওয়াকের মাধ্যমে ঘুরে দেখব। রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির সরাসরি অনুভব করার এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাই না। আসানসোলের বাসিন্দা অরিন্দম সাহা বলেন, বহুবার শান্তিনিকেতন গিয়েছি। কিন্তু এবার অন্য পরিকল্পনা রয়েছে। হেরিটেজ ওয়াকের পাশাপাশি সোনাঝুরি হাট, কোপাই নদীর ধারে সময় কাটানো, কঙ্কালীতলায় পুজো দেব। এবার সফরটা একটু অন্যরকম হোক। দীর্ঘদিন কাজের পর আশা করি স্বাধীনতা দিবসের আবহে এই ভ্রমণ অন্য রকম অনুভূতি দেবে। সব মিলিয়ে স্বাধীনতা দিবসের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে বোলপুর-শান্তিনিকেতন পর্যটনের এক উৎসবমুখর মরশুমের মুখোমুখি হতে চলেছে। আগাম হোটেল বুকিংয়ের ঢল, নানান সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানের আয়োজন ও বর্ষার রঙে রাঙানো প্রকৃতি সব মিলিয়ে আগামী সপ্তাহান্তে বিশ্বকবির এই প্রান্তরে মেতে উঠবেন পর্যটকরা।