Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোলের সন্তানকে ছিনিয়ে বধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

নদীয়ার কালীগঞ্জে গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কী ঘটেছিল? বিস্তারিত পড়ুন।

কোলের সন্তানকে ছিনিয়ে বধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩
  • ২৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: শাশুড়ির সঙ্গে বিরিয়ানি খাওয়া নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল। অভিমান করে দু’বছরের সন্তানকে নিয়ে বাপেরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন গৃহবধূ। তখন বুঝতে পারেননি কী বিপদ তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে। নির্জন রাস্তায় একা পেয়ে কোলের সন্তানকে ছিনিয়ে নিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। নদীয়ার কালীগঞ্জ থানা এলাকার ওই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে। অভিযোগ দায়ের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিন অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম সেরফুল শেখ, উসমান শেখ ও জাইনুদ্দিন সেখ। তিনজনেরই বাড়ি পলাশীপাড়া থানার বড়েয়া এলাকায়। শুক্রবার ধৃতদের কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের পাঁচ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।

Advertisement

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা স্বামী ও শাশুড়ির সঙ্গে একই বাড়িতে থাকলেও তাঁদের আলাদা সংসার। গত ১৫ জুলাই শাশুড়ি বিরিয়ানি রান্না করেছিলেন। অভিযোগ, গৃহবধূ সেই বিরিয়ানি খেতে অস্বীকার করেন এবং পরে তা ফেলে দেন। পরদিন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাশুড়ি ও বধূর মধ্যে তুমুল অশান্তি হয়। এরপরই তিনি মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অভিযোগ, ১৬ জুলাই গভীর রাতে দু’বছরের সন্তানকে নিয়ে এক প্রতিবেশীর টোটোয় রেল স্টেশনের উদ্দেশে বধূ রওনা দেন। সেখান থেকে ট্রেনে সাগরদিঘি যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পথে একটি নির্জন স্থানে টোটোচালক ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার অজুহাতে গাড়ি থামায়। এরপর ফোন করে কয়েকজনকে ডেকে আনে বলে অভিযোগ। কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েকজন সেখানে এসে গৃহবধূর কোল থেকে শিশুকে ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাঁর হাত ও মুখ বেঁধে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। পরে তাঁকে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
নির্যাতিতা কোনো রকমে সেখান থেকে স্থানীয় একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরদিন সকালে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে কালীগঞ্জ রেল স্টেশন থেকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যান। বধূর অভিযোগ, ঘটনার কথা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। সেই আতঙ্কেই এতদিন তিনি মুখ খোলেননি। ২৩ জুলাই রাতে স্বামীর কাছে তিনি সেদিন রাতের ঘটনার কথা জানান। এরপর প্রথমে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি পলাশীপাড়া থানা হয়ে কালীগঞ্জ থানায় স্থানান্তরিত হয়। অভিযোগ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিন অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। নির্যাতিতার স্বামী বলেন, ভয়ে স্ত্রী আমাকে কিছু বলতে চাইছিল না। পরে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানতে পারি, ঘটনার রাতে সে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। বারবার জিজ্ঞাসা করার পর স্ত্রী সব ঘটনা খুলে বলে। তার আগে শুধু বলছিল, পরিবারের ভালোর জন্য সে বাপেরবাড়ি চলে যেতে চায়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ