নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: খাসজমিতে বসবাসকারী এক দুঃস্থ পরিবারকে উৎখাতের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল ক্লাবের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সাতদিনের মধ্যে উঠে না গেলে ক্লাবের ঝান্ডা পুঁতে ওই জায়গার দখল নেওয়া হবে বলে শাসিয়ে গিয়েছে দলবল। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পরিবারটি জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার দ্বারস্থ হয়েছে। ঘটনায় তিনজনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে তারা। জলপাইগুড়ি শহরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বিলপাড়া এলাকার এ ঘটনায় অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিস তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিস সুপার খণ্ডবাহালে উমেশ গণপত।
যদিও ক্লাবের তরফে নবীন চৌধুরীর দাবি, ওই পরিবারটিকে মোটেই হুমকি দেওয়া হয়নি। খাসজমিতে বসবাস করা নিয়ে আগেও সমস্যা হয়েছিল। সেসময় পরিবারটি আমাদের ক্লাবের দ্বারস্থ হয়। ওই পরিবার যাতে সেখানে বসবাস করতে পারে, সে ব্যাপারে উদ্যোগী হয় ক্লাব। এরপর ওই পরিবার স্বেচ্ছায় জানায়, ক্লাবের মন্দিরের ছাদের জন্য যে খরচ লাগবে, তা দেবে তারা। এখন ওই টাকা দিতে পারবে না বলে জানাচ্ছে পরিবারটি। তাহলে কেন তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল? সেটাই বলা হয়েছে তাদের।
ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তারকনাথ দাস বলেন, শুনেছি, একটি ক্লাবের কিছু ছেলে নাকি কোনও এক পরিবারকে হুমকি দিয়েছে। এনিয়ে আমাকে অবশ্য ওই পরিবার কিছু জানায়নি। পরিবারটি যদি থানায় অভিযোগ দায়ের করে থাকে, তাহলে পুলিস বিষয়টি দেখবে। তাঁর দাবি, শুনেছি, ওই পরিবার যেখানে বাস করে, আগে সেই জায়গা অন্য একজনের দখলে ছিল। তিনি এই পরিবারকে থাকতে দেন।
একচিলতে জমিতে টিন দিয়ে তৈরি ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে চা বিক্রেতা লিটন মণ্ডল বলেন, জায়গাটি খাস। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বাস করছি। হঠাৎ করে বুধবার দুপুরে এলাকার একটি ক্লাবের কয়েকজন এসে বলেন, তাঁরা মন্দির তৈরি করছেন। ওই মন্দিরের ছাদ বানানোর টাকা দিতে হবে আমাদের। যদি ওই টাকা আমরা দিতে না পারি, তাহলে সাতদিনের মধ্যে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। নতুবা ক্লাবের ঝান্ডা পুঁতে ওই জায়গার দখল নেবেন তারা। লিটনের স্ত্রী শম্পা মণ্ডল বলেন, ক্লাবের সঙ্গে এক প্রতিবেশীও আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। আসলে তিনি কাছেই জমি কিনেছেন। আমাদের তুলে দিতে পারলে পুরো জায়গাটিই তাদের হয়ে যাবে। আমরা তিনজনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। তাঁর দাবি, বাড়িতে এসে ক্লাবের লোকজন হুমকি দিয়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড আতঙ্কে রয়েছি। এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ভয়ে তাদের অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দিয়েছি।