Bartaman Logo
১১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘থ্রেট কালচার’ উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে! সরব ইন্টার্নরা

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখনও ‘থ্রেট কালচার’ জিইয়ে রয়েছে। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার বা পিজিটি’দের হুমকিতে টানা ১২-১৪ ঘণ্টা রোগী দেখার কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন ইন্টার্নরা।

‘থ্রেট কালচার’ উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে! সরব ইন্টার্নরা
  • ১১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখনও ‘থ্রেট কালচার’ জিইয়ে রয়েছে। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার বা পিজিটি’দের হুমকিতে টানা ১২-১৪ ঘণ্টা রোগী দেখার কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন ইন্টার্নরা। দীর্ঘ ডিউটি নিয়ে প্রশ্ন তুললে ইন্টার্নদের ‘ইন্টার্নশিপ বাড়িয়ে দেওয়া’ এবং ‘স্থায়ী রেজিস্ট্রেশনে বিলম্ব’ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। জুনিয়র পিজিটি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্তৃপক্ষের একাংশ এই ধরনের চাপ তৈরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

Advertisement

মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ সুজয় মিস্ত্রি এমন অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এ ধরনের অভিযোগে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল মেডিকেল কাউন্সিলের অনেক নির্দেশিকা কার্যকর না করার অভিযোগও সামনে এসেছে। এই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন ইন্টার্ন ও চিকিৎসকদের একাংশ। 
তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন বিভাগে নিয়মিত ফ্যাকাল্টি বা সিনিয়র কনসালট্যান্টদের রাউন্ড হচ্ছে না। ফলে সিনিয়র চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান ছাড়াই ওয়ার্ড ও অপারেশন থিয়েটারের কাজ পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সার্জারি, ইএনটি, অর্থোপেডিক, চক্ষু সহ একাধিক বিভাগে ইন্টার্নদের প্রতিদিন ১২-১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও টানা ৪৮-৫২ ঘণ্টা পর্যন্ত ডিউটি করানোর অভিযোগও উঠেছে। তাঁদের দাবি, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রিপোর্ট করার পরেও রাত ২টো পর্যন্ত হাসপাতালে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাত ১১টায় পিজিটি রাউন্ড শুরু হওয়ার কারণে ইন্টার্নদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। 
এই পরিস্থিতিতে ঘুমের ঘাটতি, মানসিক চাপ এবং ক্লান্তির পাশাপাশি ইন্টার্নদের পড়াশোনাতেও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ। আরও গুরুতর অভিযোগ, প্রথম বর্ষের পিজিটিদের দিয়ে ইন্টার্নদের নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সিনিয়র চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে রোগী পরিষেবার বড়ো অংশ দ্বিতীয় বর্ষের পিজিটিদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তাঁদের বক্তব্য, এই ব্যবস্থায় রোগী পরিষেবার মান ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। 
এদিকে, ২০২০ ব্যাচের কয়েকজন ইন্টার্ন এখনও পশ্চিমবঙ্গ মেডিকেল কাউন্সিলের স্থায়ী রেজিস্ট্রেশনের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও অভিযোগ। এর ফলে পেশাগত ও আর্থিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা। 
ঘটনাটি নিয়ে স্বাস্থ্যভবন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত অভিযোগ ও তথ্য পাঠানো হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের। তাঁদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে এনএমসি’র নিয়ম মেনে ডিউটি ব্যবস্থা চালু, সিনিয়র চিকিৎসকদের নিয়মিত তত্ত্বাবধান এবং রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করা হোক। 
এ বিষয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল বলেন, ইন্টার্নদের একাংশের কাছ থেকে এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। আমি সদ্য প্রিন্সিপালের দায়িত্ব নিয়েছি। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। তবে প্রথমবর্ষের পিজিটিরা তাঁদের সময়মতো কাজ করছেন। সিনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ এখনও কলকাতামুখী হয়ে রয়েছেন। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ