নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বিস্কুটের গোডাউনে মজুত ছিল হাজার হাজার বালতি। বর্জ্য সংগ্রহের জন্য হাওড়া পুরসভার তরফে এই বালতিগুলি বাড়ি বাড়ি বণ্টনের কথা ছিল। শুক্রবার হাওড়ার নিত্যধন মুখার্জি রোডের একটি বেসরকারি সংস্থার গোডাউনে অভিযান চালিয়ে প্রায় দশ হাজার বালতি বাজেয়াপ্ত করেছে হাওড়া থানার পুলিশ। একইসঙ্গে গোডাউনের কেয়ারটেকার তথা ব্যবসায়ী সুরেন্দ্রকুমার সিংকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। কীভাবে এত সরকারি বালতি ওই গোডাউনে এল, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদাভাবে সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ‘মিশন নির্মল বাংলা’ প্রকল্পের আওতায় হাওড়া পুরসভা এলাকায় বাড়ি বাড়ি দু’টি ভিন্ন রঙের বালতি দেওয়া হয়েছিল। সবুজ বালতিতে পচনশীল এবং নীল বালতিতে অপচনশীল বর্জ্য ফেলার কথা ছিল। পুরসভার সাফাইকর্মীরা বাড়ি থেকে সেই বর্জ্য সংগ্রহ করতেন। অভিযোগ, এই বালতিগুলি মধ্য হাওড়ার বাসিন্দাদের হাতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তার বড়ো অংশই পড়েছিল নিত্যধন মুখার্জি রোডের ওই গোডাউনে। গোডাউনের মালিক সুরেন্দ্র কুমার সিংয়ের দাবি, প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার শৈলেশ রাই বাসিন্দাদের মধ্যে বিলি করবেন বলে বালতিগুলি সেখানে রেখেছিলেন। তাঁর কথায়, ‘প্রায় ৯ মাস ধরে বালতিগুলি গোডাউনেই পড়ে রয়েছে। আমি পুরসভাকে বালতিগুলি ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু পুরসভা নিয়ে যায়নি।’
এদিন পুলিশি অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিজেপি নেতা-কর্মীরা। বিজেপি নেতা অম্বুজ শর্মার অভিযোগ, সাধারণ মানুষের টাকায় কেনা পুরসভার বালতি বাসিন্দাদের না দিয়ে বিক্রির জন্য মজুত করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে বাজেয়াপ্ত বালতিগুলি পুরসভার হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। পুলিশ সূত্রে খবর, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল প্রাক্তন কাউন্সিলার শৈলেশ রাই। পরবর্তীতে জামিন পান তিনি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এদিন তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



