শ্যামলেন্দু গোস্বামী, হিঙ্গলগঞ্জ: সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে এ দেশে প্রবেশ করলে রেয়াত নয়। যে পথে অনুপ্রবেশ, সেই পথেই ফেরত পাঠানো হবে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দাঁড়িয়ে অনুপ্রবেশের প্রশ্নে এমনই কড়া অবস্থানের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু অনুপ্রবেশ রোখাই নয়, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানদের কাজের স্বীকৃতি দিতেও বিশেষ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করলেন তিনি। ২০২৭ সাল থেকে বিএসএফের জন্য চালু হবে ‘সীমামিত্র সম্মান’। রবিবার দীপাবলিতে বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জে বিএসএফের ৭৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের ক্যাম্পে গিয়ে সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম দীপাবলিতে সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে দিনটি পালন করলেন শুভেন্দু। হিঙ্গলগঞ্জে বিএসএফ ক্যাম্পে গিয়ে জওয়ানদের সঙ্গে প্রদীপ জ্বালান তিনি। ফুল ও মিষ্টি দিয়ে তাঁদের দীপাবলির শুভেচ্ছা জানান। পরিবারের কাছ থেকে দূরে থেকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যাঁরা দেশের সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন, তাঁদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। সেই সঙ্গে জলপথে সীমান্ত পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিএসএফের প্রতি পূর্বতন সরকারের ‘আচরণ’এর জন্য ক্ষমাও চেয়ে নেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পূর্বতন সরকারের দুষ্কর্মের জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। বর্তমান সরকার বিএসএফের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই কাজ করবে। এদিন জওয়ানদের কাজের স্বীকৃতিতে ‘সীমামিত্র সম্মান’ চালুর ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুপ্রবেশ রোখার প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকলক্ষ বাংলাদেশিকে সীমান্ত এলাকা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে যাঁরা এ দেশে ঢুকেছেন, তাঁদের যে পথ দিয়ে প্রবেশ, সেই পথ দিয়েই ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। পাশাপাশি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করার ক্ষেত্রেও জমি সমস্যার কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু। জমি সংক্রান্ত জট কাটিয়ে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলার আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা পরিকাঠামো আরও মজবুত করতে নতুন থানা তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে মাদক পাচার ও নেশার বিরুদ্ধে লড়াইয়েও বিএসএফের ভূমিকার প্রশংসা করেন শুভেন্দু।
বিএসএফের কর্মসূচির পর মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছন হিঙ্গলগঞ্জ থানায়। সেখানে তাঁকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। এরপরে হিঙ্গলগঞ্জ থানার উদ্যোগে কালীপুজোর ফিতে কেটে কেটে উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সফরসঙ্গী হিসাবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা।



