সংবাদদাতা শান্তিনিকেতন: একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠছে কীর্ণাহার থানার ওসি শেখ আশরাফুলের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ব্রাহ্মণপাড়ার বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। সেই বিষয়ে ওই ব্যক্তির স্ত্রী ‘দিদিকে বলো’তে অভিযোগ দায়ের করেন। তারপরই নড়েচড়ে বসে বীরভূম পুলিস প্রশাসন। এমনকী নবান্ন থেকে ওসির বিরুদ্ধে তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে বলে জানা গিয়েছে বীরভূম জেলা পুলিস সূত্রে। এই ঘটনার মধ্যে আরও দু’জন ওই ওসির বিরুদ্ধে তাঁদের থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে মানসিক নির্যাতন ও জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁরা ইতিমধ্যেই বীরভূম জেলা পুলিস সুপার ও বোলপুর মহকুমা পুলিস আধিকারিকের কাছে সেই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন।
Advertisement
কীর্ণাহারের দীঘলডাঙার বাসিন্দা সোমা দাসের সঙ্গে তাঁর প্রতিবেশীর অশান্তির কারণে গত ২৬ অক্টোবর হঠাৎ পুলিস এসে ৭০ বছরের ওই বৃদ্ধকে থানায় তুলে নিয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ অভুক্ত অবস্থায় তাঁকে বসিয়ে রাখা হয়। অভিযোগ, তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য মোটা টাকার দাবি করে পুলিস। তা না হলে তাঁকে জেলে ঢোকানোর হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তারপরে তাঁর থেকে দুই হাজার টাকা ও পরে আরও ২০০ টাকা নিয়ে তবেই তাঁকে বাড়ি যেতে দেওয়া হয়। তারপরই সোমা দাস ও তাঁর স্ত্রী ছবি দাস পুলিস ও তাঁর প্রতিবেশীর অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে জেলা পুলিস সুপারের দ্বারস্থ হন। অন্যদিকে কীর্ণাহারের পোষলাগ্রামের বাসিন্দা শেখ সানারুল ওরফে সামরুল সংশ্লিষ্ট থানার ওসি শেখ আশরাফুলের বিরুদ্ধে বোলপুর মহকুমা পুলিস আধিকারিকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, গত মাসের ১৪ তারিখ তাঁকে ও তাঁর এক পরিচিতকে থানায় তুলে নিয়ে আসে পুলিস। মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তিন লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। তাঁর দাবি, সেই ভয়ে কোনওরকমে পুরো টাকা দেওয়ার পর তাঁদের দুইজনকে ছাড়ে পুলিস। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিস কর্তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তাঁদের প্রতিক্রিয়া মেলেনি। কোনও মন্তব্য করতে চাননি কীর্ণাহার থানার ওসিও।



