নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: পানীয় জল প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে এসে ঠিকাদার সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। উদাসীন সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। শুক্রবার বাঁকুড়ার সার্কিট হাউসে সেচমন্ত্রী জেলার ২২টি ব্লকের পানীয় জল প্রকল্পের কাজের পর্যালোচনা বৈঠক করেন। বৈঠকে বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী, জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনুসূয়া রায়, জেলাশাসক সিয়াদ এন, পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মানসবাবু জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের আধিকারিকদের একাংশের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রুখাশুখা বাঁকুড়ায় ভূগর্ভস্থ পানীয় জলেরস্তর অনেক নীচে রয়েছে বলে বৈঠকে জেলাশাসক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওইসময় সাংসদ গন্ধেশ্বরী-দ্বারকেশ্বর প্রকল্পের আওতায় জেলায় তিনটি নদীবাঁধ তৈরি করে জল আটকে রাখার প্রস্তাব মন্ত্রীকে দেন। মানসাবাবু জেলাশাসককে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
Advertisement
জেলায় জেলায় জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের পানীয় জল সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে সম্প্রতি একটি মন্ত্রিগোষ্ঠী তৈরি করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই গ্রুপ অব মিনিস্টারসের অন্যতম সদস্য মানসবাবু। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, সংযোগ দেওয়ার পরেও বাঁকুড়ার ৩০ শতাংশ বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছয়নি। তার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। সবসময় একটি সংস্থাই পানীয় জলের পাইপ লাইন পাতা, ট্যাপ লাগানো সহ সব কাজ করে না। আর কিছু জায়গায় জমি অসমতল থাকার জন্য জল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। তবে আমরা এদিনের বৈঠকে বেশ কিছু ঠিকাদারি সংস্থার বিরুদ্ধে ঢিমেতালে কাজ করার অভিযোগ পেয়েছি। বেশ কিছু কাজ আগেই হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, তা সময়ে শেষ করা হয়নি। বরাত পাওয়ার পর বড় সংস্থাগুলি অনভিজ্ঞ ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে। তারফলে কাজে শ্লথগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটা বরদাস্ত করা যাবে না। আজ, শনিবার থেকেই আধিকারিকদের ময়দানে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইঞ্জিনিয়াররা প্রকল্প এলাকায় গিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট সংগ্রহ করবেন। ফাঁকিবাজ ঠিকাদার সংস্থাকে প্রথমে শোকজ করা হবে। তাতে সন্তুষ্ট না হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, জেলায় পাইপ ফুটো করে জল চুরির অভিযোগে ৩৩৯টি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। পুলিস দ্রুততার সঙ্গে ওইসব অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। জমিজটের কারণে বেশ কিছু জায়গায় জলজীবন মিশনের কাজে বিঘ্ন ঘটছিল। সেইসব সমস্যারও সমাধান হয়ে গিয়েছে। অরূপবাবু বলেন, বাঁকুড়ার মাটিতে পাথর ও মোরাম বেশি থাকায় জলস্তর অনেক নীচে রয়েছে। গন্ধেশ্বরী-দ্বারকেশ্বর প্রকল্পের আওতায় তিনটি বাঁধ তৈরি করে বর্ষার জলকে আটকে রাখতে পারলে আশপাশের এলাকায় ভূগর্ভস্থ জলস্তর অনেকটা উপরে উঠবে। সেই প্রস্তাব এদিন আমি মন্ত্রীকে দিয়েছি। তিনি বিষয়টি দেখার জন্য জেলাশাসককে বলেছেন। বাঁকুড়া-২ নম্বর ব্লকের শালবনী ডোমপাড়া, আদিবাসী পাড়া, ভেদুয়া গ্রামের বাউরি পাড়া, পাঁচবাগা বিষ্ণুমন্দির পাড়া, রাইপুরের মণ্ডলকুলি, মেজিয়ার ভরা গ্রাম, সিমলাপালের লক্ষ্মীসাগর সহ জেলার বহু জায়গায় পানীয় জল পৌঁছচ্ছে না। এব্যাপারেও এদিন মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। মানসবাবু বিষয়টি দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন।



