শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: গুজরাতের মন্দির-স্থাপত্যের আদল এবার বারাসতের কালীপুজোয়। ৬৭তম বর্ষে কেএনসি রেজিমেন্ট ক্লাবের পুজোর থিম ‘ব্যাপস স্বামীনারায়ণ মন্দির’। প্রায় ৬০ ফুট উঁচু এবং ৯০ ফুট চওড়া মণ্ডপে তুলে ধরা হবে মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী। পুজোর বাজেট প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা।
গুজরাতের গান্ধীনগরে অবস্থিত স্বামীনারায়ণ অক্ষরধাম মন্দির ব্যাপসের অন্যতম পরিচিত স্থাপত্য। ১৯৯২ সালে উদ্বোধন হওয়া এই মন্দিরের উচ্চতা ১০৮ ফুট। দৈর্ঘ্য ২৪০ ফুট এবং প্রস্থ ১৩১ ফুট। গোলাপি বেলেপাথরে তৈরি মন্দিরে রয়েছে ৯৭টি কারুকার্যখচিত স্তম্ভ, ১৭টি অলংকৃত গম্বুজ এবং ২৫৬টি মূর্তি। প্রাচীন ভারতীয় স্থাপত্যশাস্ত্রের নির্দেশ মেনে তৈরি এই মন্দিরের বিশেষত্ব সূক্ষ্ম পাথরের খোদাই ও স্থাপত্যের নিখুঁত বিন্যাস। নির্মাণে লোহা বা ইস্পাত ব্যবহার না করার বিষয়টিও মন্দিরটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আর সেই স্থাপত্যের শিল্প সৌন্দর্যকেই পুজোর মণ্ডপে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে বারাসতের এই ক্লাব। মন্দিরের শিখর, স্তম্ভ ও অলংকরণের আদল ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফাইবার ও প্লাইসহ অনান্য সামগ্রী। বিশ্বকর্মা পুজোর পরের দিন খুঁটিপুজোর মাধ্যমে শুরু হয়েছে নির্মাণকাজ।
মণ্ডপ তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন দত্তপুকুরের শিল্পী অনিমেষ পাল ও সুকুমার পাল। প্রতিমা তৈরি করছেন কৃষ্ণনগরের শিল্পী রাজু পাল। মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনের ব্যবস্থাতেও থাকছে বিশেষ পরিকল্পনা। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে ঠাকুর দেখতে হবে দর্শনার্থীদের। প্রতিমা দর্শনের পরে প্রায় ১৬ ফুটের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে হবে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে থাকছে দুটি বেরোনোর পথ। একসঙ্গে ৫০ জনের বেশি দর্শনার্থীকে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে দেওয়া হবে না। ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সুষ্ঠুভাবে দর্শন নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।
এদিকে আলোকসজ্জাতেও থাকছে বিশেষ আকর্ষণ। কেএনসি রোড জুড়ে সাজানো হবে আলোয়। পুজোর কয়েকদিন আগে থেকেই আলোকসজ্জা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এনিয়ে পুজো কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা প্রীতম সিনহা বলেন, প্রতিবছর আমাদের পুজো উপলক্ষ্যে নানা অনুষ্ঠান হয়। এবারও তাই হবে। এবার চোরবাগানের কথা ভেবে মানুষের সুরক্ষার স্বার্থে বেশ কিছু ভবনা কাটছাঁট করা হয়েছে। পুজোর অনুষ্ঠান ও আয়োজনের কয়েকটি ক্ষেত্রে রাশ টানা হয়েছে। উদ্বোধনে কোনো তারকা, মন্ত্রী বা সাংসদ উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনো চূড়ান্ত নয়। অন্যদিকে শিল্পী অনিমেষ পাল বলেন, জোরকদমে কাজ চলছে। এই মণ্ডপে এলে মানুষ গুজরাতের স্বামীনারায়ণ মন্দির দেখতে পাবেন। থাকছে সামঞ্জস্যপূর্ণ আলোকসজ্জাও। তবে, আবহাওয়া খারাপ হলে কাজ শেষ করা নিয়ে চিন্তা আছে।



