Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এবছর কোচবিহারের রাসমেলায় একসঙ্গে ১৬টি উনুনে ভাজা হবে ভেটাগুড়ির জিলিপি

আগামী ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে কোচবিহার রাজ আমলের ঐতিহ্যবাহী রাসমেলা। এই রাসমেলা এবার ২১৩ বছরে পড়তে চলেছে।

এবছর কোচবিহারের রাসমেলায় একসঙ্গে ১৬টি উনুনে ভাজা হবে ভেটাগুড়ির জিলিপি
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজীব বর্মন, দেওয়ানহাট: আগামী ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে কোচবিহার রাজ আমলের ঐতিহ্যবাহী রাসমেলা। এই রাসমেলা এবার ২১৩ বছরে পড়তে চলেছে। মেলায় এসেছেন অথচ ভেটাগুড়ির বিখ্যাত জিলিপি মুখে তোলেননি এমন মানুষ প্রায় নেই বললেই চলে। আমজনতা থেকে প্রশাসনিক কর্তা, জনপ্রতিনিধিরাও মুখিয়ে থাকেন সেই মুচমুচে জিলিপি খেতে। মেলায় ভেটাগুড়ির জিলিপির পাশাপাশি বাবুরহাটের জিলিপি,পুণ্ডিবাড়ির জিলিপি, দেওয়ানহাটের জিলিপি হরেক এলাকার নাম নিয়ে জিলিপি বিক্রেতারা একে অপরের সঙ্গে টক্কর দেন। তবে মেলার আসা লোকজনের কাছে ভেটাগুড়ির জিলিপির বিশেষ কদর রয়েছে। সেজন্য মেলায় ভেটাগুড়ির জিলিপির দোকানের সামনে রীতিমতো লাইন দিয়ে দীর্ঘক্ষণ সময় দাঁড়ানোর পর মেলে সেই মুচমুচে রসালো জিলিপি। এবার একসঙ্গে ১৬টি উনুনে ভাজা হবে জিলিপি।  

Advertisement

মেলার শুরুতে প্রতিদিন ৮-৯ কুইন্টাল জিলিপি বিক্রি হলেও শেষের দিকে প্রতিদিন ২৫-২৭ কুইন্টাল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এ বছরও রাসমেলার বিখ্যাত জনপ্রিয় ‘ভেটাগুড়ির জিলিপি’র পসরা দিতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন জিলিপি ব্যাবসায়ী। ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদার কথা মাথায় রেখে গতবছরের থেকে আরও বেশি সংখ্যায় উনুনে ভাজা হবে সুস্বাদু জিলিপি। গতবার মেলায় ১৪টি উনুন ছিল। এবছর দু’টি বাড়িয়ে ১৬টি উনুনে ভাজা হবে জিলিপি। প্রায় ৪৫ জন কর্মী এ বছর দোকানে থাকবেন। ইতিমধ্যেই মাটি, ইট, লোহার রড দিয়ে বিশাল বিশাল উনুন তৈরি করার কাজও প্রায় শেষ করে ফেলেছেন তাঁরা। 
কয়েক পুরুষ ধরে বিশেষ রেসিপিতে তৈরি জিলিপির দোকান করে আসছে ভেটাগুড়ির নন্দী পরিবার। এখন পরিবারের সদস্যরা সবাই অন্য পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বংশ পরম্পরায় চলে আসা সেই রীতিকে ধরে আজও কোচবিহার রাসমেলায় জিলিপির দোকান দিয়ে আসছেন পরিবারের সদস্যরা। ভেটাগুড়ির জিলিপি ব্যবসায়ী অসিত নন্দী বলেন, অন্যান্য বছরের থেকে এ বছর মেলা আরও বড় আকারে হচ্ছে। আশা করছি, এবার চাহিদা আরও বাড়বে। সেজন্য আগে থেকে সব প্রস্তুতি সেরে রাখছি। এ বছর উনানের সংখ্যা বাড়িয়ে ১৬টি করা হয়েছে। একসঙ্গে ওই ১৬টি উনুনেই জিলিপি ভাজা হবে। 
প্রসঙ্গত, দিনহাটা মহকুমার ভেটাগুড়িতে ১৮১২ সালের কার্তিক পূর্ণিমার দিন কোচবিহারের রাজা হরেন্দ্রনারায়ণ রাজধানী স্থাপন করেন। বেশ কয়েক বছর ভেটাগুড়িতে কোচবিহার রাজার রাজধানী ছিল। সেসময় থেকে ভেটগুড়িতে রাসমেলা প্রথম শুরু হয়। তারপর ১৮৯০ সালে কোচবিহার শহরের বৈরাগী দীঘির পাশে মদনমোহন মন্দির প্রতিষ্ঠার কাজ শেষ হলে সেই রাসমেলা ভেটাগুড়ি থেকে কোচবিহার শহরেই স্থানান্তরিত হয়।  জিলিপি ভাজার জন্য তৈরি হচ্ছে উনুন। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ