নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: এবার আম চাষের একেবারে ‘লক্ষ্মী’ মরশুম। ব্যাপক ফলনের কারণে চাষিদের মুখে চওড়া হাসি। হিসেব বলছে, এবছর নদীয়া জেলাজুড়ে প্রায় ৬৭হাজার মেট্রিক টন আমের ফলন হয়েছে। ফলে, দীর্ঘ প্রায় দুই মরশুম পরে মোটা লাভের মুখ দেখছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
নদীয়া জেলার ১৮টি ব্লকেই কমবেশি আমের চাষ হয়। তবে, রানাঘাট-১ ও ২, শান্তিপুর, হাঁসখালি ব্লকে চাষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। হিমসাগরের ব্যাপক চাষের পাশাপাশি গোলাপখাস, ল্যাংড়া, চ্যাটার্জি, আম্রপালি, চৌসার মতো প্রজাতিগুলিরও ভালো ফলন হয়। জেলার আম রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে যায়। যদিও গত মরশুমে বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ধাক্কা খায়। আবহাওয়ার কারণে মোটেও ভালো যায়নি আমের বাজার। যার মূল কারণ, ফলনে ব্যাপক ঘাটতি। প্রায় ৫০শতাংশ আমের মুকুল কমে গিয়েছিল। তবে, বছর ঘুরতেই হাসি ফুটেছে চাষি থেকে আম ব্যবসায়ীদের মুখে। জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের হিসেব বলছে, ছ’হাজার হেক্টর জমিতে এবার আমের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া উপযুক্ত থাকায় নামমাত্র মুকুলের ক্ষতি হয়েছে। অর্থাৎ, ফলন হয়েছে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি। মে মাসের শেষ পর্যন্ত হিসেব বলছে, নদীয়া জেলাজুড়ে মোট আমের ফলন হয়েছে ৬৭ হাজার মেট্রিক টন। যা কত বছরের প্রায় দ্বিগুণ। যে কারণে বাজারে ২৫-৩৫টাকার মধ্যেই ঘোরাফেরা করেছে আমের দাম। জামাইষষ্ঠীর বাজারে গত কয়েক মরশুমে বাজারে আমের যথেষ্ট টান ছিল। সেখানে চলতি বছর ফুলিয়া, রানাঘাট, কৃষ্ণগঞ্জ, চাকদহ, কল্যাণী, হরিণঘাটার বাজারগুলিতে আমের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
রানাঘাট-২ ব্লকের আম চাষি বরুণ বিশ্বাস বলেন, গত বছর ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছিল। প্রচুর মুকুল নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। খরচ ও লভ্যাংশের মধ্যে খুব একটা ফারাক ছিল না। তবে চলতি বছর আমরা সেই ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে নিতে পেরেছি। শুধুমাত্র নদীয়া নয়, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা, দক্ষিণ ২৪পরগনা, হাওড়া এবং হুগলিতে আম রপ্তানি করা গিয়েছে।
জেলার উদ্যান পালন দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর ঋষিকেশ খাঁড়া বলেন, নদীয়ার দক্ষিণাংশে আমের ফলন মূলত বেশি হয়। এবছর আমের ব্যাপক ফলন হয়েছে। আমরা চাষিদের সবরকম সহযোগিতা করেছি। নদীয়া জেলা থেকে আম বিভিন্ন বাজারে গিয়েছে। তবে, বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে হিমসাগরের চাষ সব থেকে বেশি হয়েছে। আমের মানও এবার যথেষ্ট ভালো হয়েছে। ফলে, চাষিরা বাজারে ভালো দাম পেয়েছেন। পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী জোগানও দেওয়া গিয়েছে।