সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: উমাকে বরণ করতে প্রস্তুত হচ্ছে নবদ্বীপের মহিলা পরিচালিত ঐশানী দুর্গাপুজো কমিটি। নবদ্বীপ পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্বেশ্বর চক্রবর্তী রোডে এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ বছরে এই পুজো তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করল। পুরনো মন্দিরের আদলে তৈরি হবে পুজো মণ্ডপ। সাবেকিয়ানায় সাজানো হবে প্রতিমা।
এই পুজো ঘিরে রয়েছে নানান রীতি। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত দেবীকে পঞ্চব্যঞ্জন, পরমান্ন, পুষ্পান্ন, খিচুড়ি ভোগ নিবেদন করা হয়। নবমীতে এলাকার প্রায় চারশো পরিবারের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। সেজন্য আগে থেকেই পুজো কমিটির পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি মহাপ্রসাদের জন্য কুপন পৌঁছে দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়। দশমীতে প্রথা মেনেই খই মুড়কি, মিষ্টি নিবেদন করা হয়। ওইদিনই দেবীকে বিজয়ার বরণের মধ্যে দিয়ে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন পুজো কমিটির মহিলা সদস্যা থেকে এলাকার বিভিন্ন বয়সের মহিলারা। সিঁদুর খেলা শেষে একে অপরকে বিজয়ার মিষ্টিমুখ করান। দশমীর সন্ধ্যায় প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা হয়। ওই দিনই ফাঁসিতলার ঘাটে ভাগীরথীতে দেবীকে নিরঞ্জন করা হয়।
পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদিকা গৌরী দে ও রীতা বসু জানান, আমাদের এই পুজোতে এলাকার প্রতিটি পরিবারই অংশ নেন। বারোয়ারি পুজো হলেও সকলের উপস্থিতিতে এই পুজো পারিবারিক পুজোয় পরিণত হয়েছে। পুজো কমিটির সভানেত্রী প্রতিমা সাহা জানান, আমাদের এই পুজোতে কমিটির সকল সদস্যদের জমানো অর্থেই পুজোর আয়োজন করা হয়। এই কর্মকাণ্ডে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মহিলা কমিটির সদস্যা তন্দ্রা, দীপ্তি, রত্না, কণিকা, নিতু ও অলোকা, সন্ধ্যা, মিতালী সহ সকল সদস্যা সমস্ত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন। প্রতিমা আনা থেকে শুরু করে বাজার, সবকিছুই করেন মহিলারা।
পুজো কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা ও কমিটির সহ সভানেত্রী শম্পা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই পুজোয় এখনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া সরকারি অনুদান পাইনি। এই অনুদান পেলে আমাদের পুজোটাকে আরও ভালোভাবে করতে পারতাম। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন, মহিলা পরিচালিত আমাদের এই পুজো যেন আগামীদিনে আর্থিক অনুদান পায়।
পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সাধনা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, পুজোর প্রতিদিন সন্ধ্যায় এলাকার ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এলাকার মহিলারা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে, আমাদের এই পুজোর জন্য সবরকমভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন স্থানীয় কাউন্সিলর সুকুমার রাজবংশী, স্থানীয় অভিভাবক সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও নারায়ণচন্দ্র বসাক সহ অন্যান্যরা।