সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: মল্লরাজাদের প্রচলিত দশাবতার তাসের কথা অনেকেই জানেন। সেই দশাবতার তাসই এবার সিল্কের শাড়িতে ফুটিয়ে তুলেছেন বিষ্ণুপুরের শিল্পী প্রশান্ত ফৌজদার। কলকাতার তিন পর্যটক মহিলার পরামর্শে শাড়িতে এই শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তুলতে পেরে তিনি আপ্লুত। ওই শাড়ির ভালো কদর থাকবে, এমনটাই আশা প্রশান্তবাবুর।
মল্লরাজাদের আমলে প্রচলিত দশাবতার তাস কালক্রমে হারিয়ে যেতে বসেছে। এই তাসের খেলা প্রায় উঠেই গিয়েছে। কিন্তু, এখনও বিষ্ণুপুরের ফৌজদার পরিবারের গুটিকয়েক সদস্য তা বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। এর আগে তাঁরা লণ্ঠনের উপর দশাবতার এঁকে তা পর্যটকদের কাছে তুলে ধরেছেন। এখনও তা বেশ ভালোই বিক্রি হয়। এবার আরও নতুনত্ব আনতে শাড়িতে দশাবতার তাস এঁকেছেন।
প্রশান্তবাবু বলেন, কিছুদিন আগে তিনজন মহিলা পর্যটক এসেছিলেন। তাঁরা সিল্কের শাড়িতে দশাবতার তাস আঁকার পরামর্শ দেন। কিন্তু দামি শাড়িতে আঠা ও ভেষজ রং দিয়ে ছবি আঁকলে তা ঠিক কেমন হবে, বুঝতে পারছিলাম না। আমি গরিব মানুষ। ওভাবে রং করলে শাড়িটাই নষ্ট হয়ে যায় নাকি, সেকথা ভেবে প্রথমে ঝুঁকি নিইনি। কিন্তু, ওই ভদ্রমহিলারা আমাকে তিনটি শাড়ি পাঠিয়ে দেন। তাতেই দশাবতার এঁকেছি। চমৎকার হয়েছে। যাঁরা অর্ডার দিয়েছিলেন, তাঁদেরও খুব পছন্দ হয়েছে। তাঁরা দশাবতার আঁকার জন্য আরও শাড়ি পাঠাচ্ছেন।
সম্রাট আকবরের রাজসভায় প্রচলিত খেলার অনুকরণে প্রথমে ওড়িশায় দশাবতার খেলা চালু হয়। মল্লরাজা বীরহাম্বির ওড়িশা থেকে ওই তাস খেলার রীতি বিষ্ণুপুরে আনেন। রাজার এক যোদ্ধা ছিলেন কার্তিক ফৌজদার। তিনি খুব ভালো ছবি আঁকতেন। তাঁকে দিয়েই তাসের উপর পুরাণের দশাবতারের ছবি আঁকান রাজা। সেই তাসই এখন দশাবতার তাস নামে খ্যাতি লাভ করেছে। প্রশান্তবাবুরা সেই কার্তিক ফৌজদারের বংশধর। এখনও বিষ্ণুপুরের শাঁখারিবাজারে ফৌজদার পরিবারের কয়েকজন ওই তাস তৈরি করেন। তবে এখন তা খেলার বদলে শিল্পের পর্যায়ে চলে এসেছে। দেশবিদেশে এই দশাবতার তাস বিক্রি হয়। পর্যটকদের জন্য বিষ্ণুপুরের একসময়ের জনপ্রিয় শিল্প লণ্ঠনের উপরও দশাবতার তাস আঁকা হয়। সেই লণ্ঠনের ভালো চাহিদা আছে।
কলকাতার তিন মহিলা কিছুদিন আগে দশাবতার তাস তৈরি দেখতে প্রশান্তবাবুর বাড়ি আসেন। তাঁরাই শাড়িতে দশাবতার তাস আঁকার পরামর্শ দেন। আগামী দিনে এই শাড়িও পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে ভালো সাড়া ফেলবে বলে প্রশান্তবাবু আশাবাদী।