নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সর্বত্র সিন্থেটিক কাপড়ে তৈরি জাতীয় পতাকা দেখতে পাওয়া যায়। তবে, এবার বীরভূম জেলায় খাদি মসলিনের কাপড়ে তৈরি হবে দেশের জাতীয় পতাকা। এই উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদ। জেলাশাসক বিধান রায়ের উপস্থিতিতে সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলার মসলিন তীর্থে জাতীয় পতাকা তৈরির কাজ শুরু হল। পর্ষদের তরফে দাবি করা হচ্ছে, এই প্রথম রাজ্যে খাদি মসলিন কাপড় ব্যবহার করে সরকারিভাবে জাতীয় পতাকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রীতিমতো সংবিধানে উল্লেখিত নিয়ম মেনেই তৈরি করা হবে জাতীয় পতাকা। যাতে কোনও প্রকার সেলাই থাকবে না। জেলার মসলিন তীর্থে বয়ন শিল্পীদের হাতে তৈরি জাতীয় পতাকা আগামী দিনে অর্ডার করা যাবে অনলাইনেও।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এবছর স্বাধীনতা দিবসে জেলার প্রতিটি সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে স্কুল কলেজ সহ নানা সরকারি প্রতিষ্ঠানে খাদি মসলিনের তৈরি জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হবে। সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে। জেলাশাসক বলেন, এটা আমাদের গর্বের বিষয়। এখানে তৈরি পতাকা জেলার প্রতিটি সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হবে। সেইসঙ্গে জেলা ও রাজ্যের বাইরেও মসলিনের তৈরি জাতীয় পতাকা সরবরাহের চেষ্টা চলছে।
২০১৮ সালে জেলার আবদারপুরে গড়ে ওঠে মসলিন তীর্থ। প্রথম থেকেই এই মসলিন তীর্থে থান তৈরির কাজ চলছে। তবে, মাস দু’য়েক আগে বয়ন শিল্পীদের হাত ধরে উত্তরীয় তৈরির কাজ শুরু হয়। এবার নয়া সংযোজন তেরঙ্গার সংমিশ্রণে জাতীয় পতাকা। এদিন জেলাশাসক নিজে হাতে তাঁত বুনে জাতীয় পতাকা তৈরির কাজের সূচনা করেন। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের জেলা আধিকারিক গোপালকৃষ্ণ বসু সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। বর্তমান সময়ে একটি তাঁতেই পতাকা বোনার কাজ শুরু হলেও আগামীতে বাকি চারটি তাঁতেও পতাকা বোনার কাজ চলবে। পাঁচজন বয়ন শিল্পীর হাত ধরে বহু পতাকা তৈরি হবে।
কেরল থেকে নিয়ে আসা কাপাস তুলো দিয়ে বয়ন শিল্পীরা জাতীয় পতাকা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। পর্যায়ক্রমিক ১৮টি ধাপ পেরিয়ে এক থান পতাকা তৈরি করতে কমপক্ষে ১০দিন সময় প্রয়োজন। দক্ষ হাতে এদিন তপন নন্দীকে তাঁত বুনতে দেখা গিয়েছে। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে বয়ন শিল্পী হিসেবে কাজ করলেও এই প্রথম তিনি জাতীয় পতাকা তৈরির কাজ করছেন। স্বভাবতই যথেষ্ট উচ্ছ্বসিত বয়ন শিল্পী। পর্ষদের তরফে জানা গিয়েছে, একটি থানে মোট ১২টি পতাকা তৈরি করা সম্ভব। বর্তমান সময়ে ৩/২ ফুটের পতাকা তৈরি করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে চাহিদা অনুসারে ছোট ও বড় আয়তনের পতাকা তৈরিও করা হবে। পর্ষদের বিভিন্ন আউটলেটগুলি থেকে তা বিক্রি করা হবে। পর্ষদের তরফে গোপালকৃষ্ণ বসু বলেন, মসলিন ইতিমধ্যে জিআই তকমা পেয়েছে। সেই মসলিন দিয়েই আমরা জাতীয় পতাকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে সীমিত পরিকাঠামোতেই কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে চাহিদা অনুসারে আগামীতে উৎপাদন বাড়ানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে। অনলাইন মাধ্যমকে ব্যবহার করে মসলিন তীর্থে তৈরি জাতীয় পতাকা খোলা বাজারে বিক্রির ভাবনাও রয়েছে।