Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এবার ক্যুরিয়রে বাংলায় ঢুকছে জাল নোট, ধৃত পুরোহিত

ক্যুরিয়র বুকিংয়ের খাতায় দেখানো উপহার সামগ্রী বা জামাকাপড়ের আইটেম

এবার ক্যুরিয়রে বাংলায় ঢুকছে জাল নোট, ধৃত পুরোহিত
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্যুরিয়র বুকিংয়ের খাতায় দেখানো উপহার সামগ্রী বা জামাকাপড়ের আইটেম। খাতায়কলমে দেখানো এই সমস্ত সামগ্রীর জায়গায়  প্যাকেটে থাকছে জাল নোট। ভিন রাজ্য ঘুরে তা ঢুকছে বাংলায়। জাল নোট কারবারিদের নতুন এই কৌশল চিন্তা বাড়িয়েছে  পুলিশের। হাওড়া সিটি পুলিশের হাতে সার্থক ঝা নামে এক পুরোহিত ধরা পড়ার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গোটা বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশ থেকে। সেখান থেকেই ক্যুরিয়রের মাধ্যমে আসা জাল নোট বাংলার বিভিন্ন জেলা ও অন্য রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে বলে খবর।

Advertisement

গত ৪ অক্টোবর হাওড়া থানা এলাকার রামেশ্বর মালিয়া লেনে বিকেলে  সবজি কেনা নিয়ে ওই পুরোহিতের সঙ্গে গোলমাল বাঁধে দোকানদারের। অভিযোগ, পুরোহিত যে নোট দিয়েছিল, তা জাল বলে নিতে চাননি সবজিওয়ালা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে হাওড়া থানার পুলিশ। তারা ওই পুরোহিতকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তার কাছ থেকে দশ হাজার টাকা  ও  মোবাইল উদ্ধার হয়। সবকটি নোট ছিল পাঁচশো টাকার।  পরীক্ষার পর দেখা যায়, সেগুলি জাল। এরপরই গ্রেফতার করা হয় সার্থক ঝা নামে ওই পুরোহিতকে। 
 জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে তদন্তকারীদের কাছে সার্থক দাবি করে, বাজারে কেনাকেটা করতে গিয়েছে সে এই নোটগুলি পেয়েছে।  দীর্ঘ পুলিশি জেরায় শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে পুরোহিত জানায়, ইন্দোর থেকে ক্যুরিয়রে তার কাছে জাল নোট আসছে। ছোটছোট পর্যায়ে এগুলি পাঠানো হচ্ছে। ক্যুরিয়রে প্যাকেট বুক করা  হচ্ছে কোনও খাবার জিনিস বা উপহার সামগ্রী, যদিও তাতে থাকছে জাল নোট। তার মতো একাধিক এজেন্ট রয়েছে। এর বিনিময়ে মোটা টাকার কমিশন পাচ্ছে সকলে।  নকল টাকা সে আন্দুল ও বর্ধমানের আলাদা আলাদা ব্যক্তির কাছে সরবরাহ করছে। সোশ্যাল মিডিয়ার সূত্রে তাদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল সার্থকের।  ওই দুই ব্যক্তির নাম ও ফোন নম্বর তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।  
 ইন্দোরের যে ব্যক্তি এই জাল নোট ক্যুরিয়র মারফত বাংলায় পাঠাচ্ছিল, তার সম্বন্ধে তথ্য পেয়েছেন অফিসাররা। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা জেনেছেন, ইন্দোরের ওই ব্যক্তি জাল নোট পাচারের মূল পান্ডা। এতদিন পর্যন্ত মালদহ থেকে গোটা ভারতে জাল নোট যেত।  এবার ইন্দোর থেকে তা আসায় তদন্তে নতুন মাত্রা পেয়েছে।
তদন্তকারীরা জেনেছেন, ইন্দোরের ওই জাল নোটের কিং পিনের  সঙ্গে দিল্লি ও বিহারের জাল নোট পাচারে জড়িত  ব্যক্তিদের যোগ রয়েছে।  জাল নোট সরবরাহের ‘এপি সেন্টার’  নেপালের তরাই এলাকা। ট্রেন বা সড়কপথে জাল নোট  নিয়ে আসার সময় বারবার ধরা পড়ে যাওয়ায়, কৌশল পাল্টে অল্প অল্প করে ক্যুরিয়ারে আসছে এই নোট। এজেন্টদের বাড়িতে সরাসরি চলে যাচ্ছ।  তদন্তকারীদের কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী, নেপালে খোলা হয়েছে জাল নোটের কারখানা। সেখান থেকে বিহার এবং উত্তর প্রদেশে আসছে এই নোট। এরপর তা যাচ্ছে ইন্দোর। সেখান থেকে বাংলায়। ইতিমধ্যেই তদন্তকারীরা মধ্যপ্রদেশের বেশ কয়েকটি ক্যুরিয়র কোম্পানিকে চিহ্নিত করেছেন। তাদের সঙ্গে জাল নোট কারবারিদের যোগাযাগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কিং পিনের খোঁজে ইন্দোরে যাচ্ছে হাওড়া সিটি পুলিশের টিম। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ