এবার বিল্ডিং কমিটিতে থাকবেন রাইটস ও পূর্তদপ্তরের বিশেষজ্ঞ, নির্মাণের ‘স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি’-কে গুরুত্ব
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্ক দে, কলকাতা: নজরে প্রতিটি নির্মাণের স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি। বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের সময় মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটি বা এমবিসিতেই স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি নিয়ে নিশ্চিত হতে চায় পুর-কর্তৃপক্ষ। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এতদিন স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটির বিষয়টি দেখার মতো কোনো বিশেষজ্ঞ এমবিসিতে ছিলেন না। আর্কিটেক্ট বা স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়াররা থাকতেন। অনুমোদন নিয়ে কাজ চালুর পর স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি নিয়ে পরবর্তীকালে রিপোর্ট জমা করতেন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার। অথবা সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারীকে কোনো স্ট্রাকচারাল রিভিউয়ারকে দিয়ে প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট জমা করতে হত। কিন্তু এবার নির্দিষ্ট উচ্চতাভিত্তিক নির্মাণের স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি নিশ্চিত করেই এমবিসিতে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করা হবে। পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডের এই প্রস্তাবে সিলমোহর দিয়েছে নবান্ন। সেই সূত্রে মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটিতে বিশেষজ্ঞ সংস্থা রাইটস, পূর্তদপ্তরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধি নিয়ে আসা হচ্ছে। যদিও কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং আইনে এমন কোনো সংস্থান নেই। পাশাপাশি, কাজ চালু করার পর সংশ্লিষ্ট নির্মাণের স্ট্রাকচারাল স্টেবিলটির নজরদারি কে করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। 

Advertisement

তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ের পর সংশ্লিষ্ট নির্মাণের স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ঘটনার পরই কলকাতাসহ একাধিক পুরসভায় বড়ো বড়ো নির্মাণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন। তৈরি হয় হাই পাওয়ার কমিটি। বড়ো নির্মাণগুলির অডিট করানো হয়। এসবের মধ্যে গত প্রায় ১০ মাস ধরে এমবিসি বৈঠক হচ্ছে না। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৪ নভেম্বর এমবিসির বৈঠক হবে। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এমবিসি বন্ধ থাকার ফলে শহরে বহু বড়ো নির্মাণের অনুমোদন মিলছে না। বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের জন্য যে বিপুল টাকা রাজস্ব পায় পুরসভা, তাও আটকে রয়েছে। এই অবস্থায় এমবিসির মিটিং করানো নিয়ে প্রশাসক স্মিতা পান্ডের উপর চাপ বাড়ছিল। উল্লেখ্য, শহরের কোনো বড়ো নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে এমবিসি বৈঠক বাধ্যতামূলক। মূলত সাত কাঠা বা তার বেশি কিংবা ৫০০০ বর্গফুট বা তার বেশি আয়তনের যে কোনো ‘নন-রেসিডেন্সিয়াল’ বিল্ডিংয়ের নকশা অনুমোদনের জন্য এমবিসি করাতে হয়। ‘কমার্শিয়াল’ ক্ষেত্রে সমস্ত ধরনের নির্মাণেই এমবিসির অনুমোদন প্রয়োজন। এখন এসবের পাশাপাশি নির্মাণের উচ্চতা ও তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটির বিষয়টিও এমবিসিতে বিবেচ্য হবে। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, নির্মাণের উচ্চতার প্রথম ধাপ ৪০ মিটার পর্যন্ত, দ্বিতীয় ধাপ ৪১ থেকে ১২০ মিটার এবং 
তৃতীয় ধাপ ১২০ মিটারের বেশি। মূলত বিভিন্ন উচ্চতায় স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি কী হওয়া উচিত, প্ল্যানে সেসব বিষয় খতিয়ে দেখে অনুমোদন দেওয়া হবে। তার জন্য রাইটস এবং পূর্তদপ্তরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আসা হচ্ছে এমবিসিতে। তবে এক প্রশাসনিক কর্তা বলেন, ‘স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি মেনে প্ল্যান অনুমোদন করানোর পর সংশ্লিষ্ট ডেভেলপার সেই অনুযায়ী কাজ করছেন কি না, তার মনিটরিং কে করবে? সেই দায়িত্ব কে নেবে?’ তিনি 
আরও জানান, একটা সময় পুরসভাই স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি দেখে অনুমোদন দিত। কিন্তু বাম আমলে শিবালিক অ্যাপার্টমেন্ট বিপর্যয়ের পর বিষয়টি পুরসভার নথিভুক্ত স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার বা থার্ড পার্টি ভেরিফিকেশনের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে দিয়ে স্ট্রাকচারাল রিভিউ করিয়ে সার্টিফিকেট জমা করতেন। তাছাড়া পুরসভায় লোকবলের অভাব রয়েছে। এই অবস্থায় স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি দেখতে গেলে চাপ বাড়বে। অথবা সেই থার্ড পার্টি রিভিউয়ের উপরই ভরসা করতে হবে। তাহলে এই নতুন নিয়ম আনার মানে কী হল! প্রশ্ন তুলছে আধিকারিকদের একাংশ।