Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এবার লোকসভা ভোটে বিজেপির স্টার ক্যাম্পেনাররাই যোগ দিলেন তৃণমূলে!

একটা সময় তাঁরাই ছিলেন বিজেপির ‘স্টার ক্যাম্পেনার’। কিন্তু ধীরে ধীরে ভেঙেছে মোহ!

এবার লোকসভা ভোটে বিজেপির স্টার ক্যাম্পেনাররাই যোগ দিলেন তৃণমূলে!
  • ১৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: একটা সময় তাঁরাই ছিলেন বিজেপির ‘স্টার ক্যাম্পেনার’। কিন্তু ধীরে ধীরে ভেঙেছে মোহ! অবশেষে পায়ের তলার মাটি হারিয়ে তৃণমূলে নাম লেখালেন বিজেপির ‘বাহাদুর বেটি’ রেখা পাত্রের ছায়াসঙ্গীরা। রবিবার সন্দেশখালির কানমারিতে তৃণমূলের কর্মীসভায় বিজেপির ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন কয়েকশো বিজেপি কর্মী-সমর্থক। সন্দেশখালিতে পদ্মশিবিরের এই ভাঙন যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করেছেন রাজনৈতিক মহল।

Advertisement

জানা গিয়েছে, গতবছর জানুয়ারি মাসের সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে ওঠে। সেই প্রতিবাদীদের পক্ষ থেকে রেখা পাত্রকে গত লোকসভা ভোটে প্রার্থী করে বিজেপি। কিন্তু তৃণমূল রেকর্ড মার্জিনে বসিরহাট লোকসভা থেকে জয়ী হয়। এরপর থেকে বিজেপির অভ্যন্তরীণ কাজিয়া বারেবারে প্রকাশ্যে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে কয়েকদিন আগে সন্দেশখালিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি সভা করে বিজেপি। সেখানে রেখা পাত্রের অনুপস্থিতি নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু তারপরের দিন রেখা একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এনে দাবি করেন, তিনি অসুস্থ থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। 
আপাতত সেই অস্বস্তির অবসান হলেও রবিবার বেড়েছে বিড়ম্বনা। রেখা পাত্রের একসময়ের ছায়াসঙ্গী হয়ে যাঁরা লড়াই করেছেন তাঁরাই যোগ দিলেন তৃণমূলে! রবিবার দুপুরে সন্দেশখালির কানমারিতে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি কর্মীসভার আয়োজন করা হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু, বীরবাহা হাঁসদা, বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বুরহানুল মোকাদ্দিম, বিধায়ক সুকুমার মাহাত প্রমুখ। এদিন কয়েকশো বিজেপির কর্মী ও সমর্থক তৃণমূলে যোগদান করলেন বলেই দাবি তৃণমূলের। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়েছেন সুজিত বসু ও বীরবাহা হাঁসদারা। এনিয়ে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বরহানুল মোকাদ্দিম বলেন, এদিন কয়েকশো মহিলা কর্মীসমর্থক তৃণমূলে যোগ দেন। এঁদের মধ্যে অনেকেই গত লোকসভা নির্বাচনে সন্দেশখালি থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির তৈরি করা ‘মহিলা দরদ’ নিয়ে প্রচার করে। মোটা টাকার বিনিময়ে তাঁদের স্টার ক্যাম্পেনার বানিয়েছিল পদ্ম শিবির। কিন্তু, তাঁরা নিজেদের মোহভঙ্গ হয়েছে বুঝতে পেরেছেন। আগামী দিনে বিজেপির অত্যন্ত কালো দিন আসছে কেবল বসিরহাটে নয়, গোটা বাংলাজুড়েই। 
এদিকে, মন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, ‘বিজেপি নামক চরম সম্প্রদায়িক দল মানুষকে ভুল বুঝিয়েছে। উস্কানি দিয়ে সন্দেশখালিতে মহিলাদের অপমানিত করেছে। আগামী দিনেও তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে বাংলায়।’
মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, ‘বিজেপি নেতারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বড় বড় কথা বলছেন। ওঁদের উচিত, আগে বিজেপি-শাসিত রাজ্যে এই প্রকল্প চালু করে মানুষের মন জয় করা। তারপরে বাংলা।’ 
তৃণমূলে যোগ দেওয়া সুদেষ্ণা দাস, লতিকা মিস্ত্রি বলেন, ‘আমরা বিজেপির প্রলোভনে পা দিয়ে ভুল করেছিলাম। ওদের কথাতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আমরা লোকসভা ভোটে প্রচার করেছি। তাই স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তৃণমূলে যোগ দিলাম।’ 
বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা বিজেপির যুব সভাপতি পলাশ সরকার বলেন, ‘তৃণমূল যতই লম্ফঝম্প করুক লাভ হবে না। আসলে সবটাই আইওয়াশ করছে তৃণমূল। তাছাড়া সন্দেশখালি হল বিজেপির শক্ত ঘাঁটি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ