নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাইবার জালিয়াতির শিকার হলেন কলকাতা পুলিশের এক অবসরপ্রাপ্ত ইনসপেক্টর। প্রতারক নিজেকে ব্যাংককর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁর তেকে ইউপিআইয়ের পিন নম্বর জেনে নেয়। তারপর কয়েক দফায় তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেয় চার লক্ষ টাকা। পুরো টাকাই গিয়েছে তাঁর পেনশন অ্যাকাউন্ট থেকে। অবসরপ্রাপ্ত ওই অফিসারের মোবাইলে পরপর মেসেজ আসায় তিনি বুঝতে পারেন, প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর হাওড়ার নিশ্চিন্দা থানায় অভিযোগ জানালে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, এই ঘটনায় হয় জামতাড়া গ্যাং, না হয় রাজস্থানের ভরতপুরের গ্যাং জড়িত। ব্যাংকের কোনও কর্মীর সঙ্গে প্রতারকদের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তাঁরা।
কলকাতা পুলিশের ওই অবসরপ্রাপ্ত ইনসপেক্টর দেবব্রত চক্রবর্তী এক সময় দাপটের সঙ্গে বিভিন্ন থানায় কাজ করেছেন। বালির নিশ্চিন্দার বাসিন্দা ওই অফিসারের পেনশন অ্যাকাউন্ট রয়েছে ডানলপের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে। মাসখানেক আগে ব্যাংককর্মী পরিচয় দিয়ে তাঁর কাছে একটি ফোন আসে। কথায় কথায় সেই ব্যক্তি তাঁর চেহারার বিবরণ পর্যন্ত দেন। স্বভাবতই দেবব্রতবাবুর মনে কোনও সন্দেহ হয়নি। এরপর তাঁকে বলা হয়, আপনার ইউপিআই অ্যাকাউন্টে কিছু টাকা পাঠানো হবে। তাই তাঁর পিন নম্বরটি লাগবে। একথা শুনে তিনি তা দিয়ে বসেন। তার কয়েকদিন পর তাঁর ওই অ্যাকাউন্ট থেকে চার-পাঁচ দফায় সব মিলিয়ে চার লক্ষেরও বেশি টাকা তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তাঁর মোবাইলে মেসেজ এলে তিনি বুঝতে পারেন প্রতারিত হয়েছেন। ব্যাংকে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, যে ব্যক্তি ফোন করেছিল, সে ওই ব্যাংকের কর্মী নয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ ব্যাংক থেকে লেনদেনের নথি জোগাড় করে যে চার-পাঁচটি অ্যাকাউন্টে ওই টাকা গিয়েছে, সেগুলি চিহ্নিত করেছে। দেখা যাচ্ছে, ওই অ্যাকাউন্টগুলি পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যের ব্যক্তিদের নামে খোলা হয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, পিন নম্বর নেওয়ার পর ওইসব অ্যাকাউন্টে ভুয়ো লেনদেন করেছে জালিয়াতরা। তারপর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। অথবা দেবব্রতবাবুর মোবাইলে কোনও লিংক পাঠিয়ে তার মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট সাফ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ওই প্রাক্তন পুলিশ অফিসারের ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য আগেই প্রতারকদের সরবরাহ করেছে ব্যাংকের কোনও কর্মী। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, যে সব অ্যাকাউন্টে প্রতারণার টাকা জমা পড়েছিল, সেগুলি সবই ভাড়ার অ্যাকাউন্ট। তার সূত্র ধরে অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। ইতিমধ্যেই জালিয়াতদের অ্যাকাউন্টে থাকা কিছু টাকা ব্লক করেছে নিশ্চিন্দা থানা। সেই টাকা যাতে ওই অফিসারকে ফেরানো যায়, তার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।