সংবাদদাতা, বেলদা: ট্রাক্টর, ডাম্পার কিংবা লরির বদলে এবার মোটরবাইকের পিঠে বালি পাচারের অভিনব কৌশল! প্রশাসনিক নজরদারি এড়াতে প্লাস্টিকের বস্তায় বালি ভরে মোটরবাইকে চাপিয়ে পাচারের চেষ্টা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। তবে সেই কৌশল শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি। গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চার যুবককে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি চারটি বালি বোঝাই মোটরবাইক বাজেয়াপ্ত করেছে দাঁতন থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দাঁতন থানার অন্তর্গত সুবর্ণরেখা নদী এলাকা থেকে বেআইনিভাবে বালি তুলে প্রথমে তা বস্তায় ভরা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এরপর সেই ভারী বস্তাগুলি মোটরবাইকের পিছনে দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে বেলমুলা হয়ে মানিকাডাঙরের দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। বড় গাড়ি ব্যবহার করলে নজরদারির আওতায় পড়ার আশঙ্কা থাকায় গ্রামের ছোট রাস্তা ও গলিপথ ব্যবহার করেই এই নতুন কৌশলে বালি সরানোর চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ।
পাচারকারীদের এই অভিনব পদ্ধতির খবর পুলিশের কাছে পৌঁছতেই দাঁতন থানার একটি বিশেষ দল পানিতুনিয়া এলাকায় অভিযান চালায়। বালি বোঝাই মোটরবাইক নিয়ে ওই এলাকায় পৌঁছতেই পুলিশ সেগুলিকে ঘিরে ফেলে। তল্লাশিতে একাধিক বালি ভর্তি বস্তা উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় চার যুবককে।
একাধিক ভারী বালি ভর্তি বস্তা মোটরবাইকে চাপিয়ে পাচারের এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, নজরদারি এড়াতে বালি পাচারকারীরা ক্রমেই নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে। নদী থেকে বালি তোলা, বস্তাবন্দি করা, মোটরবাইকে চাপানো এবং নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পিছনে আরও বড় কোনো চক্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, কোথা থেকে বালি তোলা হচ্ছিল এবং কোথায় তা সরবরাহ করা হচ্ছিল, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মোটরবাইককে হাতিয়ার করে বালি পাচারের এই নয়া কৌশলের শিকড় কতদূর, এখন সেটাই তদন্তের মূল লক্ষ্য। নিজস্ব চিত্র