সংবাদদাতা, রামপুরহাট: এবারই শেষ নির্বাচনে দাঁড়ানো, আশীর্বাদ করুন। শুক্রবার বিকেলে রামপুরহাট ১ ব্লকের আয়াস অঞ্চলে এমনই আবেগঘন বক্তৃতা শোনা গেল তৃণমূল প্রার্থী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। পাশাপাশি তিনি বলেন, আমার জীবনে এক টাকারও দুর্নীতি করিনি। কারও কাছ থেকে এক কাপ চাও খাইনি। এদিন আয়াস অঞ্চলের দাদপুর বাতাসপুর হাই স্কুলে কর্মিসভার আয়োজন করে তৃণমূল। যদিও তা জনসভার আকার নেয়। যা দেখে আপ্লুত হন তৃণমূল নেতৃত্ব। দিন দুয়েক আগে এই আয়াস গ্রামে প্রচারে এসে কৃষকদের সঙ্গে মাঠ থেকে পেঁয়াজ তুলতে দেখা গিয়েছিল বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহাকে। তা নিয়ে বিজেপি প্রার্থীকে আক্রমণ করে উপস্থিত তৃণমূলের আইনজীবী সেলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জমির মালিককে সাবধান করে দিচ্ছি। আজ ও আপনার জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন, কাল সেই জমি দেখিয়ে টাকা তুলবে, গ্যারান্টি দিয়ে বলছি। অন্যদিকে জহিরুল সাহেব বলেন, বিজেপি প্রার্থী তো প্রচার পেতে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছে। এবার থেকে প্রচারে এলে বাড়ির কাজগুলি করিয়ে নেবেন। অন্যদিকে আশিসবাবু বলেন, আমি আপনার বাড়ির প্যান্ট তুলতে যাব না, খড়ও ছাওয়াতেও যাব না। কেউ আবার ভোটারের দাড়ি কামাচ্ছে। আমি এসব ছ্যাবলামিতে নেই। এরা ভোট চাইতে এসেছে। এরা কাজ করবে। আপনারা ২৫ বছর ধরে আমাকে জিতিয়ে এসেছেন। বিধায়ক হিসাবে চেষ্টা করে এখানে মেডিকেল কলেজ করেছি। আমি চাইব এমআরই চালু হোক। আরও একটা ডিজিটাল এক্স রে চালু হোক। এখানে অপারেশন ভালো হোক। এসবিএসটিসি ডিপা হয়েছে। সেই সঙ্গে রাস্তাঘাট উন্নয়নের চেষ্টা করেছি। এগুলি হচ্ছে বিধায়কের কাজ। কিছুদিন ধরে বিভিন্ন মিডিয়ায় আশিসবাবুকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে আক্রমণ করে আসছেন বিজেপির প্রার্থী থেকে নেতারা। এদিন তাঁরও জবাব দিয়েছেন বর্ষীয়ান এই তৃণমূল নেতা। তিনি ঈশ্বরের নামে শপথ করে বলেন, শুধু ২৫ বছর নয়, সারাজীবনে এক টাকারও দুর্নীতি করিনি। কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না। আমি বিধায়ক হিসাবে মানুষের কাজ করে গিয়েছি। এরপরই তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, আপনারা আমাকে পাঁচবার জিতিয়েছেন। আরেকটা বার আপনারা জিতিয়ে দিন। এটাই আমার শেষবার। তাই শেষবারের জন্য আপনাদের কাছে ভোট ভিক্ষে করছি এবং আশীর্বাদ করুন যাতে আমরা জয়ী হতে পারি। তাঁর এই বক্তব্য শেষ হতেই সকলেই এত নিশ্চুপ হয়ে যান যে পিন পড়লে আওয়াজ পাওয়া যাবে। তাঁর বক্তব্য শুনে অনেকের চোখ ছলছল করে ওঠে। কয়েকটা সেকেন্ড চুপ থাকার পর কেউ বলেন, না স্যার, এমনটা বলবেন না। কেউ বলেন, আপনার মতো মাটির মানুষ পাওয়া যাবে না।



