এবারই শেষ, এনসিপিআই সাংসদদের আবেদনের সময় আর বাড়নো হবে না: অধ্যক্ষ
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: ‘এনসিপিআই সাংসদদের আবেদনের সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না। ওরা দু’য়েকদিন আগে ফের আবেদন করেছে। সেটা হয়তো বাড়িয়ে দেব। কিন্তু আর নয়। এটাই শেষবার। এরপর আর কোনো সময়সীমা বৃদ্ধি করা হবে না।’ বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ‘বর্তমান’-এর প্রশ্নের উত্তরে সাফ জানালেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। তিনি আরও বলেন, ‘সব পক্ষের বক্তব্য না শুনে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে না। যা হবে, তা সাংবিধানিক রীতি মেনেই হবে।’ লোকসভার স্পিকার জানিয়েছেন, বিষয়টি আপাতত সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। লোকসভার অধ্যক্ষ হিসাবে আমাকেও বিষয়টি দেখতে হচ্ছে। সব প্রক্রিয়া মেনেই হচ্ছে। দ্রুত গতিতে সেই প্রক্রিয়া চলছে। এনসিপিআই সাংসদদের ভবিষ্যতের প্রশ্নে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার এমন মন্তব্যকে স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। 

Advertisement

জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যে চারবার এনসিপিআইয়ের ২০ জন সাংসদ, অর্থাৎ তৃণমূলের বিদ্রোহী এমপিরা লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এসংক্রান্ত বিষয়ে আবেদন করেছেন। অন্যদিকে, উত্তর কলকাতায় এনসিপিআইয়ের একটি ব্যানার ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। উত্তর কলকাতার বিস্তীর্ণ অংশে ওই ব্যানার দেওয়া হয়েছে। সেই ব্যানারে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ২০ জন সাংসদের ছবি দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যানারে নরেন্দ্র মোদি এবং শুভেন্দু অধিকারীর ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে। প্রধানত দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ছট এবং জগদ্ধাত্রী পুজোর শুভেচ্ছা জানিয়েই তা দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে মমতা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের কটাক্ষ, ‘দিল্লির ধোপাবাড়ি যাওয়া বেইমানগুলি নিজের দলীয় অবস্থান জানাতে পুজোকে ছুতো করে আরও দু’সপ্তাহ সময় চেয়ে চিঠি দিচ্ছে। এদিকে কলকাতায় মোদিজি এবং শুভেন্দুর ছবি সহ ২০ জনের মুখ দিয়ে হোর্ডিং দিয়েছে।’ এই ব্যানার নিয়ে এনসিপিআই দলের সভাপতি জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায় প্রথমে জানান, দলের অনুমোদন ছাড়াই তা ব্যবহার করা হয়েছে। দল একে সমর্থন করে না। কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য বিবৃতি বদলে তিনি জানান, দলের কিছু উৎসাহী সমর্থক আবেগ থেকে এই ব্যানার দিয়েছেন। ফলে সবমিলিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা। 
এনসিপিআইয়ের ব্যানারে নরেন্দ্র মোদি এবং শুভেন্দু অধিকারীর ছবি থাকলেও দিল্লি বিজেপি সূত্রে আবারও স্পষ্ট করা হয়েছে, তৃণমূলের ওই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে সরাসরি পদ্মপার্টিতে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এপ্রেক্ষিতে এদিন লোকসভা স্পিকারের মন্তব্য সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।