দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: দশেরায় রাবণ পুড়েছে। দশেরায় ‘ককরোচ’-এর ৩০ ফুট উচ্চতার কাট-আউটও পুড়েছে দিল্লিতে। পদ্মশিবিরের বিশেষ কর্মসূচিতে রামলীলা পালায় হয়েছে ‘ককরোচ’ দহন। আর সেই আগুন থেকেই নতুন করে আন্দোলন শুরুর শপথ নিয়েছে ‘ককরোচ’রা। মোদি সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দশেরায় ফের ‘ককরোচ’ হুঁশিয়ারি, ‘জেলে পুরলেও আন্দোলন থেকে সরব না। জ্ঞানেশ কুমারকে ইস্তফা দিতেই হবে। এছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।’ ককরোচ জনতা পার্টি বুঝিয়ে দিয়েছে, আন্দোলন থেকে সরা দূরঅস্ত, বরং এক থেকে হাজার হাজার ‘ককরোচ’-এর জন্ম হবে। সিজেপির হুঁশিয়ারি, ‘যব তক তোড়েঙ্গে নেহি, তব তক ছোড়েঙ্গে নেহি।’ এমনিতেই সিজেপির দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেপ্তারি ইস্যুতে রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে রয়েছে দিল্লি পুলিশ। শেষমেশ স্পেশাল এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) আদালতে সৌরভ এবং আশুতোষের জামিন হয়েছে বটে। কিন্তু দিল্লির পুলিশ-প্রশাসনের অস্বস্তি কমছে না। বারবার গর্জে উঠেছে ‘ককরোচ’রা। জামিন পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার আবারও সৌরভ এবং আশুতোষকে রাজৌরি গার্ডেনের অফিসে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ ডেকে পাঠানোয় ক্ষোভ বেড়েছে। ডাকা হয়েছিল সিজেপির আরেক নেতা অজিঙ্ক সিন্ধেকেও। যদিও ওই তিনজনের কেউই এদিন দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের সঙ্গে দেখা করেননি। আরও কিছুদিন সময় চেয়েছেন। সেইমতো সৌরভ, আশুতোষ ও অজিঙ্ককে নতুনভাবে নোটিস পাঠানোর চিন্তাভাবনা করছে পুলিশ। এখবর প্রকাশ্যে আসতেই ‘ককরোচ’রা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘আন্দোলন দমানোর উদ্দেশ্যেই বারবার হয়রান করা হচ্ছে। বরদাস্ত করব না।’
এর আগে সৌরভ এবং আশুতোষের জামিন মঞ্জুর না করায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে অভিজিৎ দিপকে বলেছিলেন, ‘ওরা জামিন না পাওয়ায় এখন অনেক শক্তিশালী মনে হচ্ছে তো নিজেকে?’ আর এখন মোদি সরকারের জন্য সবথেকে অস্বস্তিকর বিষয় হল, ‘ককরোচ’দের আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন পি প্রভাকর। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের স্বামী! ইতিমধ্যেই ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’র দাবিতে আন্দোলনের কথা তিনি ঘোষণা করেছেন। অভিজিৎ দিপকে, নেহা বোরা, রাকেশ টিকায়েতদের সঙ্গেই আন্দোলনে শামিল হবেন তিনি। আগে পি প্রভাকর কেন্দ্র বিরোধী বিভিন্ন ইস্যুতে সরব হয়েছিলেন বটে। কিন্তু মোদি বিরোধিতায় সরাসরি আন্দোলনে যোগ দেননি। এমন প্রেক্ষাপটেই আজ, শুক্রবার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর বাতিলের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনে নামছেন কৃষকরা। কর্মসূচি রয়েছে দিল্লিতেও। ফলে শুক্রবার আবারও দিল্লি উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই দিল্লিকে কড়া নিরাপত্তা বলয়ে মোড়া শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতিকেও স্মারকলিপি দেবেন কৃষকরা। হর হাথ তিরঙ্গা, হর গলি যন্তরমন্তর স্লোগানে আজ আন্দোলনে নামছে শ্রমিক সংগঠনগুলিও।



