পরামর্শে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রিনোলজি’র বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ রাণা ভট্টাচার্য।
Advertisement
থাইরয়েডের অসুখ দিন দিন বাড়ছে। সাধারণ হিসেব অনুসারে, আমাদের দেশ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ থাইরয়েডের সমস্যার জন্য চিকিত্সার জন্য পরামর্শ নিতে যান।
অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, থাইরয়েডের রোগে কী খাব? অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায়, রোগী হয়তো কোনও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই নির্দিষ্ট ফুড সাপ্লিমেন্ট সম্পর্কে জানতে পেরেছেন! নিয়মিত ওই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করে যাচ্ছেন! অথচ শরীরে ওই সাপ্লিমেন্টটির কোনও বিরূপ প্রভাব আছে কি না তা জানেন না।
বস্তুতঃ থাইরয়েডের রোগীর ডায়েট নিয়ে কিছু প্রশ্ন থাকেই। সেগুলি নিয়েই এই প্রবন্ধে হবে আলোচনা।
• থাইরয়েডের রোগীর কি সোয়া প্রোডাক্ট খাওয়া উচিত নাকি উচিত নয়?
•• সোয়া প্রোটিন মেলে সোয়া দুধ, টোফু, সোয়া সস, সোয়াবিন বড়ি এবং অন্যান্য সোয়াবিন নির্ভর খাদ্যোপাদানে। সোয়াবিনে আছে আইসোফ্ল্যাভেন। আছে জেনিস্টেন, ডাইজেইন, গ্লাইসিটেন যা থাইরয়েড পারোক্সিডেস-এর কাজে বাধা দেয়।
একটি সমীক্ষায় সোয়া নির্ভর ফর্মুলা খাদ্য খায়, এমন শিশুর মধ্যে গয়টারের প্রাদুর্ভাব লক্ষ করা গিয়েছে। তবে সোয়া প্রোটিন থেকে রোগীর আয়োডিনের ঘাটতি এবং সামান্য মাত্রায় হাইপোথাইরয়েডিজম আগে থেকে থাকলে জটিলতার আশঙ্কা থাকে। অতএব সাধারণভাবে সোয়াবিন জাতীয় খাবার খেলে সুস্থ মানুষের থাইরয়েডের সমস্যা হয়, এমন প্রমাণ নেই। এমনকী হাইপোথাইরয়েডিজমের রোগীরাও চাইলে সোয়া নির্ভর খাদ্য অবশ্যই গ্রহণ করতে পারেন। খেয়াল রাখতে হবে যে থাইরক্সিন এর বড়ি খাওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে যেন সোয়াবিন খাওয়া না হয়।
• ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকোলির মতো সব্জি কি হাইপোথাইরয়েডের রোগী খেতে পারেন?
•• এই সব্জিগুলির কিছু কোষে থাকে গ্লুকোসাইনেলটস এবং অন্য কোষে থাকে মাইরোসিনেজ অথবা থিওগ্লাইকোসিডেস-এর মতো এনজাইম। চিবোনোর সময় গ্লুকোসাইনেলটস আইসোথায়ানেটস এবং সালফোরাফেনে রূপান্তরিত হয়। সেগুলি থাইরয়েড গ্রন্থিতে আয়োডিন প্রবেশে বাধা দেয়। প্রচুর পরিমাণে নিয়মিত উপরিউক্ত সব্জিগুলি কাঁচা অবস্থায় খেলে সেগুলি মানব শরীরে অ্যান্টিথাইরয়েড হিসেবে কাজ করতে পারে। প্রশ্ন হল তাহলে কি সব্জিগুলি খাওয়া সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে হবে? একেবারেই নয়! রান্না করার সময় উত্তাপে মাইরোসিনেজ ধ্বংস হয়ে যায়। তাই ভালো করে রান্না করা সব্জিগুলি খেলে থাইরেড গ্ল্যান্ড সংক্রান্ত কোনও সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
• হাইপোথাইরয়েডের রোগী কি গ্লুটেন ফ্রি খাদ্য খাবে?
•• বহু গ্লুটেন সংবেদী এন্টেরোপ্যাথি বা সিলিয়াক ডিজিজ-এর রোগীর অটোইমিউন থাইরয়েড ডিজিজের সমস্যাও হতে দেখা গিয়েছে। এও দেখা গিয়েছে, তাঁদের থাইরেয়েড হর্মোনের ক্ষরণের জন্য অনেক বেশিমাত্রায় ওষুধ দিতে হচ্ছে! এখন প্রশ্ন হল অটোইমিউন থাইরয়েড ডিজিজ থাকলে কি গ্লুটেন ফ্রি খাদ্য খাওয়া দরকার। এক্ষেত্রে উত্তর হল, সিলিয়াক ডিজিজ না থাকলে গ্লুটেন ফ্রি খাদ্য খাওয়ার নিদান দেওয়া হয় না।
• থাইরয়েডের রোগীরা দুধ খেতে পারবেন?
•• দুধে থাকে আয়োডিন, ক্যালশিয়াম এবং ল্যাকটোজ যা থাইরয়েড থেকে বেরনো হর্মোনের শোষণে প্রভাব ফেলে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গোরুর দুধের সঙ্গে থাইরক্সিন ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। দেখা গিয়েছে, হাসিমাটোস থাইরয়েডাইটিস আছে এমন ব্যক্তির ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স হওয়ার প্রবণতা সাধারণ ব্যক্তির দ্বিগুণ। তবে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স নেই এমন হাইপোথাইরয়েডের রোগীকে দুধ খেতে নিষেধ করা হয় না।
• থাইরেয়েডের রোগী আয়োডিন নির্ভর খাদ্য খেলে কী কী জটিলতা আসতে পারে?
•• আয়োডিনের অভাবে অনেকেরই হাইপোথাইরেয়েড হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার মাত্রাতিরিক্ত আয়োডিন ব্যবহার থেকে অটোইমিউন থাইরয়েড ডিজিজ এবং যার থেকে হাইপোথাইরয়েডিজম এবং থাইরোটক্সিকোসিস হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তবে একজন ব্যক্তিকে আয়োডিন কম আছে এমন খাবার খেতে হবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে তাঁর ভৌগলিক অবস্থানের উপর ও তাঁর এলাকায় সল্ট আয়োডাইজেশন প্রোগ্রাম চালু আছে কি না তার উপর। তবে কোনও ব্যক্তি যদি এমন কোনও ভৌগলিক অবস্থানে থাকেন, যেখানে আয়োডিনের অভাব নেই ও আমাদের দেশের মতো সল্ট আয়োডাইজেশন প্রোগ্রাম চালু আছে, তাহলে আলাদা করে আয়োডিনযুক্ত খাদ্য খাওয়ার দরকার পড়ে না।
• থাইরয়েডের অসুখে কি আলাদা করে ট্রেস এলিমেন্ট এবং ভিটামিন খেতে হবে?
•• সেলেনিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, ম্যাগনেশিয়াম, কপার ইত্যাদির মতো ট্রেস এলিমেন্ট বা অপরিহার্য খাদ্য উপাদান থাইরয়েড হরমোনের জৈব সংশ্লেযে সাহায্যকারী এনজাইমের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। একইসঙ্গে থাইরয়েডের অসুখ প্রতিরোধেও এই উপাদানগুলি বিশেষভাবে কাজ করে। প্রশ্ন হল, তাহলে কি আলাদা করে এই অপরিহার্য উপাদান গ্রহণ করলে লাভ হবে? দেখা যাক—
সেলেনিয়াম
আলাদা করে সেলেনিয়াম গ্রহণ করলে যে তা থাইরয়েডের মাত্রায় বিশেষ প্রভাব ফেলে বা থাইরয়েডের ওষুধের উপর কোনও প্রভাব পড়ে, এমন প্রমাণ মেলেনি। গ্রেভস অরবিটোপ্যাথি রোগে অনেকসময় সেলেনিয়াম ব্যবহৃত হয়।
আয়রন
থাইরয়েড পেরোক্সিডেজ নামে একটি এনজাইমের অন্যতম উপাদান হল আয়রন। থাইরয়েড হর্মোনের সংশ্লেষে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আয়রন। ফলে খাদ্যে আয়রনের অনেকখানি ঘাটতি থাকলে সঠিক সাপ্লিমেন্ট দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করার ব্যবস্থা করতে হবে।
জিঙ্ক
জিঙ্ক এবং থাইরয়েডের কার্যকারিতার সম্পর্ক দ্বিমুখী। থাইরয়েড হরমোনের সংশ্লেষে ও কার্যকারিতার ক্ষেত্র জিঙ্ক প্রভূত সাহায্য করে। আবার অন্ত্র থেকে জিঙ্ক শোষণের জন্য থাইরয়েড হরমোন অত্যন্ত জরুরি উপাদান। কিন্তু বেশিরভাগ থাইরয়েড রোগীর ক্ষেত্রেই জিঙ্ক সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হয় না।
এককথায় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি না থাকলে আলাদা করে সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সুষম খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে রোজকার চাহিদা অনুসারে ভিটামিন খাদ্যে যোগ করতেই হবে।
• খাদ্য উপাদানের সঙ্গে থাইরয়েড ক্যান্সারের কি কোনও যোগ আছে?
•• কয়েকটি গবেষণায় দাবি করা হচ্ছে যে প্রসেসড ফুড বা সংরক্ষিত খাদ্য খাওয়ার অভ্যেস থাইরয়েড ক্যান্সারের আশঙ্কা বৃদ্ধি করতে পারে। কোরিয়ার একটি গবেষণা বলছেল ডেয়ারি খাদ্য গ্রহণের অভ্যেস হ্রাস করতে পারে থাইরয়েড ক্যান্সারের আশঙ্কা। তবে কোনও গবেষণাই নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করেনি যে যে নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য থাইরয়েড ক্যান্সার ডেকে আনতে পারে অথবা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে।
শেষ কথা
খুব সহজে একটা কথা বলা যায়, থাইরয়েডের অসুখের স্পেশাল ডায়েট বলে কিছু হয় না। তাই সবসময় সুষম খাদ্য গ্রহণের উপরেই জোর দেওয়া উচিত। এছাড়া কোনও নির্দিষ্ট ভিটামিনের ঘাটতি আছে মনে হলে সেই বিষয়ে পরীক্ষা করে দেখে নিয়ে তারপর সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া যারা থাইরক্সিন ওষুধ খান তাঁরা ক্যালশিয়াম, আয়রন সাপ্লিমেন্ট বা সোয়াবিন ওষুধ খাওয়ার অন্তত ৪০ ঘণ্টা পরে খাবেন।
অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, থাইরয়েডের রোগে কী খাব? অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায়, রোগী হয়তো কোনও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই নির্দিষ্ট ফুড সাপ্লিমেন্ট সম্পর্কে জানতে পেরেছেন! নিয়মিত ওই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করে যাচ্ছেন! অথচ শরীরে ওই সাপ্লিমেন্টটির কোনও বিরূপ প্রভাব আছে কি না তা জানেন না।
বস্তুতঃ থাইরয়েডের রোগীর ডায়েট নিয়ে কিছু প্রশ্ন থাকেই। সেগুলি নিয়েই এই প্রবন্ধে হবে আলোচনা।
• থাইরয়েডের রোগীর কি সোয়া প্রোডাক্ট খাওয়া উচিত নাকি উচিত নয়?
•• সোয়া প্রোটিন মেলে সোয়া দুধ, টোফু, সোয়া সস, সোয়াবিন বড়ি এবং অন্যান্য সোয়াবিন নির্ভর খাদ্যোপাদানে। সোয়াবিনে আছে আইসোফ্ল্যাভেন। আছে জেনিস্টেন, ডাইজেইন, গ্লাইসিটেন যা থাইরয়েড পারোক্সিডেস-এর কাজে বাধা দেয়।
একটি সমীক্ষায় সোয়া নির্ভর ফর্মুলা খাদ্য খায়, এমন শিশুর মধ্যে গয়টারের প্রাদুর্ভাব লক্ষ করা গিয়েছে। তবে সোয়া প্রোটিন থেকে রোগীর আয়োডিনের ঘাটতি এবং সামান্য মাত্রায় হাইপোথাইরয়েডিজম আগে থেকে থাকলে জটিলতার আশঙ্কা থাকে। অতএব সাধারণভাবে সোয়াবিন জাতীয় খাবার খেলে সুস্থ মানুষের থাইরয়েডের সমস্যা হয়, এমন প্রমাণ নেই। এমনকী হাইপোথাইরয়েডিজমের রোগীরাও চাইলে সোয়া নির্ভর খাদ্য অবশ্যই গ্রহণ করতে পারেন। খেয়াল রাখতে হবে যে থাইরক্সিন এর বড়ি খাওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে যেন সোয়াবিন খাওয়া না হয়।
• ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকোলির মতো সব্জি কি হাইপোথাইরয়েডের রোগী খেতে পারেন?
•• এই সব্জিগুলির কিছু কোষে থাকে গ্লুকোসাইনেলটস এবং অন্য কোষে থাকে মাইরোসিনেজ অথবা থিওগ্লাইকোসিডেস-এর মতো এনজাইম। চিবোনোর সময় গ্লুকোসাইনেলটস আইসোথায়ানেটস এবং সালফোরাফেনে রূপান্তরিত হয়। সেগুলি থাইরয়েড গ্রন্থিতে আয়োডিন প্রবেশে বাধা দেয়। প্রচুর পরিমাণে নিয়মিত উপরিউক্ত সব্জিগুলি কাঁচা অবস্থায় খেলে সেগুলি মানব শরীরে অ্যান্টিথাইরয়েড হিসেবে কাজ করতে পারে। প্রশ্ন হল তাহলে কি সব্জিগুলি খাওয়া সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে হবে? একেবারেই নয়! রান্না করার সময় উত্তাপে মাইরোসিনেজ ধ্বংস হয়ে যায়। তাই ভালো করে রান্না করা সব্জিগুলি খেলে থাইরেড গ্ল্যান্ড সংক্রান্ত কোনও সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
• হাইপোথাইরয়েডের রোগী কি গ্লুটেন ফ্রি খাদ্য খাবে?
•• বহু গ্লুটেন সংবেদী এন্টেরোপ্যাথি বা সিলিয়াক ডিজিজ-এর রোগীর অটোইমিউন থাইরয়েড ডিজিজের সমস্যাও হতে দেখা গিয়েছে। এও দেখা গিয়েছে, তাঁদের থাইরেয়েড হর্মোনের ক্ষরণের জন্য অনেক বেশিমাত্রায় ওষুধ দিতে হচ্ছে! এখন প্রশ্ন হল অটোইমিউন থাইরয়েড ডিজিজ থাকলে কি গ্লুটেন ফ্রি খাদ্য খাওয়া দরকার। এক্ষেত্রে উত্তর হল, সিলিয়াক ডিজিজ না থাকলে গ্লুটেন ফ্রি খাদ্য খাওয়ার নিদান দেওয়া হয় না।
• থাইরয়েডের রোগীরা দুধ খেতে পারবেন?
•• দুধে থাকে আয়োডিন, ক্যালশিয়াম এবং ল্যাকটোজ যা থাইরয়েড থেকে বেরনো হর্মোনের শোষণে প্রভাব ফেলে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গোরুর দুধের সঙ্গে থাইরক্সিন ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। দেখা গিয়েছে, হাসিমাটোস থাইরয়েডাইটিস আছে এমন ব্যক্তির ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স হওয়ার প্রবণতা সাধারণ ব্যক্তির দ্বিগুণ। তবে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স নেই এমন হাইপোথাইরয়েডের রোগীকে দুধ খেতে নিষেধ করা হয় না।
• থাইরেয়েডের রোগী আয়োডিন নির্ভর খাদ্য খেলে কী কী জটিলতা আসতে পারে?
•• আয়োডিনের অভাবে অনেকেরই হাইপোথাইরেয়েড হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার মাত্রাতিরিক্ত আয়োডিন ব্যবহার থেকে অটোইমিউন থাইরয়েড ডিজিজ এবং যার থেকে হাইপোথাইরয়েডিজম এবং থাইরোটক্সিকোসিস হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তবে একজন ব্যক্তিকে আয়োডিন কম আছে এমন খাবার খেতে হবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে তাঁর ভৌগলিক অবস্থানের উপর ও তাঁর এলাকায় সল্ট আয়োডাইজেশন প্রোগ্রাম চালু আছে কি না তার উপর। তবে কোনও ব্যক্তি যদি এমন কোনও ভৌগলিক অবস্থানে থাকেন, যেখানে আয়োডিনের অভাব নেই ও আমাদের দেশের মতো সল্ট আয়োডাইজেশন প্রোগ্রাম চালু আছে, তাহলে আলাদা করে আয়োডিনযুক্ত খাদ্য খাওয়ার দরকার পড়ে না।
• থাইরয়েডের অসুখে কি আলাদা করে ট্রেস এলিমেন্ট এবং ভিটামিন খেতে হবে?
•• সেলেনিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, ম্যাগনেশিয়াম, কপার ইত্যাদির মতো ট্রেস এলিমেন্ট বা অপরিহার্য খাদ্য উপাদান থাইরয়েড হরমোনের জৈব সংশ্লেযে সাহায্যকারী এনজাইমের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। একইসঙ্গে থাইরয়েডের অসুখ প্রতিরোধেও এই উপাদানগুলি বিশেষভাবে কাজ করে। প্রশ্ন হল, তাহলে কি আলাদা করে এই অপরিহার্য উপাদান গ্রহণ করলে লাভ হবে? দেখা যাক—
সেলেনিয়াম
আলাদা করে সেলেনিয়াম গ্রহণ করলে যে তা থাইরয়েডের মাত্রায় বিশেষ প্রভাব ফেলে বা থাইরয়েডের ওষুধের উপর কোনও প্রভাব পড়ে, এমন প্রমাণ মেলেনি। গ্রেভস অরবিটোপ্যাথি রোগে অনেকসময় সেলেনিয়াম ব্যবহৃত হয়।
আয়রন
থাইরয়েড পেরোক্সিডেজ নামে একটি এনজাইমের অন্যতম উপাদান হল আয়রন। থাইরয়েড হর্মোনের সংশ্লেষে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আয়রন। ফলে খাদ্যে আয়রনের অনেকখানি ঘাটতি থাকলে সঠিক সাপ্লিমেন্ট দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করার ব্যবস্থা করতে হবে।
জিঙ্ক
জিঙ্ক এবং থাইরয়েডের কার্যকারিতার সম্পর্ক দ্বিমুখী। থাইরয়েড হরমোনের সংশ্লেষে ও কার্যকারিতার ক্ষেত্র জিঙ্ক প্রভূত সাহায্য করে। আবার অন্ত্র থেকে জিঙ্ক শোষণের জন্য থাইরয়েড হরমোন অত্যন্ত জরুরি উপাদান। কিন্তু বেশিরভাগ থাইরয়েড রোগীর ক্ষেত্রেই জিঙ্ক সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হয় না।
এককথায় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি না থাকলে আলাদা করে সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সুষম খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে রোজকার চাহিদা অনুসারে ভিটামিন খাদ্যে যোগ করতেই হবে।
• খাদ্য উপাদানের সঙ্গে থাইরয়েড ক্যান্সারের কি কোনও যোগ আছে?
•• কয়েকটি গবেষণায় দাবি করা হচ্ছে যে প্রসেসড ফুড বা সংরক্ষিত খাদ্য খাওয়ার অভ্যেস থাইরয়েড ক্যান্সারের আশঙ্কা বৃদ্ধি করতে পারে। কোরিয়ার একটি গবেষণা বলছেল ডেয়ারি খাদ্য গ্রহণের অভ্যেস হ্রাস করতে পারে থাইরয়েড ক্যান্সারের আশঙ্কা। তবে কোনও গবেষণাই নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করেনি যে যে নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য থাইরয়েড ক্যান্সার ডেকে আনতে পারে অথবা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে।
শেষ কথা
খুব সহজে একটা কথা বলা যায়, থাইরয়েডের অসুখের স্পেশাল ডায়েট বলে কিছু হয় না। তাই সবসময় সুষম খাদ্য গ্রহণের উপরেই জোর দেওয়া উচিত। এছাড়া কোনও নির্দিষ্ট ভিটামিনের ঘাটতি আছে মনে হলে সেই বিষয়ে পরীক্ষা করে দেখে নিয়ে তারপর সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া যারা থাইরক্সিন ওষুধ খান তাঁরা ক্যালশিয়াম, আয়রন সাপ্লিমেন্ট বা সোয়াবিন ওষুধ খাওয়ার অন্তত ৪০ ঘণ্টা পরে খাবেন।
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক



