Bartaman Logo
২০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ম্যাগাজিন

ওবেসিটি কমানোর ঘরোয়া দাওয়াই

ওবেসিটি কমাতে ঘরোয়া দাওয়াই ও স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকা। আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ডাঃ প্রশান্ত সরকারের পরামর্শ জানুন। বিস্তারিত পড়ুন।

ওবেসিটি কমানোর ঘরোয়া দাওয়াই
  • ২০ জুন, ২০২৬ ১৪:০২
Prefer us on Google

কথা নেই বার্তা নেই বেড়ে যাচ্ছে ওজন! ডায়েট-এক্সারসাইজ করেও কোনওভাবেই সম্ভব হচ্ছে না ওজন কমানো। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন ওজন কমানোর দাওয়াই লুকিয়ে আছে ঘরেই! সেগুলি কী কী? জানাচ্ছেন আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ডাঃ প্রশান্ত সরকার

Advertisement

মোটা হওয়া কাকে বলে

সহজ বাংলায় শরীর ফুলে গেলে তাকে মোটা বা স্থূল বলে ধরা হয়। ইংরেজিতে একটি কথা আছে, ‘One who looks fat, is fat’।  বাইরে থেকে যে খাবারটা আমরা খাই, তার কিছুটা শরীরের নানা মেরামতি ও পুষ্টিপ্রদানে ব্যবহৃত হয়। কিছুটা কাজে লাগে শক্তি বা এনার্জি তৈরিতে। বাকি অংশ খরচ করতে না পেরে শরীরে জমিয়ে ফেললে তখনই শরীর মেদবহুল হয়ে পড়ে। মানুষ এভাবেই মোটা হয়। কারও বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) ৩০-এর বেশি এলে ধরে নেওয়া হয়, সেই ব্যক্তি ওবেসিটিতে আক্রান্ত। তবে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলির ক্ষেত্রে (ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ইত্যাদি) বিএমআই ২৫ পেরিয়ে গেলেই ওবেসিটিতে আক্রান্ত বলে ধরা হয়। আসলে এইসব দেশের মানুষের হাত-পা সরু সরু হলেও পেট মোটা। পেটে ভুঁড়ি থাকলে সেসব মানুষও চিকিৎসাশাস্ত্রে ‘ওবিস’ বা মোটা। সেই হিসেবে এশীয় মহিলাদের কোমরের মাপ ৮০ সেমি-র বেশি ও পুরুষদের ৯০ সেমি-র বেশি হলে ধরে নিতে হবে তিনি ওবেসিটিতে আক্রান্ত। শিশুর বেলায় মাপতে হবে ঘাড়ের মাপ।

বিএমআই মাপব কীভাবে?

বিএমআই = (কেজিতে দৈহিক ওজন) ÷(মিটারে দৈহিক উচ্চতা)2

কেজিতে একজন ব্যক্তির দৈহিক ওজনকে, দৈহিক উচ্চতার (মিটারে) বর্গমূল  দিয়ে ভাগ করলে বেরবে বিএমআই। ধরা যাক একজন ব্যক্তির ওজন ৮০ কেজি, উচ্চতা ৫ফিট ৮ইঞ্চি। সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির মিটারে উচ্চতা হবে ১.৭৬৭৮৪ মিটার। অতএব ওই ব্যক্তির বিএমআই = (৮০) ÷(১.৭৬৭৮৪)2 = ২৫.৫৯

আয়ুর্বেদে চরক সংহিতায় যে ৮ ধরনের শরীরকে ‘অতি নিন্দনীয়’ বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তার মধ্যে ‘অতি স্থূল’ সর্বাপেক্ষা নিন্দনীয়। দিনের বেলা ঘুম, অধিক ভোজন, ঠান্ডা জল ও মিষ্টির প্রতি আসক্তি, ব্যায়াম না করা ইত্যাদিকে স্থূলত্বের কারণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে কারণের ক্ষেত্রে জিনগত দিকটিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

খাবার পাতে তাকান

কী কী ঘন ঘন খাবেন: ওবেসিটি রুখতে জীবনের মন্ত্র হোক খাব কম, পরিশ্রম করব বেশি। পরিমিত আহার করুন। অস্বাস্থ্যকর খাবার বাদ দিন। স্বাস্থ্যকর যা-ই খান পরিমাণে অল্প খান। আয়ুর্বেদ মতে কী কী খাবেন আর কী কী খাবেন না, তার একটি সুচারু নির্দেশিকা রয়েছে। যেমন, মোটা থেকে রোগা হতে চাইলে পাতে রাখুন পুরনো সকালে উঠে সাধারণ তাপমাত্রার জলে মধু মিশিয়ে খান। এছাড়া ঢেঁকি ছাঁটা চাল, মাসকলাই বাদে সব ডাল, গম, যব, ভুট্টা, বাজরা জাতীয় দানাশস্য, তেঁতো, ফল, নানারকম সব্জির মধ্যে বেগুনের ভর্তা, ঘোল, টক দই, চিংড়ি মাছ, খাবার খাওয়ার আগে উষ্ণ জল, ঝাল, পিপুল, মরিচ। স্থূলত্ব কমাতে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং-এর যে ধারণা তা কিন্তু প্রাচীন আয়ুর্বেদে উল্লেখ আছে।

কী কী খাবেন না: খাবার পরে জল, নতুন বা রিফাইন চাল, মাসকলাই, মিষ্টি, চিনি, মিছরি, গুড়, দুগ্ধজাত দ্রব্য, বিশেষ করে মিষ্টি দই, রাবড়ি, তৈল জাতীয় খাবার, ফাস্ট ফুড, বেশি পরিমাণে বড় মাছ, মাংস খাওয়া যাবে না। গরম জলে মধু মিশিয়ে খাবেন না। সাধারণ তাপমাত্রার জলে মধু মিশিয়ে খান।

চেষ্টা করুন প্রতিদিন এক ঘণ্টা ঘাম ঝরিয়ে শরীরচর্চা করুন। দিনে ঘুমাবেন না। বেশিক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজের অভ্যাস থাকলে মাঝে উঠে হাঁটতে হবে। 

ঘরোয়া পথ্য

কুলপাতা বা গনিয়ারি গাছের ছাল জলে ফুটিয়ে কাড়া করে খান। এই মিশ্রণ দিনে দু’বার হাফ কাপ করে খান। রাতে মেথি ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সকালে উঠে গরম করে ছেঁকে সেই জল খান। রাতে ঘুমানোর আগে দারচিনি গুঁড়ো ঈষদুষ্ণ জলে দুলে খেতে পারেন। তাতেও ফল মিলবে। আয়ুর্বেদে বিভিন্ন ওষুধ রয়েছে স্থূলতা কমানোর, তবে খাবার নিয়ন্ত্রণ ও কায়িক পরিশ্রমই এর সেরা উপায়।

লিখেছেন মনীষা মুখোপাধ্যায়

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ