Bartaman Logo
২০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ম্যাগাজিন

তাপমাত্রা বাড়লে মেয়েদের ভয় বেশি কেন?

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নারীদের স্বাস্থ্যে বিপদ বাড়ছে। অধ্যাপক সুদীপ্ত মোদকের বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন। বিস্তারিত পড়ুন।

তাপমাত্রা বাড়লে মেয়েদের ভয় বেশি কেন?
  • ২০ জুন, ২০২৬ ১৩:৫৪
Prefer us on Google

জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ দূষণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে শরীর ও স্বাস্থ্যের সংযোগ। কীভাবে জলবায়ু ও পরিবেশের সামান্য পরিবর্তনও মানবশরীরে ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলে তা নিয়ে লিখেছেন অধ্যাপক সুদীপ্ত মোদক।

Advertisement

১৮৮০-১৯২০ সালের তাপমাত্রার থেকে ২০২২ সালে সমগ্র বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ছিল ১.১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৩ সালে এযাবৎ কালের মধ্যে সবথেকে বেশি গরম ছিল। নাসাও একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছে বলেছে, ‘১৮৮০ সাল থেকে বিশ্বের তাপমাত্রার রেকর্ড রাখা শুরু হয়েছে। তখন থেকে আজ পর্যন্ত ২০২৩ সালেই সবথেকে বেশি গরম অনুভূত হয়েছে।’ 

গত কয়েক দশক ধরেই পরিবেশ বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে আসছেন। তাদের আশঙ্কা দিন দিন বাস্তব হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন যে, ২০৩০ সাল নাগাদ পৃথিবীর  তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে দাঁড়াবে। 

আজ থেকে ৯ বছর আগে রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন সমগ্র পৃথিবী জুড়ে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমণ হ্রাস করে ২০৫০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে সীমাবদ্ধ রাখার অঙ্গীকার করে। তা কতটা বাস্তবায়িত হবে, সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে সর্বত্র। বিভিন্ন রকম দুর্যোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন মেয়েরা। 

নারী বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ১৫৮ মিলিয়ন মহিলা (বালিকা অন্তর্ভুক্ত) ২০৫০ সালে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়বে। এর অন্যতম কারণ হল ‘জলবায়ুর পরিবর্তন’। ওই রিপোর্টে আরও দেখা যাচ্ছে, ওই এক কারণে সাড়ে ২৩ কোটির বেশি মহিলা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় চিন্তা নিয়ে কোনওরকমে দিন কাটাবেন। 

জলবায়ুর বিপর্যয়ের জন্য আগামী দিনে চরম শারীরিক অসুস্থতার সম্মুখীন হবে গর্ভবতী নারী থেকে শুরু করে সদ্যোজাত এবং শিশুরা। ভয়ংকর সমস্যার আশু সমাধানের জন্য বিশ্বের সমস্ত মানুষকে আহ্বান জানিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ। সম্প্রতি দুবাইয়ে ‘সিওপি ২৮’ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনা হয়েছিল। এই বিষয়টি সেখানে সকলের নজরে এনেছে তারা। অত্যধিক তাপজনিত কারণে হিটস্ট্রোক হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে গর্ভবতী মায়েদের। এছাড়া কম ওজনের সন্তান প্রসব করা, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রসব ও সদ্যোজাত মৃত্যুর হার বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে যথেষ্ট। 

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘এমিনেন্স’এর গবেষকেরা বলছেন, উপকূলবর্তী এলাকার নারীদের মেনস্ট্রুয়েশন নিয়মিতকরণে জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। জরায়ু ও প্রজননতন্ত্রে সংক্রমণও এখন বেশি হচ্ছে। যে সব মহিলা কোমর জলে নেমে রোজ বেশ কিছুক্ষণ ধরে চিংড়ির পোনা সংগ্রহ করেন, তাঁদের মেনস্ট্রুয়েশন নিয়মিত করার জন্য ওষুধ খেতে দেখা যাচ্ছে। এমনকী কম বয়সি মেয়েরাও নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি খাচ্ছেন দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কথা না জেনেই। বহু প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মেয়েরা সহজে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও প্রজনন সংক্রান্ত প্রাথমিক পরিষেবাই পান না।

বাস্তব কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া যাক। দিল্লি থেকে যদি কয়েক ঘন্টা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে যাওয়া যায়, তাহলে আসবে স্যারাউল নামে একটি গ্রাম। সেই গ্রামের একজন কৃষিশ্রমিক মঞ্জুদেবী। ক্ষেতে কাজ করার সময় দু’মাস ধরে পেটের প্রচণ্ড ব্যথায় ভুগছিলেন। কখনও কখনও দীর্ঘ সময় ধরে কোমরডোবা জলে দাঁড়িয়ে থেকে ধান রোপন করা বা পরিচর্যা করে তাঁর দিন যায়। সঙ্গে রয়েছে তীব্র তাপে মধ্যে ভারী বোঝা তোলা এবং খেতে কীটনাশক স্প্রে করা। একটা সময় মঞ্জুদেবীর ব্যথা অসহনীয় হয়ে ওঠে। তারপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তারবাবুরা দেখে বুঝতে পারেন, রোগীর জরায়ু সংক্রামিত হয়েছে। অসুস্থতা থেকে রেহাই পেতে জরায়ু কেটে বাদ দিতে হো। ৫৬ বছর বয়স্ক এই বিধবা নারী শ্রমিক বহুদিনই এই রকম অসহ্য যন্ত্রণা মুখ বুজে সহ্য করেছেন। মাঝে মাঝে ব্যথার ওষুধ খেয়েছেন। কিন্তু টুঁ শব্দটি করেননি কেবলমাত্র পরিবারের নাতি-নাতনিদের মুখে খাবারের জোগান দেওয়ার জন্য। প্রকাশ্যে অন্যদের সামনে মহিলাদের রোগের কথা বলা বা প্রকাশ করার সামাজিক অসুবিধা থাকায় মঞ্জুদেবী ওই ব্যথার কথা কাউকে বলতে পারেননি। ডাক্তাররা পরীক্ষা করলে তাঁর ওই রোগটি ধরা পড়ে। তিনি তখন চিকিৎসককে বলেন যে  গ্রামের আরও বহু মধ্যবয়সী ও বয়স্ক মহিলার একই ধরনের রোগ রয়েছে। 

এই রোগের চিকিৎসক ডাঃ ভাস্করণ বলেন, ‘গ্রামীণ মহিলারা প্রায়শই কৃষিকাজ করতে বাধ্য হন। জলবায়ু পরিবর্তন যেমন অনিয়মিত আবহাওয়া, দুর্যোগ, সাগরের জল বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি কারণে মহিলাদের পক্ষে পরিিস্থতির মোকাবিলা করা আরও কঠোর হয়ে উঠেছে। জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি জরায়ুকে আক্রমণ করে না। কিন্তু তার জন্য েময়েদের কাজের পরিবেশ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। শরীর-স্বাস্থ্য দিকে নজর রাখার ফুরসতই পান না তাঁরা।’ 

আর এক নারী কৃষিজীবী শ্রমিক সবিতা সিং। তিনি রাসায়নিক সংক্রমণে আক্রান্ত হন। এরও পরোক্ষ কারণ হল জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তনের ধরন এবং কীটপতঙ্গের আক্রমণের কারণে ধান ও গমের ফলন হ্রাস পাওয়ায় কীটনাশকের ব্যবহার বাড়ানো হয়। যদিও সবিতা সিংয়ের নিজের ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু পরিবারের কর্তার ইচ্ছায় করতে হল। স্বামী শহরে অন্য কাজে চলে যাওয়ায় নিজেকে প্রত্যক্ষ ভাবে চাষের কাজে নামতে হল। তাই তিনি ক্ষতি হবে অনুমান করেও খেতে রাসায়নিক প্রয়োগ করেছিলেন। আর বৃদ্ধি মানে একটু-আধটু বৃদ্ধি নয়; একেবারে ৩ গুণ। সবথেকে বড় কথা, মাঠে রাসায়নিক ব্যবহার করেছিলেন কোনও সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই। ফলে যা হওয়ার তাই হল। সবিতার একটা আঙুল কাটা গেল। উত্তরপ্রদেশের আরেকটি গ্রাম পিলাখানায় ২২ বছর বয়সী মজুরি শ্রমিক ববিতা কুমারী একটি ইটভাটায় কাজ করেন। ২০২১ সালে তিনি মৃত সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। দেখা গিয়েছে, এই বছর তিনি তীব্র উত্তাপে দীর্ঘসময় ধরে রোজ প্রচুর ভার তুলেছিলেন এবং বহন করেছিলেন। অনুমান করা হয়, ব্যাপক গরম বাড়ার সঙ্গে এই মৃত সন্তান প্রসবের  সম্পর্ক আছে। তিনি বলেন, ‘আমার মা সারা জীবন ইটভাটায় কাজ করেছেন কিন্তু আমার মতো আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কাজ করলেও পরিবেশ তখনও এতটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠেনি। কিন্তু গত ছয়-সাত বছর ধরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে এবং উত্তাপ সহ্য করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’ 

ডাঃ ভাস্করণ উল্লেখ করেন যে, ভারতে মহিলারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কৃষিতে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেন এবং পুরুষরা শহরাঞ্চলে চলে যান, যা মহিলাদের বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাবের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। 

২০২১-২২ সালের সরকারি শ্রমশক্তি তথ্যে দেখা গিয়েছে, কৃষিতে কর্মরত ৭৫ শতাংশ মানুষই মহিলা। কিন্তু একটি সরকারি কৃষি আদমসুমারি অনুযায়ী, কৃষিজমির মাত্র ১৪ শতাংশ মহিলাদের মালিকানাধীন। 

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সব থেকে দুঃখজনক যে ঘটনাটি ঘটে তা হল, মানুষজনকে বাস্তুহারা হতে হয়। তাই আশ্রয় নেওয়ার জন্য তাদেরকে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়। বিবিসি পত্রিকায় প্রকাশিত একটি লেখা থেকে জানা যাচ্ছে যে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ঘরছাড়াদের আশি শতাংশই মহিলা। যদিও বিপর্যয় নারী পুরুষ ভেদাভেদ করেনা। কিন্তু পরিবারের শিশু, মহিলা সহ অন্য সদস্যদের দেখভাল করার জন্য নারীরা এলাকাতেই থেকে যায় কেননা নতুন জায়গায় উপার্জনের জন্য সংসারের পুরুষ সদস্যদের বাড়ি ছাড়তে হয়। প্রতিদিনের গৃহস্থালির কাজ ছাড়াও মহিলাদের পুরুষদের কাজগুলোও করতে হয়। এই রকম ভয়ংকর অবস্থা দেখা যায় যখন প্রবল জলচ্ছ্বাসে নদীর পাড় ভেঙ্গে যায়,  নদীকেন্দ্রিক জীবিকা ব্যাহত হয়। নিমেষে তলিয়ে যায় পলকা বাড়ি। এমনিতেই দূরবর্তী গ্রাম অঞ্চলে তুলনামূলক ভাবে জীবনযাত্রার পরিকাঠামো খুবই নড়বড়ে। সেইজন্য বাড়ির মহিলাদেরই বেরিয়ে পড়তে হয় বিশুদ্ধ পানীয় জলের সন্ধানে, গবাদি পশুর খাবার জোগাড় করার নিরিখে। মধ্য আফ্রিকায় অবস্থিত পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ লেক ধীরে ধীরে তাপজনিত কারণে ৯০শতাংশ শুকিয়ে গেছে, তার ফলে মঙ্গল, মাসাই, কুচি ইত্যাদি গোষ্ঠীর মানুষেরা সমস্যায় পড়ে গেছে। জল পাওয়ার জন্য এই গোষ্ঠীর মেয়েদের অনেকদূর যেতে হয়। তাপ দগ্ধ দিনে জীবিকা নির্বাহ যথেষ্ট পরিশ্রম সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। যাদের দারিদ্রসীমার নীচে দিন কাটাতে হয় তাদের ঘরের মেয়েদের পরের দিনের জ্বালানির খোঁজেও বেরতে হয়।  এছাড়া চাষাবাদ তো আছেই। ২০০৫ সালে ক্যাটরিনা নামক হ্যারিকেনে লুসিয়ানায় বন্যার হয় ও প্রদেশটি সাংঘাতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত হন আফ্রিকান আমেরিকার মহিলারা যাঁদের অনেকেই তখন ছিলেন স্বামী পরিত্যক্তা!

গবেষণায় জানা যাচ্ছে, কেবলমাত্র প্রান্তিক এলাকার মানুষজনেরা এই সমস্যার সম্মুখীন হন না। সারা বিশ্বেই নারীরা পুরুষদের তুলনায় কম ক্ষমতা ভোগ করছেন এবং বেশি দারিদ্র্যতার মুখ দেখছেন। অক্সফামের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০৪ সালের সুনামির পর যেখানে তিনজন পুরুষের বিপরীতে একজন নারী রক্ষা পেয়েছেন। কারণ জানা না গেলেও, সারা বিশ্বেই একই ধরনের উদাহরণ দেখা গেছে। পরিবেশের এই পরিবর্তন গ্রামের মেয়েদের সুরক্ষা বিপন্ন করে তুলছে। যে সব অঞ্চলে পানীয় জলের সমস্যা, সেই অঞ্চলের মহিলাদেরই দূর দূরান্ত থেকে ভারী জল ভরা পাত্র বহন করে নিয়ে আসতে হয়। পরিবেশ পাল্টে যাবার দরুণ তাঁদের আরও অনেক বেশি দূরত্ব পার করতে হয়। ফলে অনেক সময়ই তাদের যৌন হিংসা, জুলুম, জবরদস্তির মোকাবিলা করতে হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হচ্ছে মানুষকে। সায়েন্টিফিক অ্যাডভান্সেস-এ প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, মানব-সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে দ্বিগুণ শক্তিশালী গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় তৈরি করবে, যা বিশ্বের বড় অংশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। 

একটি বছরে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮০-১০০টি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, যার বেশিরভাগই কখনও ল্যান্ডফল করে না। মুশকিল হল, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানগুলির মধ্যে অনেকগুলি আবার নিম্ন আয়ের দেশ। কম্বোডিয়া, লাওস, মোজাম্বিক এবং সলোমন দ্বীপপুঞ্জ এবং টোঙ্গার মতো অনেক প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেড়ে যাবে। বিশ্বব্যাপী, এশিয়া গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের সংস্পর্শে আসা মানুষের সংখ্যার সর্বাধিক বৃদ্ধি দেখতে পাবে, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভিয়েতনাম। প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রেক্ষিতে তথ্য বলছে, ২০২২ সালে ৩২.৬ মিলিয়ন মানুষ নিজের জায়গা ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে গিয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি দেশ হল, পাকিস্তান, ফিলিপিন্স, চীন, ভারত, নাইজিরিয়া। ২১ সালে এই সংখ্যাটি ছিল ৫৯.১ মিলিয়ন। জার্নাল অব গ্লোবাল হেলথে প্রকাশিত গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে যে, ২০৫০ সালে এই সংখ্যাটি পৌঁছবে ১.২ বিলিয়নে। আগেই বলেছি, এই ঘরছাড়াদের মধ্যে সব থেকে বেশী অসুবিধায় পড়ে নারীরা।  দুর্যোগের পর নারীরা যেসব দুর্ভোগে পড়েন, সেগুলো উন্নয়নের নীতি নির্ধারকদের চোখ এড়িয়ে গেছে।

আমাদের দেশে বহু সাইক্লোন শেল্টার বা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র আছে। কিন্তু সেগুলো নারীবান্ধব নয়। ওই আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ জল ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। এগুলো নারীর জন্য বড় ধরনের বিপদ হয়ে দেখা দেয়। নারী ও পুরুষ একসঙ্গে গাদাগাদি করে থাকার ফলে কখনও কখনও কিশোরী ও নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হন। প্রাকৃতিক কাজ সারার জন্য নারীরা বাধ্য হয়ে রাতের অন্ধকারে দূরের কোনো শৌচাগারে যান। কোনও কোনও পুরুষ তখন নারীর এই প্রতিকূল পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ধর্ষণের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। 

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নারীরা যে দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন— এ সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে? এব্যাপারে আমাদের সর্বস্তরের সবাইকে ভাবতে হবে।

(মহিলাদের উদাহরণগুলি সংবাদ সংস্থা এপি পরিবেশিত সংবাদ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ