অ্যাডিলেড: অ্যাসেজ সিরিজের তৃতীয় টেস্ট শুরু বুধবার। তার আগে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড দুই শিবিরেই বিষাদের মেঘ। সিডনির বন্ডি সমুদ্র সৈকতের হত্যালীলায় মন একেবারেই ভালো নেই কামিন্স-স্টোকসদের। সেই ঘটনার পর যৌথ বিবৃতিও দিয়েছে দু’দেশের ক্রিকেট বোর্ড। তাতে লেখা, ‘বন্ডি সমুদ্রসৈকতে যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড চলেছে, তাতে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড আতঙ্কিত। যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে সমবেদনা জানাই। কঠিন সময়ে ইহুদি সম্প্রদায় ও অস্ট্রেলিয়ার জনগণের পাশে আমরা রয়েছি।’
দুই আততায়ীর নির্বিচারে গুলি চালানোয় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা প্রায় তিরিশ। এখনও ২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি। এই পরিস্থিতিতে রক্তদানের আবেদন জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। উল্লেখ্য, তাঁর বাড়িও সিডনিতেই। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘আমি আতঙ্কিত। মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানাই। সিডনির জনগণের কাছে আমার আর্জি, সম্ভব হলে রক্তদান করুন। এখন রক্তের খুবই প্রয়োজন।’ কামিন্সের মতোই দুঃখ প্রকাশ করেছেন সফরকারী ইংল্যান্ড দলের ক্রিকেটাররাও। এই ঘটনার পর অ্যাডিলেডের নিরাপত্তা দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। মাঠে ঢোকার সময় চিরুনি তল্লাশি হবে দর্শকদের। ভিতরেও থাকবে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাশাপাশি ম্যাচ চলাকালীন অ্যাডিলেডে দু’দেশের পতাকা অর্ধনমিত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। বুধবার খেলা শুরুর আগে শ্রদ্ধা জানানো হবে নিহতদের। কালো আর্মব্যান্ড পরে খেলবেন ক্রিকেটাররা।
অ্যাসেজ সিরিজে ধারাভাষ্যকার হিসাবে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন মাইকেল ভন। ঘটনার দিন বন্ডি সমুদ্রসৈকতে সময় কাটাতে গিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক। যে সময় হত্যালীলা চলেছে, তখন সৈকত সংলগ্ন একটি রেস্তোরাঁয় ছিলেন তিনি। গুলির শব্দ শোনামাত্র দৌড়ে ঢুকে যান শৌচাগারে। এক সাক্ষাৎকারে ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন ভন। বলেন, ‘বাইরে থেকে নাগাড়ে গুলির শব্দ ভেসে আসছিল। ব্যাপারটা সুবিধার নয় বুঝেই শৌচাগারে ঢুকে পড়ি। দরজা বন্ধ করে দিই। আমার মতো আরও অনেকে ওয়াশ-রুমে আশ্রয় নিয়েছিল। দীর্ঘক্ষণ সেখানেই ছিলাম।’ পরে নিরাপত্তারক্ষীরা উদ্ধার করেন ভনদের।
এদিকে, তৃতীয় টেস্টের দল ঘোষণা করেছে ইংল্যান্ড। গাস অ্যাটকিনসনের জায়গায় প্রথম একাদশে এসেছেন জস টং। উল্লেখ্য, সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে জিতে হেলায় জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। অ্যাডিলেডে জিতলেই অ্যাসেজ পকেটে পুরে ফেলবে অজিরা। ইংরেজ বাহিনীর সামনে তাই সিরিজ বাঁচিয়ে রাখার লড়াই।