সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: ভোরবেলা গাড়ি নিয়ে ষাঁড় চুরি করতে এসেছিল দুষ্কৃতীরা। ষাঁড়কে বেঁধে গাড়িতে তোলার আগে স্থানীয়রা দেখে ফেলায় পালিয়ে গেল চোরেরা। হরিরামপুরের বৈরাঠার হাতিডোবা এলাকার ঘটনায় বৃহস্পতিবার শোরগোল পড়ে যায়। দুষ্কৃতীরা পালিয়ে গেলেও ছোট গাড়িটিকে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিস ঘটনাস্থলে আসে। গাড়ি সহ দুটি ষাঁড় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিস। স্থানীয়দের বক্তব্য, এদিন ভোরে একটি ছোট গাড়ি নিয়ে এলাকায় ষাঁড় চুরি করতে আসে একদল দুষ্কৃতী। একটি ষাঁড়কে গলায় দড়ি বেঁধে ঘুমের ইঞ্জেকশন দেওয়ার মুহূর্তে এলাকার এক ব্যক্তি দেখে ফেলেন। ওই ব্যক্তি চিৎকারে বাকিরা ঘটনাস্থলে জড়ো হলে গাড়ি ও ষাঁড় রেখে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।
জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা পালিয়ে গেলেও ছোট গাড়িটিতে রেখে যাওয়া একটি ফোনের সূত্র ধরে একজনের নাম জানতে পেরেছে পুলিস। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে হরিরামপুর থানার পুলিস।
এদিকে গ্রামবাসীদের তরফে থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। থানা চত্বরে পশু চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা চলছে উদ্ধার হওয়া দুটি ষাঁড়ের। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দুষ্কৃতীরা ষাঁড় চুরি করে। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা তপনের বাসিন্দা বলে অনুমান পুলিসের। দুষ্কৃতীদের উদ্দেশ্য ছিল, ষাঁড়গুলিকে ওপারে পাচার করা। হাতিডোবার বাসিন্দা ছবিল সরকার বলেন, ভোরে একদল দুষ্কৃতী এলাকায় এসে একটি ষাঁড় ছোট গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা ধরতে গেলেই দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। আমরা থানায় অভিযোগ জানিয়েছি।
গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিস আধিকারিক দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, আমরা একজন দুষ্কৃতীর পরিচয় জেনেছি। বাকিদের তথ্য সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের খোঁজে অভিযান চলছে। ছোট গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ষাঁড়ের চিকিৎসা করা হয়েছে। এই গাড়ি নিয়েই ষাঁড় চুরি করতে এসেছিল দুষ্কৃতীরা।