নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এ যেন টিনটিনের ‘বোম্বেটে জাহাজ’ গল্পের সেই চোর মিঃ অ্যারিস্টাইডিশ সিল্ক! যে হাতসাফাই করে আনা যাবতীয় সামগ্রী মালিকের নাম ও চুরির তারিখ সহ বর্ণানুক্রমে সাজিয়ে রাখত। রবিবার পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিস ল্যাপটপ ও মোবাইল চুরির অভিযোগে এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করে। অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান ওই মহিলার নাম ক্যানবিস ব্রাউন। বাড়ি বালিগঞ্জ প্লেসে। পুলিস জেনেছে, অতিথি সেজে অভিজাত রেস্তরাঁ বা হোটেলে ঢুকে অন্য গেস্টদের মোবাইল, ল্যাপটপ ইত্যাদি সুযোগ বুঝে সরিয়ে ফেলত সে। চুরি করে আনা সামগ্রী সাজিয়ে রাখার জন্য বাড়িতেই রীতিমতো গ্যালারি তৈরি করা হয়েছিল। ঠিক যেন টিনটিনের গল্পের সেই চোর!
ধৃতের হাতসাফাইয়ের কৌশল কেমন ছিল? তদন্তকারীদের দাবি, প্রথমে কোনও অভিজাত হোটেল বা রেস্তঁরায় অতিথি সেজে ঢুকে একটি টেবিল নিত সে। মেনু বুক উল্টেপাল্টেই কিছু সময় কাটিয়ে দিত। আসলে তখন সে ‘শিকার’ খুঁজত! মাঝেমধ্যে হাল্কা কোনও খাবার অর্ডার দিত। এসবের মধ্যে কেউ ভুল বা অন্যমনস্কতায় ল্যাপটপ, মোবাইল বা অন্য কোনও সামগ্রী টেবিলে ফেলে রেখে বাইরে গেলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সেসব হাতিয়ে তড়িঘড়ি হোটেল ছাড়ত সে। পরের গন্তব্য হতো অন্য কোনও রেস্তরাঁ। বেশ কিছুদিন ধরে এই কারবার চালালেও নির্দিষ্ট অভিযোগ না আসায় পার পেয়ে যাচ্ছিল অভিযুক্ত। গত শনিবার পার্ক স্ট্রিট এলাকার একটি রেস্তরাঁয় এক ব্যক্তির ল্যাপটপ, মোবাইল খোয়া যাওয়ার অভিযোগ জমা পড়ে। তার ভিত্তিতে রবিবার পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার হয়েছে চুরি যাওয়া ল্যাপটপ সহ বিভিন্ন সামগ্রী।
পুলিস সূত্রে জানা যাচ্ছে, বালিগঞ্জ প্লেসে বাড়ি হলেও সে নিউ মার্কেট এলাকার একটি নামী হোটেলে রুম ভাড়া নিয়ে কিছুদিন থাকছিল। প্রতিদিন বিকেল ৩টে নাগাদ হোটেলের ঘর থেকে বেরিয়ে যেত সে। রাত করেই রুমে ফিরত। একইভাবে শনিবার সন্ধ্যায় সে পার্ক স্ট্রিটের একটি রেস্তঁরায় যায়। এক সময় সে লক্ষ্য করে, এক ব্যক্তি মোবাইলে কথা বলতে বলতে টেবিল থেকে উঠে গিয়েছেন। টেবিলে তখনও পড়ে রয়েছে তাঁর ল্যাপটপ ও অন্য একটি মোবাইল। সেগুলি হাতিয়ে তড়িঘড়ি চম্পট দেয় ক্যানবিস। টেবিলে ফিরে এসে ওই ব্যক্তি দেখেন, তাঁর সব জিনিস উধাও। ঘটনার কথা রেস্তঁরা কর্তৃপক্ষকে জানানোর পাশাপাশি তিনি পার্ক স্ট্রিট থানায় অভিযোগ করেন। তদন্তে নেমে পুলিস ওই রেস্তরাঁর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। এক মহিলাকে চিহ্নিত করা হয়। তারা জানতে পারে, ওই মহিলা নিউ মার্কেট এলাকায় একটি হোটেলে উঠেছেন। সেখানে হানা দিয়ে পুলিস ক্যানবিসকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, পার্ক স্ট্রিটের একাধিক হোটেল ও রেস্তঁরায় সে এই কায়দায় চুরি করেছে এবং সেসব সাজিয়ে রেখেছে ‘গ্যালারি’তে।
সত্যজিৎ রায় লিখেছিলেন বারীন ভৌমিকের ব্যারামের কথা! অভাব তাঁরও ছিল না। ছিল বলতে স্বভাব। চুরির! এঁদের বলে ক্লেপটোম্যানিয়াক।