নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক ও সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: ওড়িশা থেকে কাজের তাগিদে পূর্ব মেদিনীপুর এসেছিলেন তিন ভাই। কিন্তু ট্রলার দুর্ঘটনায় নিখোঁজ তাঁরা। তিনজন জীবিত নাকি মৃত, নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ ন’জনের দেহ চিহ্নিত করা যায়নি। আর নিখোঁজ রয়েছেন আরও ছ’জন। ফলে উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগে রয়েছে মৎস্যজীবীদের পরিবার। সোমবার কাকদ্বীপ হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই তিন ভাইয়ের আত্মীয়স্বজনরা। ভাগ্যে কী রয়েছেন, ভেবে পাচ্ছেন না তাঁরা।
ওড়িশার বালেশ্বরের বাসিন্দা রবীন্দ্র মাঝি, জগন্নাথ মাঝি ও জয়ারাম মাঝি ১ জুলাই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। দুটি বাইকে করে তিন ভাই শঙ্করপুর মৎস্যবন্দরে আসেন। তার পরেরদিন, অর্থাৎ ২ জুলাই তাঁরা ওই ১৫ জনের দলের সঙ্গে মাছ ধরার জন্য গভীর সমুদ্রে পাড়ি দেন। যাওয়ার আগে তাঁরা ফোন করে পরিবারকে জানিয়েছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও তাঁদের আর ফেরা হয়নি। রবিবার পরিবারের লোকজন জানতে পারেন, ওই ট্রলারটি ডুবে গিয়েছে। তারপর থেকে মাঝি পরিবারে শুধুই কান্নার রোল। এ বিষয়ে তাঁদের আত্মীয় সন্ন্যাসী মাঝি বলেন, ছোটোবেলা থেকেই তিন ভাইয়ের খুব মিল ছিল। তাঁরা বেশিরভাগ সময় একই সঙ্গে কাটাতেন। কিন্তু একই সঙ্গে যে তিন ভাই নিখোঁজ হয়ে যাবেন, তা পরিবারের কেউই কল্পনা করতে পারছেন না।
রবিবার রাতে দেহ উদ্ধারের খবর আসতেই মন্দারমণি কোস্টাল থানার অধীন চাঁদপুরের বিবেকানন্দ গিরি, দক্ষিণ বলরামপুর গ্রামের প্রদীপ মাজি, শঙ্করপুরের অচিন্ত্য মাজি, বোধড়া সংলগ্ন কয়সা গ্রামের নিত্যানন্দ রাউত, সুনীল রাউতদের বাড়িতে কান্নার রোল। ১৫ জন মৎস্যজীবীর পরিবারে এখন তীব্র আর্তনাদ। গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গত ৬ জুলাই থেকে নিখোঁজ মৎস্যজীবী পরিবারের সদস্যরা যে যন্ত্রণাদায়ক অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন তার অবসান হল বটে, কিন্তু তাতে আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। পরিবারের রোজগেরে সদস্যদের হারিয়ে তাঁরা নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। তবে মৎস্যজীবী মহল থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্তাদের একটাই প্রশ্ন, একটি ট্রলার থেকে কীভাবে ১৫ জনই দুর্ঘটনায় পড়ল? পূর্বে দেখা গিয়েছে, যে কোনো দুর্ঘটনায় একজন হলেও জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনা একেবারেই ব্যতিক্রমী।