শ্রীনগর: প্রথমে জিজ্ঞাসা করা হয় হিন্দু না মুসলিম। তারপর কলমা পড়তে বলা হয়েছিল। কলমা পড়তে না পারায় মুহূর্তের মধ্যেই গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার পহেলগাঁওতে লস্কর জঙ্গিদের হামলায় এমনই ভয়ঙ্কর দৃশ্যের কথা তুলে ধরলেন মৃত পর্যটকদের পরিজনরা।
শ্রীনগর: প্রথমে জিজ্ঞাসা করা হয় হিন্দু না মুসলিম। তারপর কলমা পড়তে বলা হয়েছিল। কলমা পড়তে না পারায় মুহূর্তের মধ্যেই গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার পহেলগাঁওতে লস্কর জঙ্গিদের হামলায় এমনই ভয়ঙ্কর দৃশ্যের কথা তুলে ধরলেন মৃত পর্যটকদের পরিজনরা।
মাস দুয়েক বিয়ে হয়েছে। পহেলগাঁও বেড়াতে গিয়েছিলেন কানপুরের শুভম দ্বিবেদী। সোমবার রাতে হোটেলের ঘরে পরিবারের সঙ্গে তাস খেলার ভিডিও শেয়ার করেছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন নবদম্পতি। কিন্তু মুহূর্তেই সব শেষ। শুভমের এক আত্মীয়র কথায়, ‘ওরা ম্যাগি খাচ্ছিল। হঠাৎ দু’জন এসে জিজ্ঞাসা করে- তারা মুসলিম কি না? এরপর শুভমকে কলমা পড়তে বলা হয়। আর কলমা পড়তে না পারায় শুভমের মাথায় গুলি করা হয়। পরে তার স্ত্রীকে বলা হয়, তোকে ছেড়ে দিলাম। বাড়ি ফিরে সরকারকে জানাবি আমাদের কথা।’ একই পরিস্থিতির শিকার হন পুনের ব্যবসায়ী সন্তোষ জগদালে। মেয়ে আশাভরীর কথায়, ভয়ে একটা তাঁবুর ভিতরে ঢুকে গিয়েছিলাম। জঙ্গিরা তাঁবু থেকে বাবাকে বেরিয়ে আসতে বলে। বাবাকে কলমা পড়তে বলা হয়। না পারায় মাথায়, কানে ও পিঠে তিনটি গুলি করা হয়। আমার চোখের সামনেই বাবাকে মেরে ফেলে ওরা।
জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয়েছে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা ভারত ভূষণের(৪১)। স্ত্রী সুজাতা ও তিন বছরের ছেলের সামনেই গুলি করা হয় প্রাক্তন আইটি কর্মীকে। মৃতের শাশুড়ির কথায়, ‘মঙ্গলবার ফোনে মেয়ের সঙ্গে কথা হয়। প্রথমে ওরা আধার কার্ড দেখতে চাইছিল। পরে জিজ্ঞাসা করে হিন্দু না মুসলিম। তারপরই গুলি চালাতে শুরু করে। আমার জামাইয়ের কোলে তখন নাতি ছিল। ভয়ে বাচ্চাটিকে নামিয়ে দেয় জামাই। এরপর তাঁর মাথায় গুলি করে জঙ্গিরা। জামাই মাটিতে লুটিয়ে না পড়া পর্যন্ত প্রায় তিন মিনিট ধরে গুলি চালাতে থাকে।