নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতায় ফুটপাতে লাইন দিয়ে বসে দর্শনার্থীরা। চিৎকার চলছে। কথা শুনে মনে হবে যেন ঝগড়া করচে সবাই। আদপে তা নয়। মণ্ডপ ঘোরার পর আয়োজকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন দর্শনার্থীরা। অভিযোগ কি? ‘ইচ্ছা করে আটকে দিচ্ছে। প্ল্যান করে ভিড় বাড়াচ্ছে। আটকে দিয়ে দেখাচ্ছে অনেক ভিড় জমেছে।’ দক্ষিণ শুধু নয়, উত্তর কলকাতাতেও ঠাকুর দেখতে এসে একই অভিযোগ বহু দর্শনার্থীর।
শহরের কয়েকটি নামকরা বিরিয়ানির দোকানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠে, টেবিল ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও তারা মানুষকে রেস্তরাঁর বাইরে আটকে রাখেন এটা বোঝাতে যে, প্রচুর লোক খেতে এসেছে। এবার পুজোর উদ্যোক্তাদের একাংশের বিরুদ্ধেও এই কৌশল নেওয়া অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। বজবজের বাসিন্দা স্বপ্ননীল রায় বলেন, ‘এতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। অতক্ষণ ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা যায় বলুন? এবার যেন এসব আরও বেশি হচ্ছে।’ দক্ষিণ কলকাতার একটি পুজো মণ্ডপের সামনে স্বেচ্ছাসেবকের সঙ্গে একদল দর্শনার্থীর রীতিমতো উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। ‘কেন এভাবে আটকে রাখছেন?’ স্বেচ্ছাসেবকের উত্তর, ‘একটু অপেক্ষা করলে তো আপনারাই ভালো করে দেখতে পাবেন।’ এই শুনে দর্শনার্থীরা রণংদেহী। তাঁরা বলছেন, ‘মণ্ডপে ঢুকলেই তো বাঁশি বাজানো শুরু করে দেবেন। দাঁড়াবেন না দাঁড়াবেন না, শুরু করবেন। এই লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র দু’মিনিটের জন্য মণ্ডপে থাকার কোনও মানে হয়?’ উত্তর কলকাতার এক মণ্ডপে একজন ভলান্টিয়ারকে বলছেন, ‘আপনারা কি মণ্ডপ থেকে দর্শনার্থীদের বের করার জন্য দাঁড়িয়ে রয়েছেন?’ ভলান্টিয়ারদের বক্তব্য, ‘নিয়ম তো মানতেই হবে।’ ষষ্ঠীতে দক্ষিণ কলকাতার একটি নামজাদা মণ্ডপে ঢুকেই একদল তরুণ ভলান্টিয়ারদের বললেন, ‘বাঁশি বাজাতে হবে না। এখনই বেরিয়ে যাচ্ছি। বেরতেই তো এসেছি।’ কটাক্ষ কানে নিতেই নারাজ ভলান্টিয়াররা। তাঁরা বাঁশি বাজিয়েই চললেন।’
ভিড় নিয়ন্ত্রণ শুধু যে মণ্ডপের বাইরে হচ্ছে, এমন নয়। শহরের বড় রাস্তার মোড়গুলিতেও কলকাতা পুলিসের ভলান্টিয়াররা ভিড় নিয়ন্ত্রণ করছেন। অনিয়ন্ত্রিত ভিড় দেখা যাচ্ছে শুধুমাত্র বাসে। কন্ডাক্টররা যাত্রী তুলেই চলেছেন। তা নিয়েই বাসের ভিতর ঠাসা ভিড়ের মধ্যেই চলছে বচসা। ষষ্ঠীর বিকেলে রাসবিহারী মোড়ে ভিড় করে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা। এদিকে গড়িয়াহাটগামী বাস ফাঁকা। কন্ডাক্টর ‘রুবি, গড়িয়াহাট’ বলে হাঁকছেন। কিন্তু ভিড় নেই। চালক পরামর্শ দিলেন, ‘ত্রিধারা, একডালিয়া, বোসপুকুর’ বলে হাঁক দিতে। আর তাতে সত্যিই ম্যাজিক। হু হু করে লোক উঠতে শুরু করল বাসে। বচসা হোক বা অভিযোগ থাকুক, এসব নিয়েই চলছে শহরের উত্সবদিন।