Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

থার্মোকলের কাজ বন্ধ করতে হবে অবিলম্বে, পুজোর মুখে পুলিসি অভিযান, মাথায় হাত কুমোরটুলির শিল্পীদের

পুজোর মুখে কুমোরটুলিতে থার্মোকল ব্যবহার রুখতে শুরু হয়েছে ব্যাপক অভিযান।

থার্মোকলের কাজ বন্ধ করতে হবে অবিলম্বে, পুজোর মুখে পুলিসি অভিযান, মাথায় হাত কুমোরটুলির শিল্পীদের
  • ২০ আগস্ট, ২০২৫ ১৫:০৮
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর মুখে কুমোরটুলিতে থার্মোকল ব্যবহার রুখতে শুরু হয়েছে ব্যাপক অভিযান। পুলিসের কড়াকড়ির ফলে আতঙ্ক বাড়ছে মৃৎশিল্পীদের মধ্যে। প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, পরিবেশ দূষণ রোধে প্রতিমার সাজসজ্জায় থার্মোকলের ব্যবহার নিষিদ্ধ। এ নিয়ে সরকারিভাবে প্রচারও চালানো হয়। তবে মৃৎশিল্পীদের বক্তব্য, পুজোর ঠিক আগে পুলিসের এই তৎপরতা প্রবল সমস্যায় ফেলেছে তাঁদের।

Advertisement

শিল্পীদের বক্তব্য, বর্তমানে দফায় দফায় সাদা পোশাকে আসছে পুলিস। নমুনা সংগ্রহ করছে। ইতিমধ্যেই পুলিস বেশ কিছু শিল্পীর ব্যবসার জায়গায় গিয়ে ছবি তুলে নিয়ে গিয়েছে। সবমিলিয়ে নানা ধরনের খবর ছড়িয়ে পড়ছে কুমোরটুলিতে। বাড়ছে বিভ্রান্তি। আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন শিল্পীরা। তৈরি হচ্ছে ক্ষোভ। কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংগঠনের দুই কর্মকর্তা বাবু পাল ও রঞ্জিত সরকার মঙ্গলবার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘রবিবার কুমোরটুলির বিভিন্ন  মৃৎশিল্পী সংগঠন শ্যামপুকুর থানায় যায়। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। পুলিসকে বলা হয়েছে যেভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে, তাতে পুজোর মুখে আতঙ্ক বাড়ছে। এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কয়েকশো শিল্পীর রুটিরুজির সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে সমস্যার কোনও সমাধান এখনও হয়নি। ফলে আমরা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি। এই মুহূর্তে বিকল্প কোনও ব্যবস্থা নেই আমাদের। ফলে কোনও আশার আলো দেখা যাচ্ছে না।’ 
মঙ্গলবার রবীন্দ্র সরণি, বনমালি সরকার স্ট্রিট, কুমোরটুলি স্ট্রিট সহ পটুয়াপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘুরে দেখা গিয়েছে, যে শিল্পীরা প্রতিমার সাজসজ্জা তৈরি করেন তাঁরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। বহু শিল্পী থার্মোকল প্রকাশ্যে রাখছেন না। আড়ালে রেখে বা থার্মোকলের উপর সাদা কাগজ লাগিয়ে ডিজাইনের কাজ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে থার্মোকল ও জরির কাজ করেন শিল্পী বিশ্বনাথ দে। তিনি বলেন, ‘পুজো দোরগোড়ায়। বারবার পুলিস এলে আমরা কীভাবে ব্যবসা করব। আমাদের আন্দোলন করা ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই।’ প্রবীণ সাজশিল্পী প্রদীপ দে বলেন, ‘ইতিমধ্যেই থার্মোকলের সাজের কাজ অনেক এগিয়ে গিয়েছে। অনেক টাকার বরাত এসে গিয়েছে। এখন কাজ বন্ধ করলে বহু টাকার ক্ষতি। এই ক্ষতি সহ্য করা দরিদ্র শিল্পীদের পক্ষে সম্ভব নয়। আগে পুলিস পদক্ষেপ নিলে আমাদের এই সমস্যায় পড়তে হতো না।’ 
অন্যদিকে পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের বক্তব্য, থার্মোকলের ব্যবহার অনেক আগে থেকেই নিষিদ্ধ দেশজুড়ে। ফলে প্রশাসনিক এই অভিযান যুক্তিযুক্ত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে পুজোর অনেক আগে থেকে লাগাতার প্রচার অভিযান চালানোর প্রয়োজন ছিল। পুজোর মুখে এই অভিযান চালালে ক্ষতি হবে শিল্পীদের। তাঁরা সমস্যার মুখে পড়বেন। কলকাতা পুলিসের বক্তব্য, দূষণ রোধে যে গাইডলাইন রয়েছে তা মেনে চলার কথা বলা হয়েছিল মৃৎশিল্পীদের। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ