Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই থেকে দূষণ, বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের

রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাইয়ের দূষণে অতিষ্ঠ রঘুনাথপুর ২ নম্বর ব্লকের পাবড়া গ্রাম। যার জেরে গ্রামবাসীদের মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে

রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই থেকে দূষণ, বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের
  • ১১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাইয়ের দূষণে অতিষ্ঠ রঘুনাথপুর ২ নম্বর ব্লকের পাবড়া গ্রাম। যার জেরে গ্রামবাসীদের মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অথচ কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ করছে না। দূষণে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা রবিবার রাতে গ্রামের ছাইপুকুরে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। সোমবার ওই পুকুর থেকে ছাই উত্তোলনের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করে ততদিন পর্যন্ত পুকুর থেকে ছাই তুলতে দেওয়া হবে না।

Advertisement

রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আধিকারিক কে পি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কারখানা হলে তো এলাকায় সামান্য ছাই উড়বেই। তাও আমরা যতটা সম্ভব ছাই যাতে না ওড়ে তার ব্যবস্থা করেছি। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তরফ থেকে এলাকার উন্নয়নের জন্য সবরকম কাজ করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত গ্রামবাসীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি। তারপরেও কিছু ব্যক্তির জন্য কাজ আটকে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাবড়া গ্রামের অদূরে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাইপুকুরটি রয়েছে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা পোড়ানোর পর যে ছাই তৈরি হয় তা পাইপ লাইনের মাধ্যমে ওই পুকুরে গিয়ে জমা হয়। পরবর্তী সময়ে ছাই শক্ত হয়ে যায়। তখন সেই শক্ত ছাইকে মেশিনের দ্বারা তুলে লরি, ডাম্পারের মাধ্যমে সিমেন্ট কারখানা, ফ্লাইঅ্যাশ ইট তৈরি, গর্ত ভরাটের মতো কাজে ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হয়। অভিযোগ, ছাই শুকিয়ে যাওয়ার পর বাতাসে ওড়ে। এছাড়া মেশিন দিয়ে লরি, ডাম্পারে লোড করার সময় ছাই উড়তে থাকে। এদিন বাসিন্দারা সমস্ত গাড়ি দাড় করিয়ে দেন। ছাই তোলার মেশিন বন্ধ রাখার জন্য জানানো হয়েছে।
বাসিন্দারা বলেন, গ্রামের মানুষ ছাই খাচ্ছে। অথচ কারখানায় বহিরাগতদের কাজ দেওয়া হচ্ছে। ছাই সরবরাহের দায়িত্ব প্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থাকে ছাই যাতে না ওড়ে তার জন্য পদক্ষেপ করার কথা জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি গ্রামের উন্নয়নের জন্য বার্ষিক আর্থিক সহযোগিতা করার কথাও জানানো হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদার সংস্থার তরফ থেকে গত তিন বছর ধরে এলাকার উন্নয়নের জন্য এক টাকাও দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে দূষণ রোধের বিষয়টিও এড়িয়ে গিয়েছে। তাই গ্রামের সকলে মিলে একটি কমিটি গঠন করে ওই দিন বিক্ষোভ দেখায়।
গ্রাম কমিটির সদস্য হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। ঠিকাদার সংস্থা নিজের ইচ্ছা মতো কাজ করে যাচ্ছে। তাই আমরা বিক্ষোভ দেখিয়েছি। বিজেপি বিধায়ক নদিয়ারচাঁদ বাউরি বলেন, গ্রামবাসীদের দাবি নায্য। আমি গ্রামবাসীদের সঙ্গে রয়েছি।
তৃণমূলের জেলা সম্পাদক স্বপন মাহাথা বলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। সেই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ কোথায়, কী কাজ করবে তা নিয়ে কিছুই জানাচ্ছে না। ফলে গ্রামবাসীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। যার ফলে ক্ষোভ, বিক্ষোভ উঠে আসছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ