নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: রামনবমী উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে মেদিনীপুর শহরের মির্জাবাজার গোয়ালাপাড়া এলাকার সুভাষ সঙ্ঘ ব্যায়ামাগার ক্লাব। এই ক্লাবের উদ্যোগে রামনবমীর অনুষ্ঠানে নানা চমক থাকছে। ৬ এপ্রিল রামনবমীর পুজো। ৭এপ্রিল হবে শোভাযাত্রা। ওই শোভাযাত্রায় মুম্বই ও দক্ষিণ ভারতের বাজনাশিল্পীরা থাকছেন। শোভাযাত্রায় কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হবে বলে আশাবাদী উদ্যোক্তারা। একইসঙ্গে রামনবমীর পুজো নিষ্ঠা সহকারে করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
ক্লাবের কর্তারা জানাচ্ছেন, প্রতি বছর ধুমধাম করে রামনবমী পালন করা হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। মূলত ‘সম্প্রীতি’ থিমের উপর ভিত্তি করেই রামনবমী পালন করা হয়। এছাড়া এবছর থাকছে অত্যাধুনিক আলোকসজ্জা। ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা শুরু হবে। ক্লাব কমিটির সভাপতি মেদিনীপুরের বিধায়ক সুজয় হাজরা বলেন, রামনবমী নিয়ে জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে। এবছর রেকর্ড ভিড় হবে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এই উৎসবে অংশ নেবেন। আমাদের একটাই নীতি, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। ক্লাবের সদস্য প্রসেনজিৎ বেরা বলেন, ভিনরাজ্য থেকে আসা শিল্পীদের বাজনা শুনতে বহু মানুষ আসবেন। আমাদের ক্লাবের মূলমন্ত্র একতা।
প্রায় ৭৫ বছর আগে মেদিনীপুর শহর এলাকায় খেলাধুলোর প্রসারে এই ক্লাবের সূচনা হয়। প্রথমদিকে একটি ছোট ঘরেই ক্লাবের সদস্যদের আড্ডার আসর বসত। মানিক সিং, রবি হাতি, মধুসূদন দাস ফুটবল খেলায় এই ক্লাবের নাম উজ্জ্বল করেছেন। এই ক্লাব প্রাঙ্গণে বহু বছর আগে থেকেই লাঠি খেলা, কুস্তির প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। এখনও অনেকে লাঠিখেলার প্রশিক্ষণ নেন। প্রয়াত গুণধর দাস, বসন্ত দাস ও আসিত দাস খেলাধুলোর পাশাপাশি দক্ষ সংগঠক ছিলেন। ক্লাবের সদস্য রাহুল দাস, সমীর বেরা, চুটাই অধিকারী বলেন, আমাদের লক্ষ্য খেলাধুলোর বিকাশ। গত কয়েক বছরে ক্লাবের পরিকাঠামোগত বদল হয়েছে। ক্লাবের মাল্টি জিম রয়েছে। আগামী দিনে খেলাধুলোর পরিবেশ বজায় রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খেলাধুলো ছাড়াও বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত এই ক্লাবের সদস্যরা। ক্লাবের সদস্যদের উদ্যোগে রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়। এছাড়া করোনা পরিস্থিতির সময় ক্লাব সদস্যদের ভূমিকা মানুষের প্রশংসা কুড়িয়ে ছিলেন। ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সোমনাথ দাস ও সদস্য ঋজু রাউত বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের উদ্দেশ্য। কোনও মানুষ সমস্যায় পড়লে সকলেই ছুটে যাই। আগামী দিনেও মানুষের পাশে থাকব।