নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বরানগরের শম্ভুনাথ দাস লেনে শংকর জানার সোনার দোকানের ড্রয়ারে আরও সাড়ে ছ’কেজি সোনা ও নগদ টাকা ছিল। কিন্তু তা না নিয়েই চম্পট দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। পরে পুলিশ তা উদ্ধার করে। ধৃতরা জেরায় জানিয়েছে, এমনিতেই লুটের গয়নায় ব্যাগ উপচে পড়ছিল, তাই নগদ কয়েক লক্ষ টাকা দেখেও তারা হাত দেয়নি। কারণ নগদ টাকায় ব্যাগ ভরলে সোনার গয়না নেওয়ার জায়গা থাকত না। বরানগরের সোনার হোলসেল দোকানে ডাকাতি ও খুনের কাণ্ডে বাকি দুই দুষ্কৃতীর খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে বিহারের বাসিন্দা পুরনো এক হিস্ট্রি শিটারের খোঁজে বারাকপুর কমিশনারেটের গোয়েন্দা বাহিনীর পৃথক টিম বিভিন্ন জায়গায় হানা দিচ্ছে।
বরানগরের সোনাপট্টির ব্যবসায়ী শংকর জানার খুন ও কয়েক কেজি সোনা লুটের ঘটনার তদন্তে নেমে মূল ষড়যন্ত্রকারী সঞ্জয় মাইতি সহ মোট পাঁচজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুই দুষ্কৃতী এখনও অধরা। তাদের মধ্যে বিহারের ওই দুষ্কৃতীর কাছেই রয়েছে লুটের বেশ কিছু পরিমান সোনা। ঘটনার দিন সে মূলত জামা ও প্যান্টের বিভিন্ন পকেটে ভারী সোনার চেন ভর্তি করে নিয়ে গিয়েছে। অপর দুষ্কৃতীটি এই রাজ্যের। তার বাড়ি দমদম এলাকায়। খুন-লুটের দিন ক্রেতা সেজে সুরজিৎ শিকদারের সঙ্গে তাকে শংকরবাবুর দোকানে ঢুকতে দেখা গিয়েছিল। তদন্তকারীরা জেনেছেন, তার কাছেও কিছু সোনা রয়েছে। দুই দুষ্কৃতীর খোঁজে কমিশনারেটের একাধিক টিম বিভিন্ন জায়গায় ঢুঁ মারছে। ধৃতরা দ্রুত জায়গা বদল করে গা ঢাঁকা দিচ্ছে।
ঘটনার পর দিন সকালে পুলিশ শংকরবাবুর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে নিয়ে দোকানে তল্লাশি চালিয়েছিল। তাতে দেখা যায়, দুষ্কৃতীরা একটি ড্রয়ার থেকে যাবতীয় সোনা নিয়ে গিয়েছে। শঙ্করবাবু যে চেয়ারে বসেছিলেন তার ডানদিকের ড্রয়ার থেকে সোনা লুট করা হয়েছে। কিন্তু বামদিকের ড্রয়ারটি ছিল অক্ষত। সেখান থেকে ৬ কেজি ৪৭০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া আরও একটি ড্রয়ারে সোনা বিক্রির প্রায় ১ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা ছিল। সেই টাকা ও সোনা পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জেনেছে, ধৃতরা ওইদিন তিনটে সাত মিনিটে দোকানে ঢুকেছিল। বেরিয়েছে তিনটে ২২ মিনিটে। পাক্কা ১৫ মিনিটের অপারেশন! আগে থেকেই যা পরিকল্পিত ছিল বলে পুলিশ মনে করছে। তদন্তকারীরা বলছেন, লুটের সোনা নিয়ে যাওয়ার জন্য দুষ্কৃতীরা একটি ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে এসেছিল। সেই ব্যাগ ভর্তি হয়ে যাওয়ায়, বাকি টাকা ও সোনা তারা ছুঁয়ে দেখেনি। ধৃতরাই সে কথা জানিয়েছে জেরায়। তারা দাবি করেছে, যে পরিমাণ সোনা থাকার খবর তাদের কাছে ছিল, সেই মতোই ব্যাগের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু দোকানে সোনা ও নগদের পরিমাণ যে তাদের ধারণার বাইরে থাকবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি ধৃতরা। তাই পকেট ভরতি করে নেওয়ার পরও সোনা থেকে গিয়েছে ড্রয়ারে।