নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলি জানিয়েছে, অতীতে চারবার ‘সুপার এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ১৮৭৭-৭৮ সালের সুপার নিনোর তীব্রতার মাপকাঠি ও বৃষ্টির পরিমাণের বিজ্ঞানসম্মত তথ্য মেলেনি। ১৯৮২, ১৯৯৭ ও ২০১৫ সালে তীব্রতা ছিল মোটামুটি ২ থেকে ২.৫ এর মধ্যে। কিন্তু ওই তিনটি সময়ে দেশে বর্ষাকালীন বৃষ্টি কিন্তু খুব খারাপ হয়নি। ১৯৮২ সালে সর্বকালীন গড়ের থেকে ১১.৪ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছিল। ২০১৫ সালে ছিল ১২.৭ শতাংশ। আর ১৯৯৭-এ তো দেশে বৃষ্টি হয়েছিল গড়ের থেকে ০.২ শতাংশ বেশি। এখনো পর্যন্ত দেশে সর্বকালীন কম (২২.৩ শতাংশ) বৃষ্টি পেয়েছে ১৯৭২ সাল। সেবার মাঝারি তীব্রতার এল নিনো হয়েছিল। দুর্বল এল নিনোর ২০০২ সালে ঘাটতি হয়েছিল ২০.৩ শতাংশ।
তাই আবহাওয়াবিদদের অনেকেই বলছেন, এল নিনো ভীষণ তীব্র হলেই যে দেশে খুব কম বৃষ্টি হবে, এমনটা নয়। দুইয়ের মধ্যে সম্পর্কটি ভীষণ নিবিড় নয়। ভারত মহাসাগরের ‘পজিটিভ ডাইপোল’ পরিস্থিতি এল নিনোর নেতিবাচক দিকটিকে অতীতে রুখেছিল। জানাচ্ছেন আবহাওয়া দপ্তরের ডেপুটি ডিজি জি সি দেবনাথ। ১৯৮২, ১৯৯৭ ও ২০১৫ সালে বর্ষাকালে ডাইপোল পজিটিভ ছিল। কিন্তু ১৯৭২ সালে ডাইপোল পজিটিভ থাকলেও মাঝারি তীব্রতার এল নিনোতে এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে কম বৃষ্টি হয়েছিল।
এবার তীব্র এল নিনো পরিস্থিতি হতে চলেছে বলে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলেছে। অতীতের তীব্রতার রেকর্ড এবারের সুপার নিনো ভাঙতে পারে। রয়েছে এমনই আশঙ্কা। ইতিমধ্যে তীব্রতা ২ অতিক্রম করেছে। কোনো কোনো আবহাওয়া সংস্থা মনে করছে, তা ২.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। অতীতে তীব্র এল নিনোর সময়গুলিতে দেখা গিয়েছে, বর্ষার শেষদিক থেকে পরবর্তী শীতকাল পর্যন্ত এল নিনোর তীব্রতা ২-এর বেশি ছিল। এল নিনো জুলাই থেকে তীব্রতা বাড়ালেও দেশে এবার সার্বিক বৃষ্টির ঘাটতি ১২ শতাংশের বেশি। দেশের অনেক জায়গায় কম বৃষ্টি হয়েছে। আবার স্বাভাবিক বৃষ্টি হয়েছে কম অঞ্চলেই।আবহাওয়াবিদরা কেউ কেউ মনে করেন, ১৮৭৭ সালে যে এল নিনো শুরু হয়েছিল তার তীব্রতা ৩ মাত্রা অতিক্রম করেছিল। বিষয়টি নিয়ে মতভেদও আছে অবশ্য। সর্বোচ্চ তীব্রতা ২.৫-এর আশপাশে ছিল, মত অনেকের। ওইসময় বিজ্ঞানসম্মতভাবে এই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করার সুযোগ ছিল না। তবে কম বৃষ্টির ফলে ভারত, চীনসহ অনেক দেশেই খরাজনিত কারণে বিপুল মৃত্যুর তথ্যও আছে।



