নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন যে বাজেট পেশ করলেন, তাতে রীতিমতো হতাশ আবাসন শিল্পমহল। তাদের বক্তব্য, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক সুরাহা দেওয়া হয়নি এই বাজেটে। গোটা দেশেই সাধারণ মানুষের আয়ত্তের মধ্যে বাড়ি কেনার প্রবণতা কমছে। তা উদ্বেগের।
সব মানুষ যাতে মাথার উপর ছাদ পান, তার জন্য আবাসন প্রকল্পে কিছু আর্থিক সুরাহা দেয় সরকার। সেই সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে আয়ত্তের
মধ্যে বাড়ির নির্দিষ্ট সংজ্ঞাও আছে। এক্ষেত্রে মেট্রো শহরগুলিতে ফ্ল্যাটের আকার ৬০ বর্গমিটার বা তার কম হতে হবে এবং মেট্রো নয় এমন এলাকার ক্ষেত্রে তা হবে ৯০ বর্গমিটার বা তার কম। ফ্ল্যাটের দাম হতে হবে ৪৫ লক্ষ টাকার নীচে।
আবাসন নির্মাতা সংস্থাগুলির সংগঠন ক্রেডাইয়ের প্রেসিডেন্ট শেখর প্যাটেল বলেন, আমাদের সংগঠন অত্যন্ত আশাহত। কারণ, আয়ত্তের মধ্যে বাড়ি নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি বাজেটে। তাঁর কথায়, আয়ত্তের মধ্যে বাড়ি এখন কোনো সামাজিক কল্যাণমূলক বিষয় নয়। তা যেমন সাধারণ মানুষের চাহিদার অংশ, তেমনই তা দেশের পরিকাঠামো গড়তে এবং কর্মসংস্থানে সহায়তা দেয়। পাশাপাশি তা চাহিদা বৃদ্ধি করে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে। অর্থনীতিতে এগুলি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বর্তমানে আয়ত্তের মধ্যে বাড়ির যে সংজ্ঞা আছে, তা
পুরানো এবং বাস্তবের সঙ্গে মিল
নেই। পরিস্থিতি এমনই, দেশে যত আবাসন প্রকল্প তৈরি হচ্ছে, তার মাত্র ১৮ শতাংশ দখলে রেখেছে
আয়ত্তের মধ্যে বাড়ি বা অ্যাফর্ডেবল হাউজিং। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে তা ১২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। যেভাবে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, জমির দাম চড়ছে, তাতে সরকার যদি আবাসন নির্মাতাদের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে
আয়ত্তের মধ্যে বাড়ি তৈরির হার ক্রমশ কমবে। মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য তা অত্যন্ত
চাপের। যদি এই ধরনের বাড়ি তৈরির প্রবণতা ক্রমশ কমতেই থাকে, তাহলে বাড়ি ভাড়া বাড়বে, সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ বাড়বে। পাশাপাশি অসংগঠিতভাবে ফ্ল্যাটবাড়ি তৈরির প্রবণতা বাড়বে। তা যে ক্রেতাদের জন্য মোটেই কাজের
কথা নয়, বুঝিয়েছেন সংগঠনের কর্তারা।
ক্রেডাই ওয়েস্ট বেঙ্গলের প্রসিডেন্ট সুশীল মোহতা বলেন, আমরা চাই, সরকার দ্রুত এই নিয়ে নীতি নির্ধারণ করুক। আয়ত্তের মধ্যে বাড়ির দামের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানো হোক। পাশাপাশি এই বাজেটে জিএসটিতে সুরাহা দেওয়া হয়নি, ইনপুট ট্যাক্স
ক্রেডিট নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সরকার যেভাবে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ সৃষ্টিতে জোর দিয়েছে, ছোটো শহরগুলির পরিকাঠামো বৃদ্ধিতে বরাদ্দ বাড়িয়েছে, তা সামগ্রিকভবে আগামীদিনে আবাসন শিল্পে সদর্থক প্রভাব ফেলবে বলে আশাবাসী আমরা।