সংবাদদাতা, পতিরাম: বালুরঘাটের কাঁশিয়া খাঁড়িতে নেই জল। গরম পড়তেই খাঁড়ি শুকিয়ে গিয়েছে। জলের অভাবে নেই মাছ। চাষের কাজেও ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। চরম সমস্যায় পড়েছে মৎস্যজীবী ও চাষিরা। অনেকেই এলাকা ছেড়ে ভিনজেলায় পাড়ি দিয়েছেন কাজের খোঁজে।
সংবাদদাতা, পতিরাম: বালুরঘাটের কাঁশিয়া খাঁড়িতে নেই জল। গরম পড়তেই খাঁড়ি শুকিয়ে গিয়েছে। জলের অভাবে নেই মাছ। চাষের কাজেও ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। চরম সমস্যায় পড়েছে মৎস্যজীবী ও চাষিরা। অনেকেই এলাকা ছেড়ে ভিনজেলায় পাড়ি দিয়েছেন কাজের খোঁজে।
স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীদের বক্তব্য, সংস্কারের অভাবে ক্রমশ বুজে আসছে কাঁশিয়া খাঁড়ি। বছর তিনেক আগে খাঁড়ি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। কিন্তু পরে আর সংস্কার হয়নি। সম্প্রতি নদীতে জল না থাকায় এবং বৃষ্টি না হওয়ায় এই খাঁড়ির জল শুকিয়ে গিয়েছে।
বালুরঘাটের বিডিও সম্বল ঝা বলেন, কাঁশিয়া খাঁড়ি কৃষি ও মাছ চাষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই খাঁড়ি সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এই খাঁড়ি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে উত্তরবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরাম। ফোরামের জেলা কনভেনার বিশ্বজিৎ বসাক বলেন, কাঁশিয়া খাঁড়িতে জল না থাকায় মাছ চাষ ও কৃষিকাজে সমস্যা হচ্ছে। জলসেচ করতে পারছেন না চাষিরা। কয়েক বছর ধরে জল না থাকায় খাঁড়িটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিশ্বজিতের কথায়, মাছ চাষ ছেড়ে অনেকে ভিনজেলায় পাড়ি দিচ্ছেন। খাঁড়ি সংস্কারের দাবিতে প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু কোনও লাভ হচ্ছে না।
কাঁশিয়া খাঁড়ির উৎপত্তি আসলে গঙ্গারামপুর ব্লকের প্রাণসাগর এলাকায় একটি জলাভূমি থেকে। এর পর খাঁড়িটি বালুরঘাটের আত্রেয়ীর সঙ্গে মিশে বাংলাদেশে চলে গিয়েছে। মূলত, ভাটরা, জলঘর, গঙ্গাসাগর দোগাচি সহ বিস্তীর্ণ এলাকা হয়ে বাংলাদেশে চলে গিয়েছে। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০ কিমি। কাঁশিয়া খাঁড়ির উপর বালুরঘাট ব্লকের অন্যতম কৃষিপ্রধান এলাকাগুলি নির্ভর করে। বর্তমানে খাঁড়ির অনেক অংশই সরু হয়ে গিয়েছে। এবং গতিপথ অবরুদ্ধ। বর্ষায় জল থাকলেও অন্য ঋতুতে একেবারেই জল থাকে না। কুয়ারণের ভবেশ হালদার বলেন, খাঁড়িতে মাছ ধরে আমরা জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু কয়েক বছর ধরে খাঁড়িতে বর্ষা ছাড়া অন্য সময় জল থাকে না। এতে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। গ্রামের অনেক মৎস্যজীবী কর্মহীন হয়ে ভিনরাজ্যে চলে গিয়েছেন।