Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল তৈরিতে জরুরি এফআরকে’র জোগানই নেই, কমতে পারে ধান কেনার গতি

রেশন গ্রাহকদের এখন পুষ্টি সমৃদ্ধ চাল দেওয়া হয়। এর জন্য সাধারণ চালের সঙ্গে নির্দিষ্ট অনুপাতে ফর্টিফায়েড রাইস কারনেল (এফআরকে) মেশাতে হয়।

পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল তৈরিতে জরুরি এফআরকে’র জোগানই নেই, কমতে পারে ধান কেনার গতি
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রেশন গ্রাহকদের এখন পুষ্টি সমৃদ্ধ চাল দেওয়া হয়। এর জন্য সাধারণ চালের সঙ্গে নির্দিষ্ট অনুপাতে ফর্টিফায়েড রাইস কারনেল (এফআরকে) মেশাতে হয়। কিন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু নিয়মের গেরোয় ২০২৫-২৬ খরিফ মরশুম শুরু হওয়ার পর দু’মাস কেটে গেলেও এফআরকে পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে সরকারি উদ্যোগে চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনা নিয়েও সংকট তৈরি হয়েছে। রাজ্য খাদ্যদপ্তরের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রকের কাছে এ ব্যাপারে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আপাতত সাধারণ চাল (এফআরকে মেশানো নয়)) যাতে রেশনে সরবারহ করা যায়, তার জন্য কেন্দ্রের অনুমতি চেয়েছে রাজ্য‌। কারণ, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রাজ্য সরকারকে চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে বা বন্ধ করে দিতে হবে। এই অবস্থায় চাষিরা কম দামে ধানের অভাবী বিক্রিতে বাধ্য হবেন বলেও কেন্দ্রীয় সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য। 

Advertisement

নতুন খরিফ মরশুমে ধান কেনার প্রক্রিয়া নভেম্বর মাস থেকে শুরু হয়েছে। কেনার পরেই চাল উৎপাদনের জন্য নির্দিষ্ট রাইস মিলে ওই ধান পাঠিয়ে দেওয়া হয়। খাদ্যদপ্তর  থেকে সম্প্রতি  পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৩.৯০ লক্ষ টন ধান থেকে উৎপাদিত ৯.৪৫ লক্ষ টন চাল রাইস মিলগুলিতে পড়ে রয়েছে। এফআরকে না পাওয়ার জন্য পুষ্টি সমৃদ্ধ চাল করা যাচ্ছে না। মেশানোর এই প্রক্রিয়া রাইস মিলেই হয়। এদিকে, রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী ক্রয় কেন্দ্রগুলিতে প্রচুর পরিমাণ ধান কেনা হচ্ছে। সেই ধানও  রাইস মিলগুলিতে জমা হচ্ছে। প্রচুর পরিমাণ ধান ও চাল মজুত করার ব্যবস্থা রাইস মিলে না থাকায় তা খারাপ হওয়ার আশঙ্কাও আছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারকে ধান কেনার পরিমাণ কমিয়ে বা একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে। এতে সংকটে পড়বেন ছোটো ও প্রান্তিক চাষিরা। তাঁরা কম দামে ধানের অভাবী বিক্রি করতে বাধ্য হবেন। এই অবস্থায় সেন্ট্রাল পুলে ৬.৮ লক্ষ টন সাধারণ চাল যাতে দেওয়া যায়, তার জন্য খাদ্যমন্ত্রকের অনুমোদন চেয়েছে রাজ্য খাদ্যদপ্তর।
সেন্ট্রাল পুল থেকে চাল এ রাজ্যের জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকা রেশন গ্রাহকদের সরবরাহ করা হয়। রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের তরফে বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, এফআরকে মিশ্রিত তথাকথিত পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল সরবরাহ করা পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করবেন। কারণ, এতে কাজের কাজ হচ্ছে না। বরং জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এফআরকে উৎপাদনে অনিয়ম চলছে। প্রসঙ্গত, অনিয়মজনিত কারণে এফআরকে-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দেরি হয়েছে। টেন্ডার হলেও গুণগত মান পরীক্ষার রিপোর্ট না আসার কারণে এফআরকে সরবরাহ হচ্ছে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ