সংবাদদাতা, মানকর: প্রায় আড়াই কিলোমিটার মেঠো পথ পেরিয়ে গ্রামে প্রবেশ করতে হয় আউশগ্রাম-২ ব্লকের দেবশালা পঞ্চায়েতের আমানিডাঙার বাসিন্দাদের। আলপথ ধরেই চলে যাতায়াত। জরুরি রোগী থেকে প্রসূতির প্রসব যন্ত্রণা উঠলেও তাড়াতাড়ি যাওয়ার উপায় নেই। ভসরা গোরুর গাড়ি কিংবা খাটে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া। অভিযোগ, নিয়ম করে ভোট আসে, ভোট যায়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণ হয় না। ফেরে না রাস্তার হাল। বারবার আবেদনেও মেলে না ফল। তাই দ্রুত রাস্তা নির্মাণের দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা।
আমানিডাঙায় প্রায় ১৫টি পরিবারের বাস। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রামে ঢোকা-বেরনোর পথ নেই। পিচ রাস্তা থেকে নেমে মাঠের আল ধরে যাতায়াত করতে হয়। যাতায়াতের জন্য দু’টি পথ। বুদবুদ থানার কাঁকোড়া হয়ে অথবা কাঁকসার পিয়ারিগঞ্জ হয়ে। আমানিডাঙা থেকে দু’দিকেই দূরত্ব প্রায় একই। কিন্তু কাঁকোড়ার দিক দিয়ে যেতে হলে কুনুর নদী ও ডুলে খাল পেরতে হয়। ফলে গোরুর গাড়ি বা হাঁটা ছাড়া আর উপায় নেই। স্থানীয় সঞ্জয় সরেন, রবিলাল সরেনরা জানান, চাষের সময়ে খেতের ফসল নষ্ট হয়ে যাবে বলে মাঠের উপর দিয়ে গোরুর গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায় না। তখন হাঁটা ছাড়া উপায় নেই। কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে গোরুর গাড়ি অথবা খাটে করে বয়ে নিয়ে যেতে হয়। রাতে অসুবিধায় পড়তে হয়। গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়তে হয়। তাছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশার জন্য কোনও অনুষ্ঠান হলে আত্মীয়রা আসতে ভয় পান।গ্রামে রয়েছে একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। কাঁকোড়া গ্রাম থেকে সেখানে আসেন কর্মী লুতফা খাতুন। তিনি বলেন, এখানে কাজ করার কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু কেন্দ্রে যাতায়াতের ব্যাপক সমস্যা পোহাতে হয়। বর্ষাকালে মাঠে চাষ শুরু হয়ে যায়। তখন কাদার মধ্যে খালি পায়ে আলপথ ধরে কেন্দ্রে আসতে হয়। বর্ষায় কুনুরের জল বাড়লে পিয়ারিগঞ্জ হয়ে যেতে হয়। কিন্তু সেখানেও একই সমস্যা হয়। মাঠে জোঁক, সাপের ভয় থাকে। রাস্তা হলে সুবিধা হবে। গ্রামের কয়েকজন ছেলেমেয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার হেঁটে পিয়ারিগঞ্জের স্কুলে যায়। স্থানীয়রা বলেন, আমানিডাঙা থেকে পিয়ারিগঞ্জ যাওয়ার রাস্তা কিছুটা ঢালাই হলেও সেই কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সারা বছরই পড়ুয়ারা আলপথ ধরে স্কুলে যায়। তবে বর্ষাকালে খুব সমস্যা হয়। তাঁরা জানান, এত সমস্যা থাকলেও পিতৃপুরুষের জমি, ভিটে ছেড়ে যেতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু চিকিৎসা সহ নানা অসুবিধার জন্য অনেকেই এলাকা থেকে উঠে গিয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। বিষয়টি নিয়ে আউশগ্রাম-২এর বিডিও চিন্ময় দাস বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখছি। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান বীথিকা মেটে বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখছি।