Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

কেন্দ্রের প্রচার নেই, কোন ওষুধের দামে বদল কতটা, জানেন না সিংহভাগ মানুষ, জিএসটি কমল না ইনসুলিনের!

নয়া হারে জিএসটি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনই দেখা গেল, বেশিরভাগ মানুষ জানেনই না, কোন ওষুধের দাম কতটা কমেছে। তাঁরা কেবল এটুকুই জানেন, জিএসটির নয়া হার কার্যকর হচ্ছে ওষুধেও। তাতে দাম কিছুটা কমছে এবং কেনাকাটায় তাঁরা লাভবানই হবেন।

কেন্দ্রের প্রচার নেই, কোন ওষুধের দামে  বদল কতটা, জানেন না সিংহভাগ মানুষ, জিএসটি কমল না ইনসুলিনের!
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নয়া হারে জিএসটি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনই দেখা গেল, বেশিরভাগ মানুষ জানেনই না, কোন ওষুধের দাম কতটা কমেছে। তাঁরা কেবল এটুকুই জানেন, জিএসটির নয়া হার কার্যকর হচ্ছে ওষুধেও। তাতে দাম কিছুটা কমছে এবং কেনাকাটায় তাঁরা লাভবানই হবেন। 

Advertisement

সোমবার বিভিন্ন ওষুধের দোকানে অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অব কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টসের তালিকা টাঙানো দেখা গেল। তাতে লেখা ওষুধের চার ধরনের নতুন জিএসটি হার (৬.২৫, ১১.০২, ৪.৭৭ এবং ১০.৭২)। ফলে বিল হচ্ছে নতুন দামেই। তবে তা সাধারণ মানুষের বোঝার জন্য কোনও সরকারি প্রচার চোখে পড়ল না। 
এদিকে বহু দোকানদারেরই বড়ো সমস্যা এখন কম্পিউটার সফটওয়্যার। সিটি সেন্টার লাগোয়া সল্টলেকের এক বড়ো দোকানের কর্তা যিশু সাহা ও বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, আমাদের সফটওয়ারে এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র ১২ থেকে কমে ৫ এবং ১৮ থেকে কমে ৫ শতাংশ পরিবর্তনের ওষুধগুলির দাম ধরা পড়ছে। ১২ থেকে কমে শূন্য কিংবা ১৮ থেকে কমে ৫ শতাংশ হওয়া ওষুধগুলির পরিবর্তিত রেট অমিল। তাই সেগুলি নতুন দামে বেচতে সমস্যাই হচ্ছে। যেমন ল্যাকটুলোজ জাতীয় একটি ওষুধের দামে পুরোনো ৫ শতাংশ জিএসটিই রয়েছে। ইনসুলিনে জিএসটি না কমাতেও আশ্চর্য অনেকে। হতাশ ইনসুলিননির্ভর রোগীরাও। 
শহরের একটি বড়ো ওষুধের দোকান গোষ্ঠীর কর্ণধার সোমনাথ ঘোষ বলেন, ওষুধে জিএসটির পরিবর্তন স্পষ্ট। কিন্তু ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) পণ্যগুলির (হাঁটুর তেল, মেডিকেটেড টুথপেস্ট, বিভিন্ন মেডিকেটেড পণ্যের) জিএসটি তালিকা এখনও পাইনি। আরও এক খুচরো দোকানদার জানান, বেশকিছু মেডিকেটেড সাবান, ময়েশ্চারাইজিং লোশনে জিএসটি ১৮ শতাংশই রয়ে গিয়েছে। আবার অনেকগুলির জিএসটি কমেছে। পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাইনি। বিভ্রান্তি আছে। এআইওসিডির সর্বভারতীয় সেক্রেটারি জেনারেল রাজীব সিংঘল বলেন, সফটওয়্যারের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। সংস্থাগুলির সঙ্গে কথা চলছে। ওষুধে জিএসটি কমলেও কিছু এনার্জি ড্রিঙ্কসে জিএসটি বেড়েছে।
তবে নিউটাউনের বাসিন্দা উত্তম সর্দার থেকে সল্টলেকের বাসিন্দা এস কে পাল—সকলেরই এক সুর, সরকারি প্রচার জরুরি। উত্তমবাবু বলেন, পরিবারের তিনজনের জন্য মাসে প্রায় ৬ হাজার টাকার ওষুধ লাগে। জানিই না কোন ওষুধের দাম কতটা কমল। উলটোডাঙার বাসিন্দা বাবুলাল সাহা বলেন, দোকানদারের কাছ থেকে নয়া জিএসটি বুঝব কেন? তিনি তো ভুল বোঝাতেও পারেন। সরকার আছে কী করতে? 
এই ভয়টা থেকেই যাচ্ছে। এদিনই অভিযোগ উঠেছে, বিল ছাড়া ওষুধ ক্রয়ে অভ্যস্ত ব্যক্তিদের জিএসটির সুবিধা দিচ্ছেন না বহু বিক্রেতা। কিছুদিন পর লোক ঠকানো বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন অনেকে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ