নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ২০২২ সালে জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু হলেও এখনও পর্যন্ত নিউরো, নেফ্রো ও কার্ডিওলজি বিভাগ নেই। মঙ্গলবার এনিয়ে বিধানসভার অধিবেশনে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন জলপাইগুড়ি সদরের বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী।
বিধানসভায় এদিন তিনি বলেন, জলপাইগুড়ি মেডিকেলের উপর শুধু সংশ্লিষ্ট জেলার বাসিন্দারা নন, পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষও নির্ভরশীল। কিন্তু নিউরো, নেফ্রো ও কার্ডিওলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ না থাকায় রোগীরা উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে তাঁদের শিলিগুড়ি কিংবা কলকাতায় সরকারি হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। নতুবা যেতে হচ্ছে কোনো নার্সিংহোমে।
বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর মাধ্যমে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিধায়ক বলেন, তৃণমূল সরকারের আমলে জলপাইগুড়ি মেডিকেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ ও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার বিষয়টি চরম উপেক্ষিত হয়েছে। বর্তমান সরকার যাতে এ ব্যাপারে নজর দেয়, এদিন সেই আবেদন জানাচ্ছি।
জলপাইগুড়ি মেডিকেলের মানোন্নয়নে বিধায়ক বিধানসভার অধিবেশনে দাবি তোলায় খুশি শহরের বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, তৃণমূল সরকারের আমলে জলপাইগুড়ি সদরের বিধায়ক ডাঃ প্রদীপকুমার বর্মা মেডিকেল কলেজের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু এখানে এমআরআই মেশিন পর্যন্ত আনতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে বর্তমান বিধায়কের ভূমিকার প্রশংসা করেছে জলপাইগুড়ি মেডিকেল কর্তৃপক্ষও। তাদের বক্তব্য, নিউরো, নেফ্রো ও কার্ডিওলজি বিভাগ চালুর জন্য আগের সরকারের আমলে একাধিকবার স্বাস্থ্যভবনে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু কিছুই হয়নি। এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ চালু হলে রোগীদের প্রভূত উপকার হবে।
মেডিকেলের এক চিকিৎসক বলেন, ডায়ালিসিস চলছে, এমন রোগীকে প্রতিমাসে একবার করে উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে গিয়ে লিখিয়ে আনতে হয়, তাঁর ডায়ালিসিস চালু থাকবে। জলপাইগুড়ি মেডিকেলে নেফ্রোলজি বিভাগের চিকিৎসক থাকলে কিডনি রোগীদের ফি-মাসে গাড়ি ভাড়া করে এজন্য শিলিগুড়িতে ছুটতে হত না। তাছাড়া জরুরি ভিত্তিতে রোগীর ডায়ালিসিস শুরু করা দরকার বুঝেও তা করা যায় না। কারণ এরজন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসককে দিয়ে প্রেসক্রিপশন লেখানো বাধ্যতামূলক। এখানে নেফ্রোলজি বিভাগ নেই, ফলে রোগীকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে পাঠানো ছাড়া কোনো উপায় থাকে না।
আরএক চিকিৎসকের দাবি, স্ট্রোকের রোগীর ক্ষেত্রে দায়িত্ব নিয়ে মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা দেখে দিচ্ছেন। তাতে রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কিন্তু মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক দিয়ে স্ট্রোকের রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে যদি অবস্থা খারাপ হয় কিংবা মৃত্যু হয় রোগীর, সেক্ষেত্রে তো প্রশ্ন উঠবে, কার্ডিওলজি কিংবা নিউরো বিভাগ না থাকা সত্ত্বেও হার্ট অ্যাটাক কিংবা ব্রেন স্ট্রোকের রোগীকে জলপাইগুড়ি মেডিকেলে রেখে দেওয়া হল কেন।