নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: এসআইএরের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি সারা। আজ থেকেই মুর্শিদাবাদ জেলার ৫৮৯৫টি বুথে নামছেন বিএলওরা। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে একটি করে ফর্ম দেবেন তাঁরা। ভোটাররা সেই ফর্ম জমা দেওয়ার সময় কোনও ডকুমেন্ট লাগবে না। কিন্তু ভোটারকে অবশ্যই সই করতে হবে। বিএলওরা সেই ফর্ম অ্যাপে আপলোড করবেন। বিএলও ভোটারকে ওই ফর্ম দিয়ে একটি ফরম্যাটে সই করিয়ে নেবেন। এরপর ফর্ম জমা নেওয়ার জন্য ভোটারের বাড়িতে বিএলও কমপক্ষে তিনবার যাবেন। যাতে কোনও ভোটারের ফর্ম বাদ না যায়।
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলায় এসআইআর নিয়ে প্রথম থেকেই একটা চাপা উত্তেজনা রয়েছে। নির্বিঘ্নে এসআইআর করতে পুলিশ ও প্রশাসন ভীষণভাবে তৎপর। জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ দফায় দফায় বৈঠক সেরেছে। বিএলওদের ট্রেনিং করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে কীভাবে তাঁরা কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেবেন। প্রতিটি বুথেই একজন করে বিএলও নিয়োগ করা হয়েছে। বুথ লেভেল অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ গাইডলাইন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এই গাইডলাইন অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করতে হবে তাঁদের। তাঁরা যখন বাড়িতে বাড়িতে যাবেন, তখন এই নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে।
জানা গিয়েছে, বর্তমান ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের কাছে এনুমারেশন ফর্ম পাঠানো হবে। ভোটারের দেখা না পেলে, বাড়ির লেটার বক্সে বা দরজার ফাঁকে ঢুকিয়ে দিয়ে আসতে হবে এনুমারেশন ফর্ম। প্রয়োজনে সেই ফর্ম ঢুকিয়ে দেওয়ার ভিডিও কিংবা ছবি তুলে রাখতে পারেন বিএলওরা। বিএলও নির্বাচন কমিশনের দেওয়ার মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ভোটারদের লিঙ্ক দেখে নিতে পারবেন। ভোটারের এপিক নম্বর দিয়ে এই তথ্য পাওয়া যাবে। বিহারের এসআইআরে এই সুযোগ ছিল না। এ রাজ্যে এই তথ্য পাওয়ার ফলে মুর্শিদাবাদের মতো পরিযায়ী শ্রমিকদের অধিক বসবাস করা জেলাতে বাড়তি সুবিধা মিলবে।
জানা গিয়েছে, প্রতিটি এনুমারেশন ফর্ম জমা নেওয়ার পর বিএলওকে স্বাক্ষর করতে হবে। যে ফর্মটি ভোটার তাঁর কাছে রেখে দেবেন। তবে বিএলও-কে একাধিকবার এনুমারেশন ফর্ম জমা নেওয়ার জন্য আবেদনকারীর বাড়িতে যেতে হবে। তবে আবেদনকারী মনে করলে সরাসরি ইআরও অফিসে গিয়ে ফর্ম জমা দিতে পারবেন। কোনও ভোটার বাইরে থাকলে, ৪ নভেম্বরের পর থেকে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ সিইও ওয়েরসাইটে গিয়ে তাঁর এনুমারেশন ফর্ম অনলাইনে পূরণ করতে পারবেন। এর ফলে বাড়তি সুবিধা পাবেন মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকরা। কোনও ব্যক্তি কাজের জন্য বাইরে থাকলে তাঁর হয়ে পরিবারের অন্য সদস্য স্বাক্ষর করে জমা দিতে পারবেন। তবে স্বাক্ষরকারীকে লিখে দিতে হবে, আবেদনকারীর নাম এবং তাঁর সঙ্গে সর্ম্পক। এনুমারেশন ফর্ম জমা দিলেই খসড়া ভোটার তালিকায় নাম উঠবে। জমা না দিলে ভোটার তালিকায় নাম ওঠার সুযোগ নেই। যাদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় কোনও লিঙ্ক পাওয়া যায়নি, তাদের ইআরও বা এইআরও শুনানিতে ডাকবেন। সাতদিন সময় দেওয়া হবে। শুনানিতে সব নথি নিয়ে হাজির হতে হবে। তারপর শুনানিতে বিবেচনা করে খসড়া তালিকা প্রকাশ হবে। সেখানে নাম উঠলে কিংবা কোনও ভুল থাকলে ভোটারদের দাবি ও আপত্তি শোনার জন্য ৫৪ দিন সময় থাকবে।
জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলায় ৫৮৯৫টি বুথে আমরা পর্যাপ্ত বিএলও পেয়েছি। কমিশনের দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার থেকেই কাজ শুরু হবে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এনুমারেশন ফর্ম ছাপানো হয়েছে।