বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: সেই কবে থেকে ইচ্ছা ‘বাংলা জয়’-এর! তার জন্য গত বিধানসভা নির্বাচনে কার্যত গোটা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাকে মাসখানেকের জন্য পশ্চিমবঙ্গে ‘পরিযায়ী’ করে দিয়েছিল বিজেপি। এবারও বাংলা-বাঙালির জন্য হঠাৎ করে দরদ উথলে উঠেছে ‘ভোটপাখি’ বিজেপির। কিন্তু, বাংলা ও বাংলা ভাষাকে অবহেলা ও কোণঠাসা করার ইচ্ছা যে তাদের বিন্দুমাত্র কমেনি, তার হাতেকলমে প্রমাণ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’। এটি পরিচালনা করে ‘ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি’। এর দুটি অংশ রয়েছে। একটি হল ‘হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টার’। অন্যটি ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (পিএম-জেএওয়াই)। দুই প্রকল্পই আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের আওতায় পড়ে। তার ওয়েবসাইট খুললেই চোখে পড়বে টোল ফ্রি নম্বর ১৪৪৭৭/১৮০০১১৪৪৭৭। বলা বাহুল্য, এসব প্রকল্প সম্পর্কিত যে কোনও তথ্য জানার জন্যই দেওয়া হয়েছে এই নম্বর দুটি। সেখানে কথা বলতে গেলে ভাষার অপশনে হিন্দি, ইংরেজি, তামিল, তেলেগু, কন্নড়, মালায়লাম—এই ছ’টি ভাষা থাকলেও নেই বাংলা।
আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের একটি অন্যতম অংশ হল দেশের চিকিৎসক (অ্যালোপ্যাথিক এবং আয়ুষ) এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের (নার্স) নাম নথিভুক্তকরণ (হেলথকেয়ার প্রফেশনালস রেজিস্ট্রি)। একইভাবে হাসপাতালগুলির নাম নথিভুক্তির জন্য রয়েছে হেলথ ফেসিলিটি রেজিস্ট্রেশন। দুই ক্ষেত্রেই নথিভুক্তির কোনও সমস্যা হলে টোল ফ্রি নম্বর দেওয়া আছে। কিন্তু এখানেও সেই একই ব্যাপার! কথা বলার ভাষা হিসেবে বাংলা বেছে নেওয়ার কোনও ‘অপশন’ নেই।
নিন্দুকরা বলছেন, বিজেপির কেবল যেন তেন প্রকারেণ ক্ষমতা দখলের লিপ্সাই সম্বল। বাংলা ভাষা এবং বাঙালি জাতিকে জানার ইচ্ছাও নেই। সম্মান দেওয়ার অভিপ্রায়ও নেই। আয়ুষ্মান ভারত বিমা প্রকল্প গ্রহণ না করার জন্য বারবার রাজ্যকে ঠেস দিতেই তারা সিদ্ধহস্ত। বাঙালিকে আপন করে নেওয়ার কোনও চেষ্টাই দেখা যায় না!
আয়ুষ্মান ভারতে এই ভাষাগত পক্ষপাতের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদও উঠে এসেছে বাংলা থেকে। রাজ্যের এক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ৯ নভেম্বর গোটা বিষয়টি নিয়ে আয়ুষ্মান ভারত কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘টোল ফ্রি নম্বরে বাংলা ভাষায় কথা বলার অপশন নেই। বাংলা টেলিকলারও নেই। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বাংলা পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম কথা বলার ভাষা। আয়ুষ্মান ভারত কর্তৃপক্ষের এই কাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাংলাভাষী মানুষ অসম্মানিত বোধ করছেন। অবিলম্বে এর সুরাহা হোক, যাতে দেশের প্রতিটি আঞ্চলিক ভাষার মানুষের প্রতি সমান সম্মান দেখানো হয়।’ এরপরই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে আয়ুষ্মান ভারত কর্তৃপক্ষ ওই চিকিৎসককে জানায়, টোল ফ্রি নম্বরে শীঘ্রই বাংলা ভাষাকেও কথা বলার ভাষা হিসেবে যুক্ত করা হবে।