Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ক্রীড়াক্ষেত্রে স্বজনপোষণ নেই, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তীব্র বিতর্ক

পোশাকি নাম ‘সংসদ খেল মহোৎসব।’ দেশের তরুণ প্রজন্মের ক্রীড়াসচেতনতা বাড়ানোই লক্ষ্য।

ক্রীড়াক্ষেত্রে স্বজনপোষণ নেই, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তীব্র বিতর্ক
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: পোশাকি নাম ‘সংসদ খেল মহোৎসব।’ দেশের তরুণ প্রজন্মের ক্রীড়াসচেতনতা বাড়ানোই লক্ষ্য। এমন মঞ্চে কী বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি! বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে তাঁর মন্তব্য, ‘দেশের প্রত্যন্ত এলাকার গরীব পরিবারের সন্তানরাও উত্তরণের স্বপ্ন দেখছে। প্রতিভার সঙ্গে কঠোর পরশ্রেমেই সাফল্য ধরা দেবে। যাবতীয় স্বজনপোষণ ২০১৪ সালের পর বন্ধ।’ এরপর তাঁর সংযোজন, ‘ক্রীড়াক্ষেত্রে বরাদ্দ বেড়েছে অনেকটাই। স্পেশাল স্কিমে ২৫ হাজারের পরিবর্তে দ্বিগুণ সহায়তা পাচ্ছেন অ্যাথলিটরা। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে অ্যাথলিটদের পারফরম্যান্সের উন্নতিও হাতেনাতে প্রমাণিত।’ এরপরেই শুরু বিতর্ক। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, খেল মহোৎসব আসলে আত্মপ্রচারের মঞ্চ। ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে সাফল্যের বেলুন আকাশে ওড়ানোর চেষ্টা। পাল্টা যুক্তির পিন ফোটালে বেলুন চুপসে যেতে কতক্ষণ!

Advertisement


ক্রীড়াক্ষেত্রে গৈরিকীকরণের অভিযোগ নতুন নয়। অযোগ্য ব্যক্তিকে প্রশাসনের মাথায় রাখার সিদ্ধান্ত কত বড় ভুল তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ভারতীয় ফুটবল। সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার নির্বাচনে বিজেপির আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে চেয়ারে বসেন প্রাক্তন ফুটবলার কল্যাণ চৌবে। উল্টোদিকে বাইচুং ভুটিয়ার মতো কিংবদন্তি প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও কল্কে পাননি। নির্বাচনে মাত্র ১টি ভোট পান বাইচুং। দিল্লির ফুটবল হাউসে কান পাতলেই শোনা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়েই কল্যাণের কিস্তিমাত। তাতে ভারতীয় ফুটবলের কোনও কল্যাণ হয়নি। বর্তমানে দেশের শীর্ষ লিগ বন্ধ। সভাপতির উপর চরম বিরক্ত ক্লাব ও ফ্র্যাঞ্চাইজি। ফেডারেশন নির্বিকার। বরাবরই চেয়ার ধরে রাখাই সভাপতির নজর। দেশের ফুটবল নিয়ে একবিন্দু ভাবিত নন তিনি। জাতীয় দলের র‌্যাঙ্কিং ১৪২। মিউজিক্যাল চেয়ারের মতো কোচ বদলেও লাভের খাতা শূন্য। আসলে অনুগত মোসাহেবের দল ঘিরে থাকেন সভাপতিকে। স্তাবক পরিবৃত হয়ে ফুটবলকে শেষ করার অভিযোগ উঠছে তাঁর বিরুদ্ধে। অনেকেই মনে করেন, প্রাক্তন গোলরক্ষকের কাণ্ডকারখানায় গেরুয়া শিবিরের ইমেজে কালি পড়ছে। ফুটবল বাঁচাতে হলে সত্বর তাঁকে সরাতে হবে।


জনপ্রিয়তম ক্রিকেটেও ভুরি ভুরি অভিযোগ। কোচ গৌতম গম্ভীর বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ। জাতীয় দলের কোচ হয়ে তারই পুরস্কার পান গৌতি। তাঁর অধীনে টেস্টে ঘরের মাঠে জোড়া হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবেছে দল। প্রাক্তনরা ক্ষুব্ধ। স্ট্র্যাটেজির নেই কোনও যুক্তি। তবু বহাল তবিয়তে টিকে যাচ্ছেন গম্ভীর। অন্য কেউ হলে? এতদিনে ছাঁটাই হয়ে বাড়িতে বসে কেক খেতেন। এখানেই শেষ নয়। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ’র ভূমিকা নিয়েও অনেক প্রশ্ন। তাঁর যোগ্যতা নিয়ে আড়ালে আবডালে রসিকতা হয় প্রচুর। কিন্তু অমিত শাহর পুত্রকে চটায় সাধ্য কার? আইপিএল হোক বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, বড় ম্যাচের অটোমেটিক চয়েস আমেদাবাদ। কার অঙ্গুলিহেলনে এমনটা ঘটছে বুঝতে অসুবিধা হয় না।
কুস্তির ব্রিজভূষণের ক্ষেত্রে অভিযোগ তো আরও গুরুতর— ধর্ষণের। তবুও তাঁর রাজ থামেনি। রাগে, ক্ষোভে, দুঃখে ওলিম্পিকসে দেশের তারকা কুস্তিগীররা গঙ্গায় পদক বিসর্জনের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। আসলে প্রতিটি সংস্থায় ব্রিজভূষণের মতো অযোগ্য এবং দুর্নীতিগ্রস্তরাই ছড়িয়ে। বিষবৃক্ষ উৎপাটন না করলে ধ্বংস হবে গোটা সিস্টেম। অসার প্রমাণিত হবে প্রধানমন্ত্রীর গালভরা কথা। ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করবে ভারত। এমনকী ২০৩৬ সালের ওলিম্পিকস আয়োজনের দৌড়েও শামিল ভারতীয় ওলিম্পিক সংস্থা। নির্লজ্জ গৈরিকিকরণ চললে যাবতীয় সুনাম যমুনার জলে তলিয়ে যাওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ