নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: নাগরিক মহল্লার শৌচবর্জ্যকে প্রক্রিয়াকরণ করে সার তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিল পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। তবে গ্রামীণ হুগলিতে প্রয়োজনীয় জমির অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে প্রকল্প রূপায়ণ নিয়ে তৈরি হয়েছে সংকট। হুগলি জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রতিটি ব্লকে একটি করে কারখানা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে কার্যকর করা গিয়েছে মাত্র দু’টি। আরামবাগে একটি কারখানা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। আর সিঙ্গুরে একটি কারখানা তৈরির কাজ চলছে। উল্টোদিকে জেলার ১৮ ব্লকের ১৬টিতেই জমির অভাবে কাজে হাত দেওয়া যায়নি। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে আগামী দু’মাসে কাজ কতটা অগ্রসর হবে তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
এই ঘটনায় হুগলি জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য স্থায়ী সমিতিতে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। কারণ পরিবেশ রক্ষা থেকে নির্মল গ্রামের তকমা ধরে রাখা সহ একাধিক কারণে এই প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছিল। সঙ্গে মানুষের সুবিধার বিষয়টিও ছিল। কিন্তু কেবলমাত্র জমির অভাবে কাজ সম্ভব হচ্ছে না। হুগলি জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ দেবীপ্রসাদ রক্ষিত বলেন, প্রকল্পের জন্য জনবসতির বাইরের অংশের জমি প্রয়োজন। কিন্তু হুগলিতে ব্লকভিত্তিক সেই সুবিধা মিলছে না। সেই কারণে প্রকল্প রূপায়ণে বড়ো সমস্যা তৈরি হয়েছে। সার্বিক নাগরিক স্বার্থে প্রকল্প রূপায়ণ প্রয়োজন। কিন্ত জমি সমস্যা মেটানো যাচ্ছে না। একটি প্রকল্প শেষ হয়ে গিয়ছে অন্যটির কাজ অর্ধেক হয়েছে। এই পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট ঠিক কতটা জমি সমস্যা বিপাকে ফেলেছে আমাদের। যদিও চেষ্টা চলছে। জেলা পরিষদ থেকে ব্লক প্রশাসন, সবমহল মিলে চেষ্টা চালাচ্ছে।রাজ্যে মুক্ত শৌচ বন্ধে প্রয়াস শুরু হয়েছিল। নির্মল গ্রাম বা নির্মল বাংলা প্রকল্পের সঙ্গেই সেই উদ্যোগ চলছিল। তাতে সাফল্যও মেলে। হুগলিকেও নির্মল জেলা ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সূত্র ধরেই মানব শৌচবর্জ্য বিকল্প উপায়ে কাজে লাগানোর চেষ্টা হয়। তখনই জেলায় ব্লকভিত্তিক মানব শৌচবর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ করে সার তৈরির কারখানা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, হুগলিতে পরিকল্পনাহীন বসতি বৃদ্ধি চলছে। যদিও জমি সংকট নতুন কিছু নয়। শিল্প, কৃষি ও আবাসন প্রকল্প ছাড়া অন্য কোনো কাজের জমি পাওয়া কার্যত কঠিন হয়ে উঠছে। এর আগে হুগলিতে অঙ্গনওয়াড়ি, এসএসকে-এমএসকে বা হাসপাতাল তৈরির জন্যেও জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে বারবার জটিলতা দেখা দিয়েছে।