Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রতিমার দর কমানো নিয়ে বিবাদ নেই, মিলছে বাড়তি বরাতও, হুগলির কুমোরপাড়া সরগরম

বহু বছর পরে হুগলির কুমোরটুলিতে খুশির হাওয়া। বহু বছর পরে এবার ‘যা চাই’ দাম মিলছে প্রতিমার। অন্তত এমনটাই বলছে হুগলির একাধিক কুমোরপাড়া।

প্রতিমার দর কমানো নিয়ে বিবাদ নেই, মিলছে  বাড়তি বরাতও, হুগলির কুমোরপাড়া সরগরম
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বহু বছর পরে হুগলির কুমোরটুলিতে খুশির হাওয়া। বহু বছর পরে এবার ‘যা চাই’ দাম মিলছে প্রতিমার। অন্তত এমনটাই বলছে হুগলির একাধিক কুমোরপাড়া। প্রতিমা নিয়ে এবার পুজো উদ্যোক্তারা বিশেষ দরদাম করছেন না। তাতেই প্রতিমা শিল্পীদের মুখের হাসি চওড়া হয়েছে। প্রতিমা শিল্পীদের দাবি, এবার পুজো উদ্যোক্তারা অনেকটাই দরাজ। বড় তো বটেই ছোট পুজোর উদ্যোক্তারাও প্রতিমার দাম কমানো নিয়ে ঝুলোঝুলি করছেন না। আবার, এবার প্রতিমার সংখ্যাও বেড়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, রাজ্য সরকার এবার পুজো অনুদানের টাকা একলপ্তে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘুরিয়ে তার সুফল মিলছে কুমোরপাড়ার শিল্পীদের। পুজো মরশুমের প্রাক্কালে সরগরম হয়ে উঠেছে হুগলির প্রতিমা শিল্পী মহল্লা।

Advertisement

হুগলির অন্যতম খ্যাতনামা কুমোরপাড়া চন্দননগরের ডুপ্লেক্সপট্টি। সেখানকার প্রতিমা শিল্পী জগন্নাথ পাল বলেন, গত কয়েকবছর প্রতিমা দাম কমানো নিয়ে ব্যাপক ঝুলোঝুলি হয়েছে। বাধ্যতামূলক অনেকগুলি পুজো উদ্যোক্তাকে ফিরিয়েও দিতে হয়েছে। এমনিতেই প্রতিমা তৈরিতে বিশেষ লাভ থাকে না। তারপরে দাম কমালে পরিশ্রমই মাটি হয়ে যাবে। কিন্তু এবার উলটপুরাণ চলছে। কোনও পুজো উদ্যোক্তাদের দাম কমানোর কথা বলছেনই না। এমনও হয়েছে যে, যা দর চাওয়া হয়েছে তাতেই বরাত দিয়ে দিয়েছে। তাতে দু’টো পয়সার মুখ দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেইসঙ্গে গতবারের তুলনায় বরাতও বেড়েছে। চন্দনগরের পাশাপাশি, চুঁচুড়াতেও একাধিক কুমোরপাড়া আছে। সেখানেও তত্ত্বতালাশ করে দেখা গিয়েছে, বরাত বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিমার দাম কমানোর দাবির কথাও সেভাবে উদ্যোক্তারা তোলেননি। ফলে, চুঁচুড়ার কুমোরপাড়াতেও খুশির হাওয়া বইছে। 
চুঁচুড়ার সংস্কৃতি কর্মী সৌমিত্র সিংহ বলেন, রাজ্য সরকার এবার পুজো অনুদানের টাকা অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। তাতেই হয়তো প্রতিমা শিল্পীদের ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে। গোটা বিষয়টি পুজো মরশুমের অর্থনীতির দিক থেকেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক অসীমা পাত্র বলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী দূরদর্শী। সেই কারণেই দুর্গাপুজো ক্ষেত্রে অনুদান এবং বছরে বছরে সেই টাকার পরিমাণ তিনি বাড়িয়েছেন। স্থানীয় অর্থনীতির পালাবদল সার্বিকভাবে সামাজিক ক্ষেত্রে সুফল দেয়। নিম্ন আয়ের বা মরশুমি আয়ের মানুষদের হাতে বাড়তি পয়সা আছে। সেই ঘটনাই পুজোকে কেন্দ্র করে ঘটছে।
পুজো মরশুমের উল্লেখযোগ্য উপাদান প্রতিমা। সামাজিক পালাবদলের কারণে প্রতিমা শিল্পী মহল্লায় নতুন প্রজন্মের শিল্পী প্রায় তৈরিই হচ্ছে না। এই অবস্থায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে প্রতিমা শিল্প সঙ্কটে পড়েছিল। করোনা পরবর্তী পর্বে পুজো মরশুমেও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে হুগলির মতো ছোট এলাকার প্রতিমা শিল্পীদের। পুজো উদ্যোক্তাদের বাজেট কাটছাঁটের কারণে সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাঁদের। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। দরদাম নিয়ে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বিবাদেই যেতে হচ্ছে না। দামের সঙ্গে বেড়েছে প্রতিমার বাড়তি বরাতও। তাতেই গঙ্গাপাড়ের কুমোরপাড়া সরগরম হয়ে উঠেছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ