নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ২৭ মে উত্তর বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে চলেছে। তবে সেটি শক্তি বৃদ্ধি করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে না বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। নিম্নচাপটি কতটা শক্তি বাড়াবে, তা নিয়ে অবশ্য পূর্বাভাস দেওয়ার বিভিন্ন মডেলের মতপার্থক্য আছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়েছে, নিম্নচাপটির শক্তি খুব বাড়বে বলে মনে করছে না দু’টি মডেল। একটি মডেল গভীর নিম্নচাপ বা তার থেকে শক্তিশালী ‘সিস্টেম’ তৈরি হতে পারে বলে দাবি করেছে। তবে কোনও মডেলই বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আশঙ্কার কথা বলেনি। আবহাওয়া দপ্তর আপাতত জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে চলা নিম্নচাপের প্রভাবে ২৮ ও ২৯ মে দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হুগলি জেলার কোনও কোনও জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সামগ্রিকভাবে দক্ষিণবঙ্গে হাল্কা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।
বঙ্গোপসাগরে যে নিম্নচাপটি তৈরি হতে চলেছে, সেটির গতিপ্রকৃতির উপর আবহাওয়া দপ্তর বিশেষ নজর রাখবে। পরিস্থিতি যাচাই করে নিয়মিত এলাকাভিত্তিক পূর্বাভাস দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা। নিম্নচাপটি বঙ্গোপসাগরের কোন জায়গায় অবস্থান করবে, তার উপর বৃষ্টির মাত্রা অনেকটাই নির্ভর করবে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বিষয়টি আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে। বঙ্গোপসাগরে এই নিম্নচাপ দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার আগমন ত্বরান্বিত করতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে তাও নির্ভর করছে নিম্নচাপটির অবস্থানের উপর। দিন দু’য়েকের মধ্যে কেরল ও উত্তর-পূর্ব ভারতে বর্ষা ঢুকে পড়বে বলে মনে করছে আবহাওয়া দপ্তর। ওই সময়ের মধ্যে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বর্ষা ঢুকে পড়বে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ইতিমধ্যে রাজ্যে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে সব জেলাতেই কম-বেশি বৃষ্টি চলবে। এই সময়কালে আরব সাগরে একটি গভীর নিম্নচাপ তৈরি হলেও তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।